হৃদয়ের আরো এক সেঞ্চুরিতে টাইগার যুবাদের আরো এক জয়

তৌহিদ হৃদয় রকিবুল হাসান

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তৌহিদ হৃদয়ের আরও একটি দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কান যুবাদের ৫ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দল। পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজটি আকবর আলির দল ইতোমধ্যে জিতে নিয়েছে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই (১ ম্যাচ ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে)।

কোন ফিফটি ছাড়াই দলের ব্যাটসম্যানদের যৌথ প্রচেষ্টায় ২৬০ রানের পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কান যুবারা। আর এই লক্ষ্য তাড়ায় আবারও দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ব্যাট হাতে জয়ের নায়ক টাইগার যুবা তৌহিদ হৃদয়। তার দাপুটে সেঞ্চুরিতেই আগের ম্যাচে নিজেদের অনূর্ধ্ব ১৯ ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দল।

আজ লক্ষ্য তাড়ায় ৬৯ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে ফিফটি পাওয়া তানজিদ হাসান তামিম ও মাহমুদুল হাসান জয় ফেরেন যথাক্রমে ২৬ ও ১৪ রান করে।

শাহাদাত হোসেনকে নিয়ে ৬২ রানের জুটিতে পরিস্থতি সামাল দেন তৌহিদ হৃদয়। ২৪ রান করে কাভিন্দু নাদিসানের শিকার হয়ে শাহাদাত ফিরলে ভাঙে জুটি। এরপর অধিনায়ক আকবর আলির সাথে ১১০ রানের জুটিতে দলের জয়ের পথ আরও মসৃণ করেন হৃদয়।

দলকে জয় থেকে মাত্র ২০ রান দূরে রেখে ফেরেন হৃদয়। ১২০ বলে ৯ চার ৩ ছক্কায় ১১৫ রানের ইনিংসটি সাজান এই ব্যাটসম্যান, অনূর্ধ্ব ১৯ ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের হয়ে যুব ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক এখন তৌহিদ হৃদয়।

 

View this post on Instagram

 

Back to back hundred for Towhid Hridoy. #Bangladesh #Banu19vSLu19

A post shared by cricket97 (@cricket97bd) on

হৃদয় ফিরে গেলে শামীম হোসেনকে নিয়ে বাকি পথ অনায়েসেই পাড়ি দেন অধিনায়ক আকবর আলি। শেষ পর্যন্ত আকবর অপরাজিত থাকেন ৬৬ রানে, ১৬ বল ও ৫ উইকেটে হাতে রেখেই জয় পায় টাইগার যুবারা। এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দল।

এর আগে টস জিতে শুরুতেই ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন লঙ্কান দলপতি। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৯.১ ওভারেই দুই ওপেনার পারানাভিতানা ও মোহাম্মদ সামাজ তুলে ফেলেন ৬৯ রান। তানজিম হাসান সাকিবের পরপর দুই বলেই ফিরে যান দুই ওপেনার। ৩১ রান করে পারানাভিতানা ও ৩৪ রান করে আউট হন সামাজ। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ছোট ছোট জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা।

অভিষেক কাহাদুওয়ারাচ্ছি রাভিন্দু রসনাথ ও নিপুন ধনঞ্জয়ার সাথে গড়েন যথাক্রমে ৪২ ও ৫২ রানের জুটি। দলীয় ১৬২ রানে কাহাদওয়ারাচ্ছি শামীম হোসেনের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৬২ বলে খেলেন ৩৭ রানের ইনিংস। রাভিন্দু রসনাথের ব্যাট থেকে ২৫ ও নিপুন ধনঞ্জয়ার ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান। ১৬২ রানে ৫ উইকেট হারানো লঙ্কানদের টেনে নেন চামিন্দু পিউমল ও গেমেজ দিনুশা। দুজনে মিলে ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৫৬ রান।

রান আউটে কাটা পড়ে ২৯ রান করা পিউমল ফিরলে ভাঙে জুটি। পিউমল ফিরে গেলে একাই লড়েন গেমেজ, তার অপরাজিত ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪৩ রানের সুবাধে ২৬০ রানের পুঁজি পায় লঙ্কানরা। ১৬ রান আসে দিলুম সুধিরার ব্যাট থেকে, ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন কাভিন্দু নাদিসান। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেটে নেন তানজিম হাসান সাকিব, একটি করে উইকেট শিকার শামীম হোসেন ও রাকিবুল হাসানের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ ২৬০/৭ (৫০), পারানাভিতানা ৩১, সামাজ ৩৪, অভিষেক ৩৭, রাভিন্দু ২৫, নিপুন ২৭, গেমেজ ৪৩*,পিউমল ২৯, দিলুম ১৬, কাভিন্দু ৮* ; শরিফুল ৫৮/০, শামীম হোসেন ৫৯/১, রাকিবুল ৪৩/১, সিয়াম ৪১/০, সাকিব ৫৪ /৩।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ২৬৫/৫ (৪৭.২), তামিম ২৬, সাজিদ ৩, মাহমুদুল হাসান ১৪, হৃদয় ১১৫, শাহাদাত ২৩, আকবর আলি ৬৬*, শামীম ১১*; দিলুম ৫১/১, কাভিন্দু ৪৮/১, ইয়াসিরু ৪৮/০, ডি সিলভা ৫৫/২, পিউমল ২৪/০, পারানাভিতানা ২৮/১, গেমেজ ৯/০

ফলাফলঃ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৫ উইকেটে জয়ী।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

ভাইয়ের শটে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়লেন অ্যাশটন অ্যাগার

Read Next

রংপুরের কোচ গ্রান্ট ফ্লাওয়ার, কুমিল্লার ওটিস গিবসন

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
14
Share