পেসারদের চোটের কারণ তাহলে এই!

তাসকিন ইয়াসিন আরাফাত মিশু

এমনিতেই বাংলাদেশের মত কন্ডিশন থেকে  পেসার উঠে আসা কঠিন ব্যাপার। তবুও যারা আসে তাদের বেশিরভাগই জাতীয় দলে থিতু হতে না হতেই চোটে জর্জরিত হয়ে ছিটকে যায়। চলে পুনর্বাসন জয় করে ফিরে আসার যুদ্ধ, মাশরাফি থেকে হালের সাইফউদ্দিন চোট যেন বাংলাদেশের পেসারদের নিত্যসঙ্গী।

ইয়াসিন আরাফাত মিশু
ছবিঃ বিসিবি

মাত্রই জাতীয় দলে ডাক পাওয়া তরুণ ইয়াসিন আরাফাত মিশুতো ম্যাচ খেলার আগেই ছিটকে গেলেন, বাংলাদেশের পেসারদের এমন চোটে পড়ার পেছনে কারণ কি?  বিসিবির প্রধান চিকিৎসক উদঘাটন করেছেন পেছনের কারণ।

জাতীয় লিগের আসন্ন আসর সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতে ব্যস্ত বেশিরভাগ ক্রিকেটার। অথচ অনুশীলনতো দূরে থাকা মিরপুরে দেখাই মিলেনা বাংলাদেশের পেস আক্রমণের দায়িত্বে থাকা অনেককেই। গতকাল (২৯ সেপ্টেম্বর) মধ্য দুপুরে দেখা মিলে তাসকিন আহমেদ ও ইয়াসিন আরাফাত মিশুর। তবে বোলিং অনুশীলন নয় এসেছেন চোট পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে ফিজিওর পরামর্শে কেবলই রানিং সেশন করতে। ওদিকে রুবেল হোসেনকে নিয়ে আছে শঙ্কা, সাইফউদ্দিন যেকোন সময় চিকিৎসার জন্য উড়াল দিতে পারেন ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে। পিঠের ব্যথায় বেসামাল সাইফ উদ্দিনের আজ-কালের মধ্যে করানো হবে সিটি স্ক্যান।

চোটে আক্রান্ত ক্রিকেটারদের নিয়ে রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর)  দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী।  কথা বলার ফাঁকেই জানালেন বাংকাদেশের পেসারদের দুরাবস্থার কারণ, ‘এটার প্রথম কারণ সব পেস বোলারদের মধ্যেই আমরা যেটা লক্ষ্য করছি কমন বিষয় হল ওদের যখন বয়স কম ছিল ১২/১৩/১৫ তখন ওদের ট্রেনিং পদ্ধতিটা ঠিক ছিলনা।’

দেবাশীষ চৌধুরী
দেবাশীষ চৌধুরী

বিশেষ করে একদম তৃনমুল পর্যায় থেকে উঠে আসা ক্রিকেটারদের পর্যাপ্ত ট্রেনিং ও নির্দেশনা না পাওয়াকেও দায়ী করছেন দেবাশীষ চৌধুরী।  তিনি যোগ করেন, ‘ওয়ার্ক লোড ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতিটা আমার মনে হয় ঘাটতি ছিল। জেলা বা উপজেলা পর্যায় থেকে যখন একটা খেলোয়াড় উঠে আসে প্রাথমিকভাবে তার রক্ষণাবেক্ষণ, নিউট্রিশিয়ান থেকে শুরু করে বোলিং টেকনিক,  খেলোয়াড়ি আনুসাঙ্গিক বিষয়গুলোতে শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া আমাদের দেশে সম্ভব হয়ে ওঠে না।’

এর বাইরেও কিছু কারণ তুলে ধরেন দেবাশীষ চৌধুরী, তবে বয়সভিত্তিকে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না পাওয়াই মূল কারণ উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ধরণের খেলোয়াড়েরা ২০ বছর বয়সে আসে তখন তারা অনূর্ধ্ব ১৯ বা জাতীয় দলে খেলতে এসে দেখা যায় ৫-৭ বছরের ব্যাক পেইন নিয়ে ঘুরছে। তার মানে সে ১২/১৩ বছর বয়স থেকেই এটা বয়ে বেড়াচ্ছে, যা বুঝায় ওয়ার্ক লোড ম্যানেজমেন্টে তার যে ঘাটতি ছিল সে ব্যাপারটা। এটা একটা স্বাভাবিক বিষয়, এছাড়াও কিছু প্লেয়ার থাকে তারা ন্যাচারালি ট্যালেন্ট তবে ফিটনেস নিয়ে সচেতন নয়। আবার মাঠের গঠনেও অনেক সময় সমস্যা হয়, দেখা যায় একই মানের মাঠে খেলা হচ্ছেনা।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লো সিঙ্গাপুর!

Read Next

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে থাকছে রোবটিক, জিব, ড্রোন ক্যামেরা

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Total
0
Share