অভিমানেই বিদায় নিলেন ‘ফাহিম স্যার’, ছিলনা কাজের পূর্ণ স্বাধীনতা

নাজমুল আবেদিন ফাহিম রাবিদ ইমাম নিজাম উদ্দিন চৌধুরী

একজন নাজমুল আবেদীন ফাহিম বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাথে কতটা ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখেনা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে খবরের শিরোনাম হয়েছেন ক্রিকেট বোর্ডের সাথে ১৪ বছরের সম্পর্কটা ইতি টানছেন বলে। কদিন আগেই জানিয়েছেন ইস্তফা দেওয়ার কারণ নিয়ে কথা বলবেন বিসিবি থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের পর। আজ (৩০ সেপ্টেম্বর)  শেষবারের মত বিসিবিতে অফিস করেছেন সাকিব-মুশফিকদের ফাহিম ‘স্যার’, শেষবারের মত অফিস শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জানিয়েছেন এতদিনের সম্পর্কটা ইতি টানার কারণ।

নাজমুল আবেদিন ফাহিম রাবিদ ইমাম নিজাম উদ্দিন চৌধুরী

জাতীয় লিগ নিয়ে বোর্ড সভা শেষে  সদ্য সাবেক হওয়া নারী দলের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে সামনে রেখে কেক কাটেন বিসিবি কর্তারা, ফুল দিয়ে শুভকামনা জানানো হয় ভবিষ্যত জীবনের জন্যও। তবে সন্ধ্যা ৬ টার পর দীর্ঘদিনের কর্মক্ষেত্র থেকে স্থায়ী বিদায়ের আগে নাজমুল আবেদীন নিজ থেকে দেখা করেন বিসিবির সকল কর্মচারীদের সাথে, গাড়িতে ওঠার আগে চোখে মুখে আবেগের ঝলকানি।  বিসিবি কার্যালয়ের নিচে আলো আধারির অদ্ভুত খেলায় জনা দশেক সাংবাদিকদের সামনে আবেগ জড়ানো চাহনিতে নিরবে নিলেন বিদায়।

অথচ এভাবে অভিমানে ছেড়ে যাবেন প্রিয় জায়গা কেইবা ভেবেছিল? বিদায় প্রসঙ্গে নাজমুল আবেদীন জানান, ‘অবশ্যই আমার ১৪ বছরের কাজের ক্ষেত্র। লম্বা সময়, অনেক চড়াই উতরাই পার করে এখানে আসা। ভালো সময়ও কেটেছে খারাপ সময়ও কেটেছে সব মিলিয়ে। অনেকগুলো কারণ আছে, আমি মনে করি অন্যতম কারণ আমি যেসব কাজ করার উপযোগী সেসব কাজ করার সুযোগটা এখানে নেই।’

নাজমুল আবেদিন ফাহিম রাবিদ ইমাম নিজাম উদ্দিন চৌধুরী

পরের কথাগুলোতেই স্পষ্ট নিজের কর্ম ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করতে না পারার কষ্টও ছিল সাকিব -তামিমদের এই গুরুর, ‘আমার ধারনা আমি আরও ৫-৭ বছর কাজ করতে পারবো। এ সময়টা আমি আরও ভালো কাজে লাগাতে চাই। সেটা মাথায় রেখেই আমার বের হয়ে আসা। আমি আশা করছি বাইরে হয়তো কিছু কাজের ক্ষেত্র আমি পাবো যেখানে সারাসরি ক্রিকেটারদের দেখতে পারবো, আরও সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে পারবো, আরও সরাসরি প্ল্যান-প্রোগ্রাম করতে পারবো অন্য জায়গায়। ‘

গুঞ্জন ছিল বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগ থেকে নারী দলের দায়িত্ব দেওয়াতেই অসন্তুষ্ট বিসিবির বহু পুরোনো এই কর্মকর্তা। কিন্তু তিনি নিজে বলছেন ভিন্ন কিছু, ‘উইমেন্স টিম নিয়ে আমার কোন অভিযোগ নেই। উইমেন্স টিমেও কাজ করার ভালো একটা সুযোগ ছিল। আমরা দেখেছি মেয়েরা ভালো খেলা শুরু করেছে এখনো ভালো করছে। ভালো খেলতে পারলে ছেলে হোক মেয়ে হোক বিষয়না।  যেকোন ক্ষেত্রেই কাজের সন্তুষ্টি পাওয়া যায়, সন্তুষ্টি আমারও ছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে ওই জায়গাটাতেও আমার কাজের পরিধি ছোট হয়ে আসে।’

আসলে কি ধরনের সমস্যা হচ্ছিল,  আরেকটু স্পষ্ট করে জানতে চাইলে তিনি বলেন,’বোর্ড মনে করেছে একজন নতুন টিম ম্যানেজার নিবে বা বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটাররা কীভাবে বেড়ে উঠবে? সেক্ষেত্রে আরও কিছু মানুষের যুক্ত হওয়া দরকার, ফলে আমার কাজ করার যে সুযোগ ছিল, পরিধি বড় ছিল সেটা আস্তে আস্তে কমে আসছিল। এটা বোর্ডকে দোষী করছিনা তারা হয়তো সঠিক ছিল। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে মনে হয় আমি হয়তো আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারতাম, আমার আরও কিছু দেওয়ার ছিল। সেজন্যই বেরিয়ে আসা, আমি আরেকটু বড় পরিসরের কিছু করতে পারবো।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বিপ টেস্টের ক্ষেত্রে মানা হচ্ছেনা ক্রিকেটারদের দাবি দাওয়া!

Read Next

জয়সুরিয়া-শানাকার অমন জুটির পরেও জয় পাকিস্তানের

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Total
0
Share