‘বিপ টেস্ট’ নিয়ে যা বললেন আশরাফুল-রুবেল-শুভাগত

বিপ টেস্ট

জাতীয় লিগের আসন্ন আসর শুরুর সম্ভাব্য সময় আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ। চূড়ান্ত ঘোষণা দিন কয়েক পরে আসবে, তবে একাডেমি মাঠে ব্যস্ততা বেড়েছে ক্রিকেটারদের। এবার ফিটনেস টেস্ট উতরানোর পরই খেলার সুযোগ পাবেন ক্রিকেটাররা এমন নিয়মের পর বেশ শঙ্কায় বয়সের দিক থেকে সিনিয়ররা, ব্যাপারটাকে ইতিবাচক হিসেবে নিলেও পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না পাওয়াদের জন্য কঠিনই হবে মানছেন অনেকেই।

বিপ টেস্ট

ফিটনেস টেস্ট দিয়ে খেলার নিয়ম আগে থেকেই ছিল, তবে মানদন্ডটা শিথিল থাকার ফলে এটা নিয়ে বাড়তি কোন আলোচনা হয়নি। এবার লিগ শুরুর আগেই প্রধান নির্বাচক জানিয়ে দিয়েছেন বিপ টেস্টে পেতে হবে অন্তত ১১। আর এতেই নতুন আলোচনায় মোড় নিয়েছে বিপ টেস্ট, জাতীয় দলের তরুণরাই যেখানে ৯ এর আশে পাশে স্কোর পায় সেখানে ৩৫ পেরোনো ক্রিকেটারদের কি হবে? পুরোনোদের বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে এমন মন্তব্যও করেছে ক্রিকেটাররা।

তবে আজ (২৬ সেপ্টেম্বর) একাডেমি মাঠে অনুশীলনে আসা বেশিরভাগ ক্রিকেটারই কথা বলেছেন একই সুরে। মূলত পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা থাকলে এই স্কোর অসম্ভব নয় বলেই মন্তব্য তাদের। বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল বলছেন, ‘বিপ টেস্ট নিয়ে যেটা বললেন, মূলত যে মানদন্ডটা দেওয়া হয়েছে। আগের বার ৯ ছিল এবার ১১, এটা নিয়ে আমরা যারা ঘরোয়া খেলি তাদের মধ্যে আলোচনাও হচ্ছে যে ১১ কীভাবে। আসলে আমরা যদি যথাযথ সুযোগ সুবিধা অফ সিজনেও পেতাম আমার মনে হয়না ১১ দেওয়াটা কোন ব্যাপার, গত বছর আমিও ১১.৪ দিয়েছি। যারা জাতীয় দল কিংবা এইচিপি তে জায়গা পাইনা তাদের জন্য আসলে একা একা অনুশীলন খুব কষ্টকর।’

মোহাম্মাদ আশরাফুল
ফাইল ছবি সংগৃহীত

স্কোরের মানদন্ড নিয়ে প্রশ্ন না তুললেও জাতীয় লিগ শুরু আগে কন্ডিশনিং ক্যাম্পের সময়টা আরও বেশি হলে সুবিধা হত বলে মনে করেন ঘরোয়া লিগের নিয়মিত মুখ মোশাররফ রুবেল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য ১৫ দিন কিংবা একমাসের ক্যাম্প হলে ভালো হত। এবার যেহেতু সম্ভব না আমি আশা করবো ভবিষ্যতে সেটা হবে। কন্ডিশনিং ক্যাম্প হলে প্রত্যক বিভাগ আলাদা আলাদা করে প্রস্তুতি নিলে সেটা আমাদের জন্য টিকে থাকতে সুবিধা হবে, আমি আশা করি পরের আসর গুলোতে এরকম কিছু হবে।’

ঘরোয়া ক্রিকেটের আরেক নিয়মিত মুখ অলরাউন্ডার শুভাগত হোমের অভিযোগও একই। পর্যাপ্ত ক্যাম্প করতে না পারা ক্রিকেটাররা কতটুকু দিতে পারবে এ নিয়েও রয়েছে তার সংশয়, ‘আমাদের জন্য এটা একটু কষ্টকর, আমরা যারা জাতীয় দলের বাইরে আছি তারা ক্যাম্প করতে পারছিনা। শেষ মুহুর্তে জাতীয় লিগ শুরুর আগে ৫-৭ দিনের একটা কন্ডিশনিং ক্যাম্প হয় এটা দিয়ে কতটা উন্নতি করা সম্ভব জানিনা। তবে আমরা চেষ্টা করছি এই ৫-৭ দিনের ক্যাম্পে যতটা উন্নতি করতে পারি।’

বিপ টেস্টটা আসলে কী? ‘মূলত ব্যাট, বল বা প্যাড নিয়ে ক্রিকেটারদের দম বিচার করাই বিপ টেস্টের কাজ। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জানা যায় কি পরিমাণ অক্সিজেন একজন ক্রিকেটার নিতে পারে, যা ক্রিকেটারদের প্রাণশক্তির নির্ণায়ক হতে পারে।’

যা মূলত, ফিটনেস ক্যাম্পে ২০ মিটারের শাটল রানিংয়ের মাধ্যমে নির্ণায়ক করা হয় একেকজন ক্রিকেটারের বিপ টেস্টের ফলাফল। যেকোন ক্যাম্প শুরুর প্রথমদিন ক্রিকেটারদের বিপ টেস্টে কম পয়েন্ট আসে। সময় গড়ানোর সাথে সাথে ফিটনেস নিয়ে আরও কাজ করার মধ্য দিয়ে যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে তা। যার ফলে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ক্যাম্প শেষে ফলাফলে আরও উন্নতি লক্ষ্য করা যায়।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

ফেসবুকের সাথে চার বছর মেয়াদী চুক্তি করলো আইসিসি

Read Next

বোর্ডের সিদ্ধান্তে ইতিবাচক আশরাফুল, মোশাররফ তবে সংশয় আছে শুভাগত হোমের

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Total
0
Share