মাশরাফিতে অনাগ্রহের কারণ জানালেন কোচ, পরিচালকরা

মাশরাফি বিপিএল

রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে গতকাল (১৭ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হয় আসন্ন বঙ্গবন্ধু বিপিএলের প্লেয়ার ড্রাফট। দেশি এ+ ক্যাটাগরিতে থাকা চারজনের তালিকায় থাকলেও মাশরাফি বিন মর্তুজাকে কিনছিলনা কেউই, দেশি খেলোয়াড়দের শেষ সেটে ঢাকা প্লাটুন দলে ভেড়ায় বাংলাদেশের ওয়ানডে কাপ্তানকে যদিও এর আগেই নিয়মানুসারে নির্ধারিত কোটায় তামিম ইকবালকে কিনে নিয়েছিল দলটি।

বিপিএল ইতিহাসের সেরা অধিনায়ক, যার নেতৃত্বে ফ্র‍্যাঞ্চাইজিদের ঘরে ওঠে ছয় আসরের চার শিরোপা। পারফরম্যান্স বিবেচনায়ও মাশরাফি বিপিএলে আছেন শীর্ষদের কাতারে। তবে কেন দলগুলোর অনীহা, ঢাকা প্লাটুনইবা কেন করলো এত দেরি? ড্রাফট শেষে জানিয়েছেন রংপুর রেঞ্জার্সের পরিচালক আকরাম খান ও ঢাকা প্লাটুন কোচ সালাউদ্দিন।

ড্রাফট শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আকরাম খানের কন্ঠে টি-টোয়েন্টি মানের ফিল্ডিং ও বাজেট অনুসারে বিনিয়োগ বেশি বিবেচনায় মাশরাফির প্রতি অনাগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ‘আমাদের দলের মধ্যে যে ধরনের খেলোয়াড় দরকার ছিল, প্রথমে আমরা সেরকম প্লেয়ার নিয়েছি। ঠিক করেছি টি-টোয়েন্টিতে আমাদের যে বাজেট ছিল, যে প্ল্যান ছিল সেখানে বাজেট একটা ফ্যাক্টর। যেহেতু টি-টোয়েন্টিতে ফিল্ডিং গুরুত্বপূর্ণ তাই তরুণ ক্রিকেটারদের উপর বেশি নির্ভর করেছি।’

দেশি এ+ ক্যাটাগরির ক্রিকেটার হিসেবে মাশরাফির পারিশ্রমিক নির্ধারিত হয় ৫০ লাখ টাকা। ঢাকা প্লাটুন শেষদিকে দলে নিলেও প্রথম সুযোগে মাশরাফিকে প্রাধান্য দেয়নি। প্রতিযোগীতামূলক ক্রিকেটে এটা অস্বাভাবিকও নয়, এ+ ক্যাটাগরিতে মাশরাফির চাইতে তামিম এই মুহুর্তে সেরা বিকল্প সেটাও সবার জানা। কোচ হিসেবে শুরুতেই তাই তামিমের দিকে নজর ছিল সালাউদ্দিনের।

ড্রাফটে লম্বা সময় অবিক্রিত  থাকা মাশরাফি শেষদিকে দল পান অনেকটা তাৎক্ষণিকভাবে বাইলজ পরিবর্তনের ফলে। বাইলজে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল ফ্র‍্যাঞ্চাইজিগুলো সর্বোচ্চ একজন এ+ ক্যাটাগরির ক্রিকেটার কিনতে পারবে যদিও হুট করেই ড্রাফট চলাকালীন নিয়ম বদলে ঢাকা প্লাটুন সুযোগ পায় দুইজন দেশি এ+ ক্যাটাগরির ক্রিকেটার নেওয়ার।

শুরুর দিকে মাশরাফিতে নজর না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ঢাকা প্লাটুন কোচ সালাউদ্দিন। এ প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুরুতে আসলে ডাকার মত সুযোগ ছিলনা। আমি এ+ ক্যাটাগরির একজনকেই নিতে পারবো সেখানে তামিমকে যেহেতু আমি পিক করেছি মাশরাফিকে ডাকার কোন সুযোগ ছিলনা। আমি মনে করি টি-টোয়েন্টি খেলাটা অনেক অভিজ্ঞতার খেলা, মোটামুটি এটা আমি বিশ্বাস করি।’

‘কারণ প্রতিটি বলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয় যারা আসলে অভিজ্ঞ তারাই এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। মাঠে তারাই খেলবে আমি খেলবনা। প্রকৃতপক্ষে আমার মনে হয় মাঠে যত বড় মাথা থাকবে সেটাই আমার খেলার জন্য ভালো হবে। আমার খেলোয়াড়েরা সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে এবং তাদের কাছে অনেক কিছু শিখতে পারবে।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

ড্রাফট শেষে যেমন হলো বিপিএলের ‘৭’ দল

Read Next

এবার সতীর্থের গায়ে মাঠেই হাত তুললেন পেসার শাহাদাত হোসেন

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
18
Share