লিটন-মাহমুদউল্লাহ-নাইমদের চোটের অবস্থা জানালেন বিসিবি চিকিৎসক

জুলিয়ান ক্যালেফাতো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ লিটন দাস নাইম হাসান

সম্প্রতি ভারত সফরে মাঠের ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স হয়েছে যাচ্ছেতাই। সাথে বেশ বড়সড় শঙ্কা হয়ে এসেছে ক্রিকেটারদের চোট। চোটে পড়ার তালিকাটা যে বেশ দীর্ঘই বলতে হয়। তাই আজ (২৬ নভেম্বর) ক্রিকেটারদের চোটের সবশেষ পরিস্থিতি জানাতে বিসিবির প্রধান চিকিৎসককে সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলতে হয়েছে লম্বা সময়ই।

পিঠের চোটে ভারত সফরের আগেই দুই মাসের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে যান পেস বোলিং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন, মিস করছেন আসন্ন বিপিএলও। এরপর ভারত সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে দেশে ফিরে ইমার্জিং এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই ডান হাতে চোট পান লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। বল করা হাতে করতে হয় সেলাই, ইমার্জিং এশিয়া কাপ ওখানেই শেষ বিপ্লবের।

ইনদোর টেস্টে বদলি হিসেবে নেমে চেতেশ্বর পুজারার ক্যাচ ধরেই আঙুলে চোট পান অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা সাইফ হাসান। কোলকাতা টেস্টে অভিষেকের জোর সম্ভাবনা থাকলেও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় যান ছিটকে। এরপর ইডেন গার্ডেন্সে ইশান্ত, শামি, যাদবদের বাউন্সারে লিটন দাস, নাইম হাসানকে তো যেতে হয় হাসপাতালেও। দলকে নিতে হয় কনকাশন বদলীও, রান নিতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং চালিয়ে যেতে পারেননি মাহমুদউল্লাহও।

তাই আজ (২৬ নভেম্বর) মিরপুরে সাংবাদিকরা বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরীর কাছে জানতে চান সবার সবশেষ পরিস্থিতিই। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাপারে জানাতে গিয়ে দেবাশীষ বলেন, ‘মাহমুদউল্লাহর ইনজুরিটা হচ্ছে গ্রেড ওয়ান হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি। সে গতকাল স্ক্যান করিয়েছে আমরা এখনও রিপোর্ট হাতে পাইনি। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে খুব অল্প মাত্রার হ্যামস্ট্রিং হলেও আমরা ৭ দিনের বিশ্রাম বেঁধে দিই। রেস্ট নেয়ার জন্য রিহ্যাব করার জন্য। ফিট না হয়ে খেলায় ফিরলে আবার ইনজুরিতে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।’

‘একই ইনজুরি ওই জায়গাতে হলে সারতে সময় নেয়। আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে ওর দ্বিতীয় ইনজুরিটা আটকানো। কারণ একই জায়গায় দ্বিতীয়বার চোট পেলে ফিরতে দিগুন সময় লাগতে পারে। এতে এক মাসের মতো সময় লেগে যায়। আর তৃতীয় বার লাগলে খেলোয়াড়ের ওই মৌসুম মিস করার একটা সম্ভাবনা থাকে। এক্ষেত্রে আমাদের প্রথম এবং প্রধান কাজ হচ্ছে ইনজুরিটা যেন দ্বিতীয়বার না হয় সেটার ব্যবস্থা করা।’

ইডেন টেস্টে চোট পাওয়া লিটন-নাইমকে নিয়ে বলতে গিয়ে দেবাশীষ চৌধুরী জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ওরা মাথায় চোট পাওয়ার পর সেখানেই (কোলকাতায়) দেখেছে। পরের সেখানকার স্থানীয় হাসপাতালে স্ক্যান করানো হয় দুজনকে। স্ক্যানের রিপোর্টে কোন ব্লিডিং বা খারাপ কিছু পাওয়া যায়নি। ধরে নিচ্ছি ওদের কনকাশনটা তেমন মারাত্মক নয়। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী প্রথম দুই দিন ওদের সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।’

‘আইসিসির কিছু গাইডলাইন আছে মাথায় চোট পাওয়ার বিষয়ে। আঘাত লাগার দুই দিন পর ওরা স্বাভাবিকরূপে শারীরিকভাবে কাজ শুরু করতে পারে। এখন পর্যন্ত রিপোর্ট দেখে বলতে পারছি যে ওরা আশঙ্কামুক্ত। পরবর্তীতে ওরা দেশে ফিরলে আমরা আবার ওদের রিভিউ করব। তবে সকলের সহযোগিতায় এতটুক বলতে পারি যে ওরা শঙ্কামুক্ত আছে।’

আসন্ন এসএ গেমসে লেগ স্পিনার বিপ্লবের যাওয়া হচ্ছেনা নিশ্চিত করে বিসিবির প্রধান চিকিৎসক বলেন, ‘এসএ গেমসের জন্য দল শীঘ্রই যাচ্ছে। সেখানে ইনজুরির কিছু সমস্যা আছে। বিপ্লব এবং শফিকুলকে সেখানে যেতে দেয়া হচ্ছে না। ওদের চোট এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেনি।`

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

ব্যস্ততার কারণে মাশরাফির ট্রিটমেন্টই হচ্ছে না!

Read Next

ওয়ালটন কারখানায় মাশরাফির একদিন

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
12
Share