বড় দলগুলোর বিপক্ষে আরও বেশি ম্যাচ চায় আফগানিস্তান

আফগানিস্তান রাশিদ খান

বিশ্ব ক্রিকেটে নবাগত আফগানরা প্রতিনিয়ত দেখিয়ে যাচ্ছে ঝলক। সাফল্যের ছাপ রেখেই অর্জন করে নিয়েছে টেস্ট স্ট্যাটাস, অনভিজ্ঞ দল হয়ে খেলছে দুর্দান্ত টেস্ট মেজাজে, সাফল্যও দিয়েছে ধরা। তবে সবশেষ বিশ্বকাপে প্রত্যাশার বেলুনে হাওয়া দিয়েও নিমিষেই মিলিয়ে গেছে বাজে পারফরম্যান্সে। লড়াই করলেও কোন ম্যাচ না জিতেই ফিরেছে বাড়ি। বিশ্বকাপ শেষে অধিনায়কত্ব বদলে আবারও ফিরেছে পথে, তবে কি অধিনায়ক বদলে ছিল সমস্যা?

রাশিদ খান

আফগান কাপ্তান রাশিদ খান বলছেন ভিন্ন কথা, মূলত অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ডের মত দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত খেলতে না পারেকেই করেছেন দায়ী, ‘আমরা ইতোমধ্যে পথে আছি, বিশ্বকাপেও ভালো পারফরম্যান্স করেছি। কিন্তু আমরা হয়তো ভালোভাবে ম্যাচ ফিনিশ করতে পারিনি, শেষ ৫ ম্যাচে আমরা হেরেছি শেষের ১০ ওভারে। আমরা এখন ব্যাটিং, বোলিংয়ে মোমেন্টাম পেয়েছি, মূলত আপনাকে ফিনিশিংটা ঠিকঠাক দিতে হবে। আপনি যত খেলবেন তত শিখবেন, দেখেন আমরা গত ৫ বছরে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের সাথে আমরা দুটো ম্যাচ খেলেছি।’

বড় দলগুলোর সাথে বেশি বেশি ম্যাচ খেলার প্রসঙ্গে বাংলাদেশের উদাহরণ টেনে আরও যোগ করেন, ‘ওই পাঁচ বছরে তাদের সাথে আরও বেশি খেলতে পারলে ফলটা ভিন্নও হতে পারতো। উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের কথাই ধরা যাক, তারা প্রতিবছরই দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে খেলছে। বিশ্বকাপে এর ফলও পেয়েছে,বড় দলগুলোকে হারিয়েছে। আপনি বড় দল হতে হলে বড় দলগুলোর সাথে খেলতে হবে, চার বছরে এক ম্যাচ খেললে সেটা কাজে দিবেনা। তাদের চারজন পেসার থাকে ১৪০+ গতিতে বল করে, সেক্ষেত্রে এদের বিপক্ষে আপনাকে খেলেই অভ্যস্ত হতে হবে। আমরা স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ডের সাথে নিয়মিত খেলি যারা নিজেরাও ১৪০+ গতির বোলার খুঁজে চলেছে। আসলে এসব পরিবর্তন এক দুই সিরিজেই হয়ে যাবেনা।’

আফগানিস্তান
ফাইল ছবি

রাশিদ খানকে বলা হয়ে থাকে বিশ্ব ক্রিকেটেরই বিস্ময় বোলার। আফগানিস্তানের মত দল থেকে উঠে এসে খেলছেন দাপটের সাথে। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টির পাশাপাশি নিজেদের নতুন সংযোজিত ফরম্যাট টেস্টেও ধারাবাহিকভাবে করছেন পারফর্ম। কৌশল সম্পর্কে বলতে গিয়া জানান, ‘আমি আমার বোলিংয়ে কোন পরিবর্তন করিনি। শুধু চেষ্টা করেছি যেটা আমি পারি, কোন ফরম্যাটে খেলছি সেটা আমি চিন্তা করিনা। টেস্ট ক্রিকেটের ক্ষেত্রে আমি যেটা ভাবি অনেক সময় এখানে উইকেট পেতে ৫ ঘন্টাও অপেক্ষা করতে হতে পারে, আবার দেখা যায় এক ঘন্টায় আমি দুই-তিনটিও পেয়ে যাচ্ছি, মূলত মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত রাখাই আমার কাজ, নিজের উপর চাপ সৃষ্টি করিনা। এই যেমন আমি এক ঘন্টায় ৫-৬ উইকেট পেয়ে যাবো কিংবা নিতে পারি, আমি ইতোমধ্যে মুরালিধরন ও শেন ওয়ার্নের সাথে টেস্টে মানসিক প্রস্ততির ব্যাপারে কথা বলেছি। তারা দুজনেই আমাকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা থেকে সরে না আসার পরামর্শ দিয়েছে, যেকোন পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার কথাও বলেছেন। সঠিক জায়গায় লাইন-লেন্থ বজায় রাখাতেই আমার মনযোগ।’

আন্তর্জাতিক আঙ্গিনায় আফগানদের উত্থানের পরই নিয়মিত খেলছেন বাংলাদেশের সাথে। নিজেদের ক্রিকেট উন্নতিতে বাংলাদেশের সাথে খেলার আগ্রহটা কেমন তাদের? এমন প্রশ্নে রাশিদ বলছেন আরও বেশি ম্যাচ চান বাংলাদেশের সাথে, ‘অবশ্যই, দেশের লোকজন চায় আমরা বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলি, এখানকার লোকজনও চায় আফগানিস্তান বেশি পরিমানে খেলুক। আমরা সংক্ষিপ্ত সিরিজ চাইনা, বড় সিরিজই প্রত্যাশা আমাদের। বিশেষ করে টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেট, আমি মনে করি ক্রিকেট বোর্ড এটা নিয়ে ভাবছে। মূলত আমাদের নজর ওয়ানডে ও টেস্টে, এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ নয়, অন্তত তিন ম্যাচ সিরিজ, এখানে লম্বা সময় থাকে, ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয় অনেক কিছু শেখা যায়, ভিন্ন প্রতিভাও খুঁজে পাওয়া যায়।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে মুজিবের লম্বা লাফ

Read Next

টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের র‍্যাংকিংয়ে জাজাই-মাসাকাদজা-সাকিবদের উন্নতি

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Total
0
Share