ব্যর্থ বাংলাদেশের উন্নতিতে কোহলির যত কথা

ভিরাট কোহলি

তার নেতৃত্বেই প্রতিপক্ষকে সিরিজের দুই টেস্টেই ভারত হারিয়েছে ইনিংস ব্যবধানে। ইডেন টেস্টতো মাঠে গড়ায়নি আড়াই দিনও। আজ (২৪ নভেম্বর) প্রথম সেশনের এক ঘন্টাও টিকেনি বাংলাদেশ। গোলাপি বলের টেস্টে বিবর্ণ বাংলাদেশের হয়ে মাইক্রোফোনে যুক্তি খন্ডালেন ভারত কাপ্তান ভিরাট কোহলি।

মাঠের ক্রিকেটে নিজেকে সময়ের অন্য ক্রিকেটারদের থেকে যোজন দূরত্বে নিয়ে যাওয়া কোহলি মাঠের বাইরেও দুর্দান্ত ব্যক্তিত্বের অধিকারী। ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করা বাংলাদেশকে সংবাদ সম্মেলনে রাখলেন আগলে, দিলেন টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের শক্তিশালী করার টোটকাও। শুধু ক্রিকেটার নয় বোর্ডকেও টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরিতে ভাবতে হবে মনে করেন কোহলি।

এ প্রসঙ্গে কোহলি বলেন, ‘আমি মনে করি, ক্রিকেটারদের ভূমিকা শুধুমাত্র একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত। আপনার ক্রিকেট বোর্ড এটা কিভাবে সামলাচ্ছে, সেটার একটা ভূমিকা থাকে। যদি দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে তাকাই, সেখানে কয়েক বছর ধরেই একটা ইস্যু চলছে। আমি জানিনা টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে বাংলাদেশ বোর্ড কিভাবে আলোচনা করে, কিভাবে এটাকে তুলে ধরা হয় কিংবা গুরুত্ব দেওয়া হয়।’

দিন কয়েক আগেই জানিয়েছেন টেস্টে ক্রিকেটারদের নিবেদন পুরোপুরি পেতে আর্থিক নিরাপত্তা জরুরি। আড়াই দিনের কম সময়ে শেষ হওয়া ইডেন টেস্টের সংবাদ সম্মেলনে আবারও ঈঙ্গিত দিলেন সেদিকেই, ‘শেষ পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে শক্তিমত্তার দিকটা অর্থনৈতিক কাঠামোর উপর নির্ভর করে।’

‘যদি টেস্ট ক্রিকেটারদেরকে ভালো একটা আর্থিক নিশ্চয়তা না দেওয়া হয়, তাহলে কিছুদিন পরেই তাদের অনুপ্রেরণার জায়গাটা কমে যাবে। কারণ কিছু ক্রিকেটার আছে যারা ২০ ওভারের খেলায় চার ওভার বোলিং করে আরেক জনের চেয়ে দশ গুণ বেশি অর্থ উপার্জন করছে।’

কেন্দ্রীয় চুক্তি কাঠামো বদলের মাধ্যমেও টেস্ট ক্রিকেটকে ক্রিকেটারদের কাছে আকর্ষণীয় করা যায় মত ভারতীয় কাপ্তানের, ‘দিন শেষে, এটা আপনার জীবিকা। তাই ৫-৬ বছর পর আপনি আর চালিয়ে যাবার যুক্তি খুঁজতে যাবেন না। আপনি তখন কেবল টি-টোয়েন্টি খেলার কথা বলে দেবেন।’

‘আমি মনে করি, এই ব্যাপারটা আপনার কেন্দ্রীয় চুক্তি দিয়েই সমাধান করা যায়। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ডের মতো দলগুলো অনেক বছর ধরে শক্তিশালী, কারণ তাদের চুক্তির কাঠামোর ভিত্তি হচ্ছে টেস্ট, বাকিগুলো আসে তার পর।’

আবেগ দিয়ে ক্রিকেটে পুরো নিবেদন আদায় সম্ভব নয় উল্লেখ করে কোহলি যোগ করেন, ‘আপনি যদি আবেগ দিয়ে খেলতে বলেন এবং আর্থিক দিকটা এড়িয়ে যান, তাহলে কাজটা একজন পেশাদার ক্রিকেটারের জন্য কঠিন । কারণ একজন ক্রিকেটারের জন্য অন্য কোনো পেশার খোঁজ করা কঠিন। হয়তো সে কাজই পাবে না, কারণ সে শুধু ক্রিকেটটাই খেলতে পারে।’

এদিকে সাকিব-তামিম বিহীন বাংলাদেশের এমন বাজে পারফরম্যান্সকে কোহলি বিশ্লেষণ করেছেন সুনিপুনভাবে, ‘দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুজন ক্রিকেটার ছাড়াই তারা খেলেছে। সাকিব,তামিম ছিলনা। মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ আছে। কিন্তু শুধু দুজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার দিয়ে আপনি একটা দলের কাছ থেকে খুব বেশি কিছু আশা করতে পারেন না। বাকিরা তরুণ, তারা এখান থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। আমি যেটা বললাম, যত বেশি টেস্ট খেলবে তত বেশি অভিজ্ঞ হবে।’

‘আপনি যদি এখন দুটো টেস্ট খেলেন এবং এরপর আবার দেড় বছর পর টেস্ট খেলতে নামেন তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন না চাপের পরিস্থিতিতে কিভাবে খেলতে হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে, যোগ্য বলেই খেলছে। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি বোঝা বা কি করে আরও ভালো করতে হয় সেটা বোঝা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যেটা আমি বললাম, বোর্ড ও খেলোয়াড়দেরকে অনুধাবন করতে হবে তাদের কাছে এটার গুরুত্ব কেমন।’

 

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

জয় দিয়ে শেষ হল বাংলা টাইগার্সের টি-১০ লিগ

Read Next

কোহলিদের উইকেট নেওয়া এবাদত বিপিএলে দল পেলেন

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
55
Share