দিনের শুরু ইমরুলের ক্যাচ আউটে, শেষটা ইমরুলের ক্যাচ মিসে!

এবাদত হোসেন চেতেশ্বর পুজারা

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম দিন শেষে): বাংলাদেশ ১৪০/৭ (৫৪), সাদমান ৬, ইমরুল ৬, মুমিনুল ৩৭, মিঠুন ১২, মুশফিক ৪৩, মাহমুদউল্লাহ ১০, লিটন ২১*, মিরাজ ০; ইশান্ত ১৮/১, উমেশ ৩৯/১, শামি ২৭/৩, অশ্বিন ৪৩/২।

ভারত ৮৬/১ (২৬), মায়াঙ্ক ৩৭*, রোহিত ৬, পুজারা ৪৩*; এবাদত ১১-২-৩২-০, রাহি ৮-০-২১-১, তাইজুল ৭-০-৩৩-০।

আবু জায়েদ রাহি যখন রোহিত শর্মাকে সাজঘরে ফিরিয়েছিলেন ভারতের ১ম ইনিংসের তখন শেষ হয়েছে ৭.২ ওভার। ১ম দিনে ভারত ব্যাট করেছে মোট ২৬ ওভার। তাতে উইকেট গেছে ঐ একটিই। ২৪ তম ওভারে রাহির থলিতে জমা হতে পারতো আরো এক উইকেট। প্রথম স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা ইমরুল কায়েস মায়াঙ্ক আগারওয়ালের দেওয়া সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন। দিনশেষে তাই ৩৭ রান করে অপরাজিত মায়াঙ্ক আগারওয়াল। ৪৩ রান নিয়ে ব্যাট করছেন চেতেশ্বর পুজারা। বাংলাদেশের ১ম ইনিংসের রানের চেয়ে আর মাত্র ৬৪ রান পিছিয়ে ভারত।

রোহিতকে ফেরালেন আবু জায়েদঃ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে ছিলেন ফর্মের তুঙ্গে। তিন ম্যাচে করেছিলেন ৩ সেঞ্চুরি, যার ১ টি আবার ছিলো ডাবল। সেই রোহিত শর্মাকেই ৬ রানের বেশি করতে দেননি আবু জায়েদ রাহি। নিজের করা চতুর্থ ওভারের ২য় বলে রোহিত শর্মাকে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান রাহি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম ইনিংস শেষে): বাংলাদেশ ১৫০/১০ (৫৮.৩), সাদমান ৬, ইমরুল ৬, মুমিনুল ৩৭, মিঠুন ১২, মুশফিক ৪৩, মাহমুদউল্লাহ ১০, লিটন ২১, মিরাজ ০, তাইজুল ১, রাহি ৭*, এবাদত ২; ইশান্ত ২০/২, উমেশ ৪৭/২, শামি ২৭/৩, অশ্বিন ৪৩/২।

তাইজুল ইসলাম কোন বোলারকে সুযোগ দেননি নিজের উইকেট নিতে। দুই রান নিতে যেয়ে রান আউট হন তিনি। দারুণ এক থ্রো করে রান আউটে অবদান রাখেন রবীন্দ্র জাদেজা। দলের রান যখন ১৫০, তখন শেষ ব্যাটসম্যান হিসাবে আউট হন এবাদত হোসেন। উমেশ যাদবের বলে বোল্ড হন তিনি।

ফিরে গেলেন লিটনওঃ চা বিরতির পর ইশান্ত শর্মার করা প্রথম বলেই সাজঘরে ফেরার কাজ করে বসেন লিটন দাস। লিটনের ব্যাটে লেগে স্লিপে ওঁত পেতে থাকা ভিরাট কোহলির হাতে জমা পড়ে বল। ৩১ বলে ৪ চারে ২১ রান করে আউট হন তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (২য় সেশন শেষে): বাংলাদেশ ১৪০/৭ (৫৪), সাদমান ৬, ইমরুল ৬, মুমিনুল ৩৭, মিঠুন ১২, মুশফিক ৪৩, মাহমুদউল্লাহ ১০, লিটন ২১*, মিরাজ ০; ইশান্ত ১৮/১, উমেশ ৩৯/১, শামি ২৭/৩, অশ্বিন ৪৩/২।

শামির জোড়া আঘাতঃ মাহমুদউল্লাহ আউট হবার পরে উইকেটে এসেই চার মেরে শুরু করেন লিটন দাস। চা বিরতির আগে লিটনের ব্যাট থেকে আসে আরো ৩ চার। মুশফিকের সঙ্গে ৩৫ রানের জুটিও গড়েন। তবে চা বিরতির আগে শেষ ওভারে মোহাম্মদ শামি জোড়া শিকার করে বাংলাদেশকে কার্যত ছিটকে দিয়েছেন ম্যাচ থেকে। ৪৩ রান করা মুশফিককে বোল্ড করার পরের বলেই মেহেদী হাসান মিরাজকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন শামি। চা বিরতির পর হ্যাটট্রিকের জন্য বল করবেন তিনি।

 

View this post on Instagram

 

Good, but not enough! #INDvBAN

A post shared by cricket97 (@cricket97bd) on

মাহমুদউল্লাহকে ফেরালেন অশ্বিনঃ ১ম দিনের দুই সেশনও এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যেই ৩টি ক্যাচ ছেড়েছেন আজিঙ্কা রাহানে। তিন বারই রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে। মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিমের পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ক্যাচও ছাড়েন রাহানে। যদিও খুব বেশিক্ষণ হতাশ হয়ে থাকতে হয়নি অশ্বিনকে। নিজের করা পরের ওভারের প্রথম বলেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে বোল্ড করেন তিনি। অশ্বিনের করা সোজা আসতে থাকা এক ডেলিভারিতে বাজে শট খেলতে যেয়ে লাইন মিস করেন মাহমুদউল্লাহ, বল আঘাত হানে স্টাম্পে। ৩০ বলে ১ চারে ১০ রান করেন তিনি।

লিভ করে বোল্ড মুমিনুলঃ ৩৮ তম ওভারে নিজের ১০ম ওভার বল করতে এসে অবশেষে সাফল্যের দেখা পেলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। এবার আর ফিল্ডারদের ওপর ভরসা করেননি। বোল্ড করে ফিরিয়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ককে। ৮০ বলে ৬ চারে ৩৭ রান করা মুমিনুল লিভ করে খেসারত দিয়েছেন। বল সরাসরি আঘাত হানে স্টাম্পে।

 

View this post on Instagram

 

Captain started well, but could not make it big! #INDvBAN

A post shared by cricket97 (@cricket97bd) on

আবারো বাঁচলেন মুশফিকঃ রবিচন্দ্রন অশ্বিন আজিঙ্কা রাহানের ওপর রাগ করতেই পারেন। এর আগে লাঞ্চ বিরতির আগে মুমিনুল হকের ক্যাচ ছেড়েছিলেন, লাঞ্চের পর ছাড়লেন মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ। স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা রাহানে হাতছাড়া করেন সহজ এক সুযোগ। ১৫ রানে ব্যাট করতে থাকা মুশফিক দ্বিতীয়বারের মতো জীবন ফিরে পান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম সেশন শেষে): বাংলাদেশ ৬৩/৩ (২৬), সাদমান ৬, ইমরুল ৬, মুমিনুল ২২*, মিঠুন ১২, মুশফিক ১৪*; ইশান্ত ১২/১, উমেশ ২৬/১, শামি ১২/১, অশ্বিন ১১/০।

মুশফিকের ক্যাচ ছাড়লেন কোহলিঃ উমেশ যাদবের করা ২৪ তম ওভারের ১ম বলে তৃতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা বিরাট কোহলিকে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। ডানদিকে ডাইভ দিয়ে ক্যাচ নেবার চেষ্টা করলেও হাতে জমাতে ব্যর্থ হন ভারতীয় দলপতি। উমেশের ঐ ওভারেই চার মেরে দলের রান ৫০ পার করেন মুমিনুল হক।

শামির প্রথম শিকার মিঠুনঃ আগের ওভারেই ক্যাচ দিয়ে বেঁচেছেন মুমিনুল হক। মোহাম্মদ শামি নিজের প্রথম শিকার তুলে নিয়েছেন ৮ বল পরেই। ৩৬ বলে ১ চারে ১২ রান করা মোহাম্মদ মিঠুনকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন শামি।

ক্যাচ দিয়ে বাঁচলেন মুমিনুলঃ অফস্পিনে মুমিনুল দুর্বল- এই কথা শুনতে হয় মুমিনুলকে। ইনদোরে হলকার স্টেডিয়ামে অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সেটা প্রমাণ করার পথেও ছিলেন। তবে স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা আজিঙ্কা রাহানে সময়মতো রিয়্যাক্ট না করাতে তালুবন্দি করতে পারেননি। উলটো ২ রান পেয়ে যান মুমিনুল।

সাজঘরে ফিরলেন সাদমানওঃ ইমরুল ফেরার ঠিক ৫ বল পর ইশান্ত শর্মাকে উইকেট দিয়ে আসেন সাদমান ইসলাম অনিক। ড্রাইভ করার চেষ্টায় উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার হাতে সহজ এক ক্যাচ তুলে দেন সাদমান। ইমরুলের মতো সাদমানের সঙ্গ্রহও ঠিক ৬ রান।

ফিরলেন ইমরুলঃ ভারতীয় দল একাদশ সাজিয়েছে তিন পেসার নিয়ে। ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদবের সঙ্গে মোহাম্মদ শামি। ইনদোরের লাল মাটিতে প্রস্তুত উইকেটে পেসারদের জন্য থাকা সুবিধা ভালোভাবেই নিচ্ছে ভারত। তিন স্লিপ ও ১ গালি নিয়ে বোলিং শুরু করেছিলেন ইশান্ত শর্মা। শুরু থেকেই নড়বড়ে দেখাচ্ছিলো ইমরুল কায়েসকে। নড়বড়ে ইমরুলকে ফেরাতে ভারতকে অপেক্ষা করতে হয় ৩৬ বল। ৬ষ্ঠ ওভারের শেষ বলে উমেশ যাদব ফেরান ৬ রান করা ইমরুলকে। লেন্থ বলে তৃতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা রাহানের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ইমরুল।

টসঃ ইনদোরের হলকার স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো টস করতে নেমেছিলেন মুমিনুল হক। কয়েন টসে ফ্লিপ করার সময় চেয়েছিলেন হেড, পড়েছিলোও হেড। আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

বাংলাদেশ একাদশঃ ইমরুল কায়েস, সাদমান ইসলাম অনিক, মুমিনুল হক (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, আবু জায়েদ রাহি, এবাদত হোসেন।

ভারত একাদশঃ মায়াঙ্ক আগারওয়াল, রোহিত শর্মা, চেতেশ্বর পুজারা, ভিরাট কোহলি, আজিঙ্কা রাহানে, রবীন্দ্র জাদেজা, ঋদ্ধিমান সাহা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, উমেশ যাদব, মোহাম্মদ শামি ও ইশান্ত শর্মা।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

টস ভাগ্য কথা বললো মুমিনুলের পক্ষে

Read Next

অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্কোয়াডে ফিরলেন ব্যানক্রফট

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
17
Share