লঙ্কান যুবাদের রেকর্ড ব্যবধানে হারালো টাইগার যুবারা

শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯

তৌহিদ হৃদয়ের দাপুটে শতকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়ে লঙ্কান যুবাদের রানের পাহাড়ে চাপা দেয় বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দল। ৩৪১ রানের লক্ষ্য তাড়ার চাপ সামলাতে পারেনি লঙ্কান যুবারাও, ১৬১ রানের বড় ব্যবধানে হেরে ৫ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে পিছিয়ে পড়েছে ২-০ ব্যবধানে। লঙ্কান যুবাদের বিপক্ষে এটি টাইগার যুবাদের সর্বোচ্চ ব্যবধানে (রান) পাওয়া জয়।

বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা যেমন হওয়া দরকার ছিল লঙ্কান দুই ওপেনার মোহাম্মদ সামাজ ও পারানাভিতানা করেছেন তেমনটাই। মাত্র ৫.৫ ওভারের জুটিতে দুজনে স্কোরবোর্ডে তোলেন ৬৪ রান। মাত্র ১৬ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ২৯ রান করে সামাজ শরিফুলের শিকার হয়ে ফিরলে ভাঙে জুটি। সামজ ফিরে গেলেও ঝড়ো ফিফতি তুলে নেন পারানাভিতানা। ৩২ বলে ৯ চারে ঠিক ৫০ রানেই ফেরেন শরিফুলের দ্বিতীয় শিকার হয়ে।

এরপর বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান করলেও লঙ্কানরা নিয়মিত বিরতিতে হারাতে শুরু করে উইকেট। ১০৪ রানে ৫ উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশি যুবাদের তোপে গুটিয়ে যায় ১৭৯ রানে। মাঝে ৩২ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ৩০ রান করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন অভিষেক পেরেরা। রাকিবুল হাসানের বলে ফেরেন ৯ম ব্যাটসম্যান হিসেবে।

শেষদিকে পেরেরা ছাড়া ১৪ রান করেন চামিন্দু পিউমল, আর কেউ ছুঁতে পারেনি দুই অঙ্কও। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট শিকার করেন শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান সাকিব। একটি করে উইকেত ভাগাভাগি করেন অভিষেক দাস, রাকিবুল হাসান, শাহাদাত হোসেন ও শামীম হোসেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ যুবারা তৌহিদ হৃদয়ের সেঞ্চুরি, আকবর আলি-তানজিদ হাসান-মাহমুদুল হাসানের ফিফটিতে বড় সংগ্রহ পেয়েছে টাইগার যুবারা। ৭ উইকেটে দাঁড় করায় ৩৪০ রানের পাহাড়সম পুঁজি। যা যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই ওপেনার পারভেজ হোসেন মাত্র ১ রান করে ফিরে গেলে মাহামুদুল হাসান জয়কে নিয়ে ৭৯ রানের জুটিতে দলকে বড় কোন বিপদে পড়তে দেননি আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম।

চামিন্দু পিউমলের বলে বোল্ড হওয়ার আগে যুব ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৭ম ফিফটি তুলে নেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ৫৩ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় অনেকটা আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলেন ৬০ রানের ইনিংস। এরপর তৌহিদ হৃদয়ের সাথেও ৪৬ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি করে দিয়ে যান মাহমুদুল হাসান জয়। কাভিন্দু নাদিসানের বলে ফিরে যাওয়ার আগে মাহমুদুল হাসান জয় তুলে নেন যুব ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫ম ফিফটি। ৬৪ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান মাহমুদুল হাসান।

তার বিদায়ের পর দ্রুত ফেরেন শাহাদাত হোসেনও (৬)। এরপর বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান তৌহিদ হৃদয় ও অধিনায়ক আকবর আলি। দুজনে ৫ম উইকেট জুটিতে মাত্র ৮৯ বলে যোগ করেন ১০৭ রান। ৪৩ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় ৫২ রান করে আকবর আলি দিশান মাদুশাঙ্কার বলে বোল্ড হয়ে ফিরলেও ঠিকই সেঞ্চুরি তুলে নেন তৌহিদ হৃদয়। ১৮ বলে শামীম হোসেনকে নিয়েই পার করেন দলের ৩০০ রান। ১৮ বলে ১ চার ১ ছক্কায় ২১ রান করে রান আউটে কাটা পড়েন শামীম।

৯১ বলে ৭ চার ৩ ছক্কায় অনুর্ধ্ব ১৯ ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরিতে পৌঁছানো তৌহিদ হৃদয় সেঞ্চুরির পর হাঁকান আরও তিন ছক্কা। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৯৮ বলে ৮ চার ৬ ছক্কায় ১২৩ রানে। দল পায় ৭ উইকেটে ৩৪০ রানের রেকর্ড পুঁজি, যা বাংলাদেশের অনুর্ধ্ব ১৯ দলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ, এর আগের সর্বোচ্চ ছিল নিউজিল্যান্ড যুবাদের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ৩১৬। লঙ্কানদের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন অভিষেক পেরেরা, কাভিন্দু নাদিসান। একটি করে উইকেট নেন চামিন্দু পিউমল, রোহান সঞ্জয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ৩৪০/৭, তানজিদ ৬০, পারভেজ ১, জয় ৫২, হৃদয় ১২৩*, শাহাদত ৬, আকবর ৫২, শামীম ২১, অভিষেক ৬, রাকিবুল ১*; মাদুশাঙ্কা ৬৫/২, ডি সিলভা ৭৮/১, চামিন্দু ৬০/১, কাভিন্দু ৬৬/২।

শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ ১৭৯/১০ (৩১.২ ওভার) সামাজ ২৯, পারানাভিতানা ৫০, রাভিন্দু ৫, নিপুন ৫, দিনুশা ৭, পেরেরা ৩০, চামিন্দু পিউমল ১৪, রোহান ৩, কাভিন্দু ২, অমশি ডি সিলভা ৭,দিশান মাদুশাঙ্কা ১২*; শরিফুল ৫০/২, সাকিব ৪৬/২, শামীম ৩৫/১, অভিষেক ২১/১,রাকিবুল ১৭/১, শাহাদাত ৮/১।

ফলাফলঃ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ১৬১ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরাঃ তৌহিদ হৃদয় (বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯)

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

নাইম, সৌম্য’র দাপুটে ব্যাটিংয়ে ইমার্জিং দলের বড় জয়

Read Next

বঙ্গবন্ধু বিপিএলঃ প্লেয়ার্স ড্রাফটে ৫ টি ভিন্ন গ্রেডে ২১৯ দেশি ক্রিকেটার

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
18
Share