লখনৌতে সিরিজ হার নিশ্চিত হলো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের

বাংলাদেশ ভারত

পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরেছিলো সফরকারী বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। পরের ম্যাচ জিতে আবার তৃতীয় ম্যাচ হেরেছে সাইফ হাসানের নেতৃত্বাধীন দল। সিরিজে টিকে থাকতে আজ চতুর্থ ম্যাচে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে জয় ছাড়া উপায় ছিলো না। এমন ম্যাচে ৪ উইকেটের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল।

২০২ রানের সহজ লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-২৩ দল। দ্বিতীয় ওভারেই শফিকুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন আরিয়ান জুয়েল। তৃতীয় ওভারে রান আউট হয়ে ফেরেন তিনে নামা সম্রাট ভিয়াস। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৪০ রান যোগ করেন ইয়াশাসভি ভুপেন্দ্র জাইসাওয়াল ও অধিনায়ক প্রিয়ম গার্গ। ২৪ বলে ১ চারে ১৫ রান করে সুমন খানের বলে আউট হন জাইসাওয়াল।

বাংলাদেশ ভারত

এরপর থেকে বি আর শরৎ (১৯), কুমার সুরাজ (১০), শুভাং হেগড়ে (২১), শেঠদের (৫*) সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজটুকু সারেন অধিনায়ক প্রিয়ম গার্গ। ১১৮ বলে ১২ চার ও ১ ছয়ে ১১১ রান করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তিনি।

৭.৪ ওভার ও ৪ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। ৪ ম্যাচের মধ্যে ৩ ম্যাচ জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে প্রিয়ম গার্গের দল। ২৭ সেপ্টেম্বরের ম্যাচ এখন কেবলই নিয়মরক্ষার।

এর আগে লখনৌ এর ভারতরত্ন শ্রী অটল বিহারি বাজপায়ি একানা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের অধিনায়ক সাইফ হাসান।

আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও ওপেনিংয়ে নেমে ব্যর্থ হন মেহেদী হাসান। দলীয় ১৪ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ২ রান করে শেঠের বলে তাঁকেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। তিনে নামা ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি ১ রানের বেশি করতে পারেননি। ৫ বল খেলেও কোন রান না করতে পারা জাকির হাসান আর্শদ্বীপ সিংয়ের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন।

৭ম ওভারেই ২২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ইনিংস মেরামতের কাজ চালাতে চেষ্টা করেন ওপেন করতে নামা অধিনায়ক মোহাম্মদ সাইফ হাসান। তবে তিনি সেই চেষ্টা বেশীক্ষণ চালাতে পারেননি। আরিফুল হকের সঙ্গে ৩৩ রানের জুটি গড়ে ফেরেন শুভাং হেগড়ের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। ৪১ বলে ৪ চারে ২৭ রান করেন সাইফ।

পঞ্চম উইকেট জুটিতে আরিফুল হক ও আল আমিন জুনিয়র মিলে ৫৬ রান যোগ করেন। যেখানে ৪০ রানই আল আমিনের। শুরুতে ধীরে শুরু করা আল আমিন পরে রান তোলার গতি বাড়াতে যেয়ে আউট হন। ৫৫ বলে ২ চার ও ১ ছয়ে ৪০ রান করে ফেরেন তিনি। আল আমিন ফিরে যাবার পর খুব বেশীক্ষণ টেকেননি আরিফুল হক। ৭৬ বল স্থায়ী ইনিংস থামে শেঠের বলে জাইসাওয়ালকে ক্যাচ দিয়ে। ২ চারে ৪৪ রান করেন আরিফুল।

৩৪ তম ওভারের শেষ বলে যখন আরিফুল হক আউট হন দলের রান তখন ৬ উইকেটে ১২৬। ১৫০ এর আগেই অলআউট হবার শঙ্কা জেঁকে বসেছিলো। তবে সে শঙ্কা উড়িয়ে দেন আগের ম্যাচে ব্যাট হাতে একা লড়াই করা (৫০) মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। এদিনও ফিফটি তুলে নেন তিনি। ৭৩ বল খেলে ১ টি করে চার ও ছয়ে ৫১ রান করে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন তিনি। অঙ্কনকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন রবিউল হক। ৩৮ বল খেলে ১ চারে ২৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

৭ম উইকেট জুটিতে এই দুইজন মিলে ১৬ ওভারে করেন হার না মানা ৭৫ রানের জুটি। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০১ রান স্কোরবোর্ডে জমা হয় সফরকারীদের।

Shihab Ahsan Khan

Shihab Ahsan Khan, Editorial Writer- Cricket97

Read Previous

টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের র‍্যাংকিংয়ে জাজাই-মাসাকাদজা-সাকিবদের উন্নতি

Read Next

সিপিএল খেলতে দেশ ছাড়লেন লিটন দাস

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Total
0
Share