ফাইনালে আবারও বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ, পাকিস্তানের শিরোপা জয়

pak 1

আরও একটি ফাইনাল আর আরও একবার বাংলাদেশের শিরোপা বঞ্চিত হওয়া। মিরপুরে ইমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৭৭ রানে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে সৌম্য-শান্তদের।

রোহাইল নাজিরের ক্যাচ মিসের মাশুল গুনে শিরোপা জিততে ৩০২ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সৌম্য সরকারের সাথে অন্যদের ব্যর্থতায় ২২৪ রানেই থামতে হয় টাইগারদের। ৪১ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশ কিছুটা স্বপ্ন দেখে শান্ত-রাব্বির ৫১ রানের জুটিতে। ৩১ বলে ২২ রান করে ফিরেন ইয়াসির আলি রাব্বি, এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অধিনায়ক শান্তও।

৫৩ বলে ৫ চারে ৪৬ রান করে শান্ত আউট হলে আবারও বিপর্যয়ে বাংলাদেশ। ১৪২ রানেই হারায় ৫ উইকেট, মিডল অর্ডারের আফিফ হোসেন ও মেহেদী হাসান চল্লিশোর্ধ্ব দুটি ইনিংসে কেবল হারের ব্যবধানই কমাতে পারেন। ৪ চার ও ১ ছক্কায় আফিফের ব্যাট থেকে আসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪৯ রান অন্যদিকে ২ চার ৩ ছক্কায় ৪২ রান করেন মেহেদী হাসান।

৪৩.৩ ওভারে বাংলাদেশ করতে পারেনি ২২৪ রানের বেশি। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ তিনতি উইকেট নেন পেসার মোহাম্মদ হাসনাইন। দুটি করে শিকার খুশদিল শাহ, সাইফ বাদরে। একটি করে উইকেট ভাগাভাগি করেন শামীন গুল, আম্মাদ বাট ও উমর খান।

শীতের সকালে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় বাংলাদেশ কাপ্তান নাজমুল হোসেন শান্ত। আগে ব্যাট করা পাকিস্তান রোহাইল নাজিরের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে সৌম্য-শান্তদের জন্য কঠিন লক্ষ্যই ছুঁড়ে দেয়। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত বোলিং করা বাংলাদেশ পেসার সুমন খান শুরুতেই এনে দেন সাফল্য। ৪২ রানে ২ উইকেট হারানো পাকিস্তান অবশ্য এরপর শাসন করে গেছে বাংলাদেশের বোলারদের।

দুই ওপেনার ওমর বিন ইউসুফ (৪) ও হায়দার আলি (২৬) ব্যর্থ হলেও দলকে নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে যান রোহাইল নাজির ও ইমরান রফিক। দুজনে জুটিতে যোগ করেন ১১৬ রান, ইমরান রফিককে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে জুটি ভাঙেন অফ স্পিনার মেহেদী হাসান। ৮৮ বলে ৪ চার ২ ছক্কায় ৬২ রান করেন রফিক। তার বিদায়ের পরও অবশ্য খুব একটা সমস্যায় পড়েনি পাকিস্তান ইমার্জিং দল। অধিনায়ক সাউদ শাকিলকে নিয়ে বড় সংগ্রহের পথেই হাঁটেন রোহাইল নাজির।

ব্যক্তিগত ২৪ রানে ইয়াসির আলি রাব্বির হাতে জীবন পাওয়া রোহাইল আউট হন সেঞ্চুরি তুলে। সেঞ্চুরিতে পৌঁছানোর পথে ৮৫ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক সাউদ শাকিলকে নিয়ে। ১০৫ বলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছানো রহাইল ১১১ বলে ১২ চার ৩ ছক্কায় ১১৩ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে হাসান মাহমুদের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। রোহাইল নাজিরের গড়ে দেওয়া ভিতকে বর সংগ্রহে রুপান্তরিত করার কাজটা ভালোভাবেই করেন সাউদ শাকিল।

শেষ পর্যন্ত সাউদ শাকিলের ৪০ বলে ৪২ রানের সাথে খুশদিল শাহের ১৬ বলে ২৭ রান ও আম্মাদ বাটের ৭ বলে ১৫ রানে ৬ উইকেটে ৩০১ রানে থামে পাকিস্তান। ৭৫ রান খরচায় বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন সুমন খান, হাসান মাহমুদের শিকার দুটি ও মেহেদী হাসানের একটি। ৭৬ রান দিয়ে উইকেট শূন্য থাকেন সৌম্য সরকার।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ 

পাকিস্তান ইমার্জিং ৩০১/৬ (৫০ ওভার) ইউসুফ ৪, হায়দার ২৬, রোহাইল ১১৩, রফিক ৬২, সাউদ শাকিল ৪২, খুশদিল ২৭, আম্মাদ বাট ১৫*, সাইফ বাদর ০*; হাসান মাহমুদ৫২/২, সুমন খান ৭৫/৩, মেহেদী হাসান ৩৯/১, সৌম্য সরকার৭৬/০, তানভীর ইসলাম৪৩/০ , আফিফ হোসেন ১৫/০।

বাংলাদেশ ইমার্জিং ২২৪/১০ (৪৩.৩ ওভার) নাইম শেখ ১৬, সৌম্য ১৫, শান্ত ৪৬, রাব্বি ২২, আফিফ ৪৯, জাকির ৯, অঙ্কন ৫, মেহেদী ৪২, সুমন ৩, হাসান মাহমুদ ৮, তানভীর ৫*; শামীন গুল ৪৩/১, হাসনাইন ৩২/৩, আম্মাদ ২৯/১, উমর ৫২/১, খুশদিল ৩৯/২, সাইফ ২৭/২

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ওয়ার্নারের পর লাবুশানের কাছে ইনিংস হারের শঙ্কায় পাকিস্তান

Read Next

ফাইনাল হেরেও ব্যর্থ কিংবা হতাশ নন শান্ত

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
9
Share