বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষা, সাইফউদ্দিন এবং টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড!

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন
Vinkmag ad

একদিন আগেই আক্ষেপ ভরা কন্ঠে সাইফউদ্দিন বলছিলেন ‘জেলখানার কয়েদির মত জীবন কাটছে। সবকিছু দেখছি কিন্তু খেলতে পারছিনা। ক্রিকেটারের জন্য এটা সত্যি বিরক্তিকর। এক-দুই সপ্তাহ হলে ঠিক আছে কিন্তু প্রায় একমাস হয়ে গেল। অনেকটা বেড রেস্টেই আছি।’

মূলত ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর পিঠের পুরোনো চোটের তীব্রতা বাড়ায় এবং চোট সংক্রান্ত সমাধানের জন্য ইংল্যান্ডের ‘ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ স্পোর্টস এক্সারসাইজ এন্ড সাইন্সের’ সাথে যোগাযোগ চলছিল বলেই ফিজিও ও বিসিবির প্রধান চিকিৎসকের পরামর্শে তরুণ এই পেসারের কয়েদির মত জীবনযাপন।

দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বয়ে বেড়ানো চোট বড়সড় আকার ধারণ করে জাতীয় দলের হয়ে খেলা শুরুর পর। পিঠের এই চোটের জন্যই কিছু ম্যাচে খেলার মত অবস্থায় না থাকায় একাদশের বাইরে সরিয়ে নিতেন নিজেকে। সবশেষ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে না চাওয়ায়তো তার নিবেদন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলেছেন ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়েই, আর এখানেই তৈরি হয়েছিল সংশয়। তবে কি ক্লাবের কর্মকর্তাদের চাপে পড়েই সাইফের চোট নিয়ে মাঠে নামা?

সে যাইহোক সাম্প্রতিক সময়ে বোর্ড এই পেস অলরাউন্ডারকে নিয়ে বেশ গুরুত্বের সাথে ভাবনা-চিন্তার বৈঠকে বসে। চোটের কারণই বের করা যাচ্ছিলনা দেশে, দ্বারস্থ হয় এই চোটের কারণ নির্ণয়ের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘ইন্সটিটিউট অফ স্পোর্টস এক্সারসাইজ এন্ড সাইন্সের’ সাথে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ইংলিশ বোর্ডও। সাইফকে নিয়ে বিসিবি-ইসিবি নিয়মিতই যোগাযোগ করছে, অনেকগুলো রিপোর্টে ইংল্যান্ডে পাঠানোও হয়। তাদের পরামর্শমতেই সিটি স্ক্যান করিয়েও রিপোর্ট পাঠানো হয়।

সাংবাদিকদের সাথে সাইফকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গত বুধবার (১৬ অক্টোবর) বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানিয়েছেন রিপোর্ট দেখে আগামী সপ্তাহের শেষদিকে সাইফউদ্দিনের ব্যাপারে নির্দেশনা দিতে পারে ‘ইন্সটিটিউট অফ স্পোর্টস এক্সারসাইজ এন্ড সাইন্স’। অর্থাৎ ২৪-২৫ অক্টোবর, যেখানে জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরুর কথাই রয়েছে ২৫ অক্টোবর।

দেবাশীষ চৌধুরী
দেবাশীষ চৌধুরী

কিন্তু এর আগেই গতকাল (১৭ অক্টোবর) ঘোষিত ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের স্কোয়াডে আছেন সাইফউদ্দিন। লম্বা সময় ধরে ফিটনেস, বোলিং অনুশীলনের বাইরে থাকা একজন যার চোট নিয়ে নির্দেশনাই আসবে সপ্তাহখানেক পর তার এই মুহুর্তে স্কোয়াডে থাকাটা কতটা যৌক্তিক? বিশেষ করে তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাঝপথেই আবার বল হাতে নেওয়াটা তার ভবিষ্যতের জন্যই হুমকির নয় কি?

সবচেয়ে বড় কথা ইংল্যান্ড থেকে সবুজ সংকেত আসলে তাকে ধরতে হতে পারে ব্রিটিশ বিমান, বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষার জন্য। আর এই পরীক্ষা দেওয়ার পরই জানা যাবে মূলত তার সমস্যা কোথায়? বোলিং অ্যাকশন জনিত কোন ত্রুটি ধরা পড়লে বদলে ফেলতে হতে পারে দীর্ঘদিনের বোলিং অ্যাকশনও। এ ধরনের কিছু হলে সাইফ কতটা প্রস্তুত জানাতে গিয়ে অবশ্য দিয়েছেন মিশ্র বক্তব্য।

ক্যারিয়ার বাঁচানোর তাগিদে যেকোন কিছু করতেই রাজি বলার পরক্ষণেই জানিয়েছেন বোলিং অ্যাকশন বদল করা ছাড়াই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালাতে চান। একান্তই বাধ্য হলে নিজের জন্য ভালো হয় এমন সিদ্ধান্তই নিবেন। ভারত সফরের দলে থাকার ব্যাপারে অবশ্য জানিয়েছেন তাকে নিয়ে ফিজিও, বিসিবির চিকিৎসক ও নির্বাচকদের বৈঠকের পরই হবে সিদ্ধান্ত।

একদিনের ব্যবধানে ঘোষিত দলেই আছেন বাংলাদেশের জার্সিতে ২০ ওয়ানডে ও ১৩ টি-টোয়েন্টি খেলা এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। তাহলে কি নিজেদের মধ্যে বৈঠকে সাইফকে আবারও ইনজেকশন দিয়ে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়? যেখানে ইংল্যান্ড থেকে নির্দেশনা আসার আগ পর্যন্ত বেড রেস্টে রাখা হয়েছে তরুণ এই ক্রিকেটারকে সেখানে নির্দেশনা আসার আগেই আছেন স্কোয়াডে!

ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষায় বোলিং অ্যাকশনে ত্রুটি ধরা পড়লে জানিয়েছে সাইফউদ্দিন। সোজা কথা বলাই যায় ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আর শঙ্কিত সময়টাই পার করছেন বয়স ভিত্তিক থেকেই আলো কাড়া এই ক্রিকেটার। এমন পরিস্থিতিতে দলে থাকা তার উপর চাপ আরও বাড়াবে কিনা জানা যাবে সময়ের সাথে সাথে। তবে তার আগেই নির্বাচকদের এমন সিদ্ধান্ত জন্ম দেয় অনেক প্রশ্নের, যদি, কিন্তুর!

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

‘০’ হাতে ফিরলেন সৌম্য সরকার

Read Next

থ্রো করতে না পারারাও আছে জাতীয় দলে!

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
3
Share