ইমরানের মন্তব্যে কটুক্তি, নাকি সমর্থন ছিল মুশফিকের প্রতি?

Vinkmag ad

‘ব্যাটের দিকে তাকিয়ে কী হবে ভাই? আমাদের দিকে তাকান।’ ভারত সফরের আগে নিজেদের শেষবারের মত ঝালিয়ে নিতে দুই প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথমটিতে আউট হয়ে ড্রেসিং রুমে ফেরার পথে এক দর্শক মুশফিকুর রহিমকে এমন কিছুই বলেছে বলে দাবি  খোদ মুশফিকের। অভিযুক্ত দর্শকের বক্তব্য-  ‘কটাক্ষ করে আমি কিছুই বলিনি মুশফিক ভাইকে। আমি শুধু বলেছি ব্যাড লাক। যা হওয়ার হয়ে গেছে।’

জামালপুরের ছেলে ইমরান ফেসবুক ভিত্তিক ‘ক্রিকেটখোর’ নামক জনপ্রিয় ক্রিকেট গ্রুপের সদস্য। খেলা দেখতে এসেছেন গ্রুপেরই সক্রিয় আরেক সদস্যের সাথে। শুধু ইমরান নয় এসেছেন আরও কয়েকজন, প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াও আন্তর্জাতিক ম্যাচেও বাংলাদেশকে গ্যালারিতে বসে সমর্থন দিয়ে আসছে তারা।

মুশফিকের উদ্দেশ্যে করা ইমরানে মন্তব্য উপরের যেকোন একটি হবে নিশ্চিত। মন্তব্য দুটির কোনটিই মুশফিকের ড্রেসিং রুম নয় কয়েক ফুট উঁচু সীমানা প্রাচীর টপকে গ্রান্ড স্ট্যান্ডে চলে আসার মত ব্যাপারও ছিলনা। অন্তত পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে অল্পতেই এমন মেজাজ হারানো শুভ লক্ষণ নয়। যদিও নিজের ব্যাপারে কটুক্তি শুনতে কারোরই ভালো লাগার কথা নয়।

ক্রিকেটাররাও রক্তে মাংসের মানুষ, তাদেরও আবেগ, অনুভূতি আছে। ইমরানের মন্তব্য গালি ছিলনা সেটা মুশফিক এবং ইমরান দুজনের দেওয়া বক্তব্যেই স্পষ্ট। তবে কেন এত চটে যাওয়া? জাতীয় দলের গুরুত্বপুর্ণ সদস্যদের নিয়ে গড়া  লাল দল হেরেছে ৫০ রানে, ব্যাট হাতে ব্যর্থ মুশফিকও (৪)। সে কারণেই কিছুটা হতাশ হয়েই সাজঘরে ফিরছিলেন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। সেক্ষেত্রে  ইমরানের ইতিবাচক বক্তব্যও হয়তো ভুল বুঝে থাকতে পারে মুশফিক।

এর পেছনে দর্শকদের অতীত রেকর্ডও দায়ী। দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে বাজে খেলার পর গ্যালারি থেক দুয়ো শোনার অভিজ্ঞতা কম নয় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। ফলে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরে ফিরতে থাকা মুশফিক ইতিবাচক কোন মন্তব্য শুনবেন হয়তো মাথায়ই আনতে পারেননি। তেড়ে এসে ইমরানকে পাল্টা প্রশ্ন ‘আপনার দিকে তাকিয়েছি। কী বলবেন বলেন।’

অনুসন্ধান বলছে ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ হলেও ‘ক্রিকেটখোরের’ সদস্যরা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ইতিবাচকভাবে প্রচার করার চেষ্টাই করে। শুধু অনলাইন নয় অফলাইনে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সমর্থন দিয়ে নানা কার্যক্রমের আয়োজন করে থাকে। নিরাপত্তা কর্মীরা ইমরানকে মাঠের বাইরে নিয়ে গেলে জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান বলেন, ‘গালি দেইনি ভাই। আমি বলছি কিছু করার নাই ভাইয়া, যা হবার হয়ে গেছে। আমি জীবনেও গালি দেইনি, আমি বলছি যা হওয়ার হয়ে গেছে। ব্যাড লাক, কিছু করার নাই।’

যদিও সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের ইমরানকে ধরে রাখা ব্যক্তিরা বলেন ইমরান গালিই দিয়েছে মুশফিককে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির কতিপয় কর্মকর্তাও।

গ্যালারিতে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরাও বলছে গালি দেওয়ার ব্যাপারটি তাদের চোখে পড়েনি, এমনকি নিরাপত্তা কর্মীরাও এ নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলতে পারেনি। খেলা চলাকালীনই তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়, খবর ছড়িয়ে পরলে ‘ক্রিকেটখোরের’ সকল কার্যক্রম থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়। ব্যাড লাক যা হওয়ার হয়ে গেছে এমন সমর্থনমূলক মন্তব্যের পর কোন ভক্ত কলঙ্কিত হওয়াটাও ইতিবাচক ব্যাপার নয়।

মুশফিকের দেওয়া বক্তব্য সত্য বলে বিবেচিত হলেও পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে তার এমন রাগান্বিত আচরণও ভালো বার্তা দেয়না। এর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচে বাজে মন্তব্য করায় সাইট স্ক্রিণের পেছনে নিয়ে দর্শক পিটিয়ে লম্বা সময় নিষিদ্ধ ছিলেন সাব্বির রহমান রুম্মন। স্ত্রী শিশিরকে বাজে মন্তব্য করায় গ্যালারিতে গিয়ে দর্শককে শাসানোয় কম সমালোচিত হননি সাকিব আল হসানও।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

কঠোর শাস্তি থেকে বেঁচে গেলেন সাকিব!

Read Next

দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচেও নেই সাকিব

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
10
Share