শান্ত-সৌম্য’র ব্যাটে চড়ে ভারতকে হেসেখেলে হারাল বাংলাদেশ

নাজমুল হোসেন শান্ত সৌম্য সরকার

শান্ত-সৌম্যের জোড়া ফিফটিতে ভারত ইমার্জিং দলকে বড় ব্যবধানে হারিয়েই এসিসি ইমার্জিং এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে ভারতের দেওয়া ২৪৭ রাননের লক্ষ্য ৬ উইকেট ও ৪৭ বল হাতে রেখেই জিতে নেয় শান্ত-সৌম্যরা।

২৪৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে নাইম শেখের (১৫) উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারেই তুলে ফেলে ১৩৭ রান। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও ওপেনার সৌম্য সরকার দুজনেই ততক্ষণে পেয়ে যান ফিফটির দেখা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দুজন যোগ করেন ১৪৪ রান। আগের ম্যাচে অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংস খেলা সৌম্য ৬৮ বলে ৭ চার ৩ ছক্কায় ৭৩ রান করে সিদ্ধার্থ দেশাইয়ের বলে ফিরলে ভাঙে জুটি। সৌম্য বিদায় নিলে ইয়াসির আলি রাব্বিকে নিয়ে অধিনায়ক শান্ত ব্যাট হাতে হয়ে ওঠেন অশান্ত।

ভারতীয় বোলারদের অসহায় করে ৮৮ বলে ১৪ চার ২ ছক্কায় থামেন সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৬ রান দূরে থাকতে। ৯৪ রান করে যশ বিজয়ের বলে দলীয় ২০১ রানে শান্ত ফিরলে ভাঙে রাব্বির সাথে ৪২ রানের জুটি যেখানে রাব্বির অবদান ছিল মাত্র ৮। বাকি পথ নিরাপদেই পাড়ি দিচ্ছিলেন আফিফ-রাব্বি কিন্তু জয় থেকে মাত্র ৫ রান দূরে থাকতে ফিরে যান রাব্বি (২১)। শেষ পর্যন্ত ৪৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশ, ৩৪ রানে আফিফ ও ২ রানে জাকির অপরাজিত থাকেন।

শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে আগ ব্যাট করা ভারত অনূর্ধ্ব-২৩ দল আরমান জাফরের সেঞ্চুরিতে পায় ২৪৭ রানের লড়াই করার পুঁজি। টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলপতি নাজমুল হোসেন শান্ত। ৮৮ রানে চার উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ বোলাররাও অধিনায়কের সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণ করতে শুরু করে। মাঝে ৬১ বলে ৩৭ রান করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন আরিয়ান জুয়েল। অফ স্পিনার মেহেদী হাসানের শিকার হয় জুয়েলও সাজঘরে ফিরলে একাই দলকে টেনে নেন আরমান জাফর।

ভিনায়ক গুপ্তের সাথে ১২৫ রানের জুটিতে নিরাপদ করেন ভারতের ইনিংসকে। ৬৫ বলে ৫ চারে ৪০ রান করে ভিনায়ক সৌম্য সরকারের বলে ফিরলে ভাঙে জুটি। ভিনায়কের বিদায়ের পর আবার বিপর্যয়ে ভারত। দ্রুত ফেরেন চিন্ময় সুতার (০) ও শিবাম মাভি (০)। দুজনকেই এক বলের ব্যবধানে ফেরান তানভীর ইসলাম। দলীয় ২৩১ রানে ৮ম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরে যান সেঞ্চুরি হাঁকানো আরমান জাফরও।

৯৮ বলে ৮ চার ৩ ছক্কায় ১০৫ রানে থামেন জাফর। জাফরকে ইয়াসির আলির হাতে তালুবন্দী করিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন সুমন খান। শেষ দিকে ঋত্বিক শোকেনের ১৬ রানে অল আউট হওয়ার আগে ২৪৮ রান করতে পারে ভারতীয় ইমার্জিং দল। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন সুমন খান। দুটি করে সৌম্য সরকারও তানভীর ইসলাম, একটি করে শিকার হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসানের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ভারত ইমার্জিং দল ২৪৬/১০ (৫০), রবি ১২, আরিয়ান ৩৭, সানভির ২৬, আরমান ১০৫, ইয়াশ ০, ভিনায়ক ৪০, সুতার ০, মাভি ০, ঋত্বিক ১৬, দেশাই ৩, দুবে ০*; হাসান ৫১/১, সুমন ৬৪/৪, তানভীর ৩৮/২, সৌম্য ৫৩/২, মেহেদী ২৬/১।

বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ২৫০/৪ (৪২.১), নাইম শেখ ১৪, সৌম্য সরকার ৭৩, নাজমুল হোসেন শান্ত ৯৪, ইয়াসির আলি ২১, আফিফ হোসেন ৩৪*, জাকির ২*; সিদ্ধার্থ দেশাই ৪৯/১, ঋত্বিক ৫২/০, শিবাম মাভি ৩৮/০, সৌরভ দুবে ৪৪/১, সানভীর সিং ৪২/১, যশ ১৬/১, ভিনায়ক গুপ্ত ২/০।

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ৬ উইকেটে জয়ী।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

আরমান জাফরের সেঞ্চুরির পরও ২৫০ রানের আগেই থামল ভারত

Read Next

হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু বাংলা টাইগার্সের

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
9
Share