আফগানদের সফলতার রহস্য জানালেন রাশিদ খান

রাশিদ খান

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের নতুন পরচিয় রাশিদ, নবিদের দেশ। ক্রিকেট দিয়ে বিশ্ব দরবারে নিজেদের তুলে ধরছে রাশিদ, নবি, মুজিবরা। এমন কঠিন পরিস্থিতি ও পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না পেয়েও কীভাবে একটা দল এভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারলো? রহস্যটাই কি? ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল পূর্বদিন সংবাদ সম্মেলনে আজ (২৩ সেপ্টেম্বর) সে গল্পই শোনালেন আফগান দলপতি, কথা বলেছেন দলের ফাইনাল জয়ের মন্ত্র নিয়েও।

মাঠের ক্রিকেটে নিজেদের প্রমাণ করেই আফগানরা আজ বিশ্বক্রিকেটে নিজেদের নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। ব্যাটিং, বোলিং অলরাউন্ডার সবই দলটিতে পর্যাপ্ত পরিমানে আছে। বাংলাদেশের মত দল যখন এখনো তিন ফরম্যাটে আলাদা ক্রিকেটার খুঁজে দিশেহারা তখন টেস্টে ক্রিকেটে একদমই নবাগত আফগানরা সাজিয়ে ফেলেছে ফরম্যাট বিবিচনায় তাদের আলাদা আলাদা ক্রিকেটার। সুযোগ সুবিধার অভাবের পরও এত ভালো মানের ক্রিকেটার কীভাবে উঠে আসে দলটিতে, আগগান কাপ্তান জানালেন রহস্য!

রাশিদ খান

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে আফগান দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা রাশিদ খান বলছেন, ‘এখানে ন্যাচারালি খেলোয়াড় তৈরি হয়। আপনারা জানেন আমাদের খুব বেশি সুযোগ সুবিধা ছিলনা, পর্যাপ্ত মাঠ ছিলনা, যারা এসেছে সবাই ন্যাচারালি নিজেদের প্রমাণ করে এসেছে। দেখেন আমাদের ব্যাটিং, বোলিং সব বিভাগেই ক্রিকেটার তৈরি হয়েছে। এখন আমাদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে, মাঠের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকগুলো মাঠ তৈরি হচ্ছে। কিন্তু ক্রিকেটাররা এসব নিয়ে ভাবতো না, তারা কি সুবিধা পাচ্ছে কি পাচ্ছেনা। তারা সবসময় প্রস্তুত থাকতো নিজেদের প্রমাণের জন্য, যেটা তারা ন্যাচারালি অর্জন করেছে।’

ঢাকায় পরপর দুই ম্যাচ জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে সিরিজের ফেভারিট আফগানিস্তান। কিন্তু সাগরপাড়ের শহর চট্টগ্রামে গিয়েই যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে রাশিদ খানরা, হেরেছে দুটো ম্যাচেই। ফাইনালের আগে টানা দুই হার মানসিকভাবে পিছিয়ে দিবে কিনা আফগানিস্তানকে, এমন প্রশ্নে রাশিদ উত্তর দিয়েছেন যুক্তি দিয়ে, ‘চট্টগ্রামে আমরা দুটো ম্যাচ হেরেছি টানা। তবে খেলা এখন ঢাকায় ফিরেছে। আর এখানে আমরা টানা দুটো জিতেছি। এটারই পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাই।’

এমনিতেই দল হিসেবে টি-টোয়েন্টির উপরের সারির দলই আফগানিস্তান। র‍্যাংকিংয়ে ইতোমধ্যে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার মত দলকে। ফাইনালের মত গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচের আগে নিজেদের ফেভারিট ভাবতেই পারে আফগানিস্তান। তবে সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে সরাসরি কিছু না বলে উত্তর দিয়েছে কৌশলে, ‘আপনারা দেখেছেন গত তিন-চার বছর আমরা নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলেছি, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে। নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারলে আমরা যেকোন প্রতিপক্ষকেই হারানোর সামর্থ্য রাখি। আমাদের মন্ত্র হল খেলাটা উপভোগ করা যতটা সম্ভব রিল্যাক্স থাকা যায়। প্রতিপক্ষ নিয়ে না ভেবে নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে যে কাউকেই হারানোর সামর্থ্য আমাদের আছে।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

ফাইনালে বিপ্লবের খেলার সুযোগ দেখছেন না কোচ

Read Next

শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে আইসিসির শাস্তি পেলেন কোহলি

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Total
0
Share