ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে চুল ছেঁটে ধরেছিলেন ছেলের বেশ

শেফালী ভার্মা

গতমাসেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেক দিয়ে নাম লেখান ভারতের সর্বকনিষ্ঠ নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার হিসেবে। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ভার‍ত নারী দলে সুযোগ পাওয়া ব্যাটার শেফালী ভার্মার শুরুর জীবনটা মসৃন ছিলনা, একজন মেয়ে হয়ে ক্রিকেটে আসার ক্ষেত্রে পাড়ি দিতে হয়েছে অনেক চড়াই উতরাই। এমনকি চুল ছেঁটে ফেলে ছেলেদের বেশ ধরে নিতে হয়েছিল ক্রিকেট দীক্ষা।

শেফালী ভার্মা
শেফালী ভার্মা

আন্তর্জাতিক অভিষেকের পরেই লাইমলাইটে আসেন শেফালী ভার্মা। তার চড়াই উতরাইয়ের গল্প শোনালেন বাবা সঞ্জীব ভার্মা। শেফালী ভার্মার ক্রিকেট হাতে খড়ির গল্প শোনাতে গিয়ে জানিয়েছেন মেয়ে বলে পাড়ার দলগুলোতে খেলার সুযোগ পেতনা শেফালী।

মূলত ব্যথা পাবে বলেই পাড়ার অন্যরা দলে নিতনা উল্লেখ করে জুয়েলার্সে কাজ করা সঞ্জীব ভার্মা বলেন, ‘শেফালীর ক্রিকেট আগ্রহ আমাকে মুগ্ধ করে। আমি ওকে প্রতি রোববার পাড়ায় ক্রিকেট খেলতে নিয়ে যেতাম যখন ওর বয়স ৮/৯। কিন্তু মেয়ে বলে তাকে ছেলেরা দলে নিতনা, কারণ যদি সে ব্যথা পায়। আমি এমনও বলেছি আমি ওর বাবা, ব্যথা পেলে পাক সমস্যা নাই। তবুও তারা নিতনা।’

বাধ্য হয়ে মেয়েকে বয় কাট দিয়ে ছেলেদের মত করে নিয়ে যেতেন মাঠে, ‘যখন দেখলাম শুধু মেয়ে বলে তার ক্রিকেট খেলা হচ্ছেনা তখনই ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে হয় আমাকে। তার চুল ছেঁটে বয় কাট দিই, ৮/৯ বছর বয়সে চুল ছেঁটে ফেললে ছেলে কি মেয়ে বোঝাটা দুষ্কর। এরপর থেকে সে খেলার সুযোগ পেত।’

শেফালী ভার্মা

কিন্তু কিছুটা বড় হওয়ার পর তার ক্রিকেটের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন হয়। মেয়েকে ক্রিকেটার বানানোর যে স্বপ্ন সঞ্জীব ভার্মা দেখেছেন তাতো বিফলে দেওয়া যায়না। তবে সেখানেও বিপত্তি মেয়েদের কোচিং করায় এমন ক্রিকেট একাডেমিই পাওয়া যাচ্ছিলনা।

পরের গল্পটা সঞ্জীবের মুখেই শোনা যাক, ‘শহরে মেয়েদের কোচিং করায় এমন কোন একাডেমি পাওয়া যাচ্ছিলনা। সব একাডেমিই তাকে প্রত্যাখ্যান করে। শেষে একটা পাওয়া গেল যেটা ছেলে মেয়ে উভয়কেই ক্রিকেট শেখায়। কিন্তু সেটা আমাদের বাসা থেকে ৮ কি.মি.দূরে। ফলে শেফালীকে সাইকেল চালিয়ে সেখানে আসা যাওয়া করতে হত।’

সব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সেই গায়ে চাপিয়েছেন ভারতের জার্সি, পূরণ করেছেন বাবা সঞ্জীব ভার্মার স্বপ্ন। তবে এবার নতুন স্বপ্ন বুনা শুরু করেছেন সঞ্জীব, ‘আমার ১৭ বছর বয়সী ছেলে ও ৬ বছর বয়সী আরেক মেয়েও ক্রিকেট খেলার মধ্যেই আছে। শেফালী তাদের অনুপ্রেরণা। আমি আশা করি একদিন তারাও সফল হবে। আর শেফালীও লম্বা সময় ধরে ভারতের হয়ে খেলবে এবং ভারত নারী দলের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী দলে থাকবে।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

গেইল রাসেলদের কোচ হওয়ার দৌড়ে থাকা তিনজনই ক্যারিবিয়ান

Read Next

‘দ্যা হান্ড্রেড’ এর প্লেয়ার্স ড্রাফটে ‘৬’ বাংলাদেশী

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Total
0
Share