সৌম্য-শান্তের ব্যাটে ইমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

মোহাম্মদ নাইম শেখ সৌম্য সরকার

আবারও ব্যাট হাতে মিরপুরে দাপট দেখালেন সৌম্য-শান্ত, দুজনের জোড়া ফিফটিতে ইমার্জিং এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে আফগানিস্তানকে সহজেই হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের দেওয়া ২২৯ রানের লক্ষ্য ৭ উইকেট ও ৬১ বল হাতে রেখেই টপকে যায় বাংলাদেশ। ২৩ নভেম্বর ফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দলীয় ২৬ রানেই বিদায় নেন বাংলাদেশ ওপেনার নাইম শেখ (১৭)। নাইম শেখ বিদায় নিলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে জয়ের নায়ক শান্ত-সৌম্য আবারও দলের সহজ জয়ের পথ তৈরি করে দেন। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দুজনে যোগ করেন ১০৭ রান। টুর্নামেন্টে নিজেদের তৃতীয় ফিফটির দেখা পান দুজনেই। ৫৯ বলে সমান ৩ চার, ছক্কায় ৬১ রান করে সৌম্য আউট হলে ভাঙে জুটি। এরপর শান্তও ফিরে যান ৬৮ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৫৯ রানের ইনিংস খেলে।

soumya shanto1

সৌম্য শান্তের বিদায়ের পরও আফিফ হোসেন ও ইয়াসির আলির ব্যাটে নিরাপদেই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। দুজনের ৭৫ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে ৭ উইকেটের জয় তুলে প্রথমবারের মত ইমার্জিং এশিয়া কাপে ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। আফিফ ৪৫ রানে ও ইয়াসির আলি ৩৮ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। আফগানিস্তানের হয়ে দুটি উইকেট নেন আব্দুল ওয়াসি ও একটি শিকার আজমত উল্লাহর।

এর আগে শীতের সকালে টস জিতে বল নেওয়াকেই শ্রেয় মনে করেন বাংলাদেশ দলপতি নাজমুল হোসেন শান্ত। তার নেওয়া সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই সঠিক প্রমাণ করতে থাকেন হাসান মাহমুদ ও সৌম্য সরকার। মাত্র ৩৬ রানেই দুজনে মিলে তুলে নেন আফগানদের ৪ উইকেট। সৌম্য-হাসান মাহমুদের সাথে তানভীর ইসলামও উইকেট শিকারে যোগ দিলে ৭৩ রানেই আফগানরা হারিয়ে বসে ৫ উইকেট।

মাঝে দারউইশ রাসুল ও অভিজ্ঞ সামিউল্লাহ শিনওয়ারি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। দুজনে মিলে যোগ করেন ৩৭ রান, কিন্তু তানভীর ইসলামের শিকার হয়ে শিনওয়ারি ১১ রান করে বিদায় নেন পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে। ওখান থেকেই সৈয়দ শাফাককে নিয়ে ৬৭ রানের জুটিতে বিপর্যয় কাটান দারউইশ রাসুল, ৬৬ বলে ৩৪ রান করে তানভীর ইসলামের দ্বিতীয় শিকার শাফাক। শাফাক ফিরে গেলেও তারিক স্টানিকজাইকে নিয়ে দলের সংগ্রহ বাড়ানোর কাজটা করে যান দারউইশ রাসুল।

১২০ বলে পৌঁছান সেঞ্চুরিতে, অন্যপ্রান্তে ভালো সঙ্গ দেন তারিক স্টানিকজাই। দুজনে মিলে যোগ করেন ৮৬ রান। সৌম্য সরকারের করা শেষ ওভারে তারিক ৩৩ রান করে ফিরলে ভাঙে জুটি। ১ বলের ব্যবধানে ফিরে যান সেঞ্চুরিয়ান রাসুলও। আউট হওয়ার আগে ১২৮ বলে সমান ৭ টি করে চার, ছক্কায় করেন ১১৪ রান। আফগানিস্তান থামে ৯ উইকেটে ২২৮ রানে। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট হাসান মাহমুদ ও সৌম্য সরকারের, দুটি শিকার তানভীর ইসলামের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ
আফগানিস্তান ইমার্জিং দল ২২৮/৯ (৫০ ওভার)
মালিক ১, কামাল ৩, জামান ১৩, রাসুল ১১৪, মুনির ২, শিনওয়ারি ১১, শাফাক ৩৪, তারিক ৩৩, ওয়াসি ০, আজমত ০* ;হাসান মাহমুদ ৪৮/৩, সুমন খান ৫৯/০, সৌম্য সরকার ৫৮/৩ , তানভীর ৩৩/২, মেহেদী হাসান ২৯/০

বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ২২৯/৩ (৩৯.১ ওভার)
নাইম শেখ ১৭, সৌম্য ৬১, নাজমুল শান্ত ৫৯, আফিফ ৪৫*, ইয়াসির আলি ৩৮* ;ইউসুফ ৩৫/০, আজমত৪০/১, কামাল ৩১/০, মালিক ২৯/০, ওয়াসি৪৬/২, শিনওয়ারি ১৯/০, তারিক ২৪/০।

ফলঃ বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

এসএ গেমসের নারী ক্রিকেট দল ঘোষণা

Read Next

বিপিএলে কোচ হিসেবে থাকছেন সৈয়দ রাসেল

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
104
Share