মিরপুরে বাংলাদেশের লজ্জাজনক পরাজয়

মুশফিকুর রহিম আফগানিস্তান

ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ও নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ রবিবার শক্তিশালী আফগানিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ব্যাটে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬৪ রানের বড় সংগ্রহ জমা করে আফগানিস্তান। জবাবে টপ-অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ১৩৯ রানে অল আউট বাংলাদেশ। ২৫ রানের জয় পায় আফগানিস্তান।

শেষ ওভারে দলের ব্যাটসম্যানদের লজ্জা দিয়ে ৬ বলে ১ ছয় ও ২ চারে ১৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। মুস্তাফিজ ধরা পড়লেন বাউন্ডারি সীমানায়। বাংলাদেশ অল আউট হয় ১৩৯ রানে। আফগানিস্তান টাইগারদের ২৫ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় জয় পেল।

আফিফ চেষ্টা করে প্যাভিলিয়নে ফিরলেনঃ

আফিফ হোসেন ধ্রব ১০ বলে ১২ করে আউট হন।

সাইফউদ্দিন করলেন মাত্র ২ রান। বাংলাদেশ হারায় ৮ম উইকেট।

মাহমুদউল্লাহ-সাব্বির জুটি গড়েও ব্যর্থঃ 

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ সাব্বির রহমানকে নিয়ে বেশি দেখে শুনেই খেলছিলেন। কিন্তু ৪৪ রান করা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ছয় হাঁকাতে যেয়ে গুলবেদিন নায়েবের বলে ক্যাচ তুলে ফেরেন।

সাব্বির রহমান খেললেন ধীরগতিতে। ২৭ বল মোকাবিলা করা সাব্বির উইকেটে অনেকক্ষণ থেকেও ইনিংস বড় করতে পারলেন না; আরও বিপদ বাড়িয়ে গেলেন দেশের। ২৭ বল খেলা সাব্বিরের ২৪ রানের ইনিংসে ছিলো একটি মাত্র চার।

সাকিবকে ফেরালেন মুজিবঃ

১৩ বলে ২ চারে ১৫ রান করা সাকিব আল হাসান মুজিব উর রহমানের বলে সহজ ক্যাচ তুলেন রাশিদ খানের হাতে। সাকিব আউট হলে বিপদ আরও সামনে আসে বাংলাদেশের।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশঃ

১৬৫ রানের টার্গেটে সবাইকে অবাক করে ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে আসেন মুশফিকুর রহিম; সঙ্গে লিটন কুমার দাস। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই লিটন দাস বাজে শট খেলে সহজ ক্যাচ তুলে ফেরেন ০ রানে। টিকলেন না আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই প্রথম ওপেনিংয়ে নামা ব্যাটসম্যান  মুসশফিকুর রহিম। ফরিদ আহমেদের বলে বাউন্ডারি মারতে যেয়ে হয়েছেন বোল্ড।

অথচ ওয়ানডেতে ছিল বিপরীত চিত্র। ২০০৯ সালে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তামিম ইকবালের সঙ্গে ওয়ানডেতে ওপেনিং এ ব্যাট করতে এসে মুশফিক করেছিলেন ৯৮ রান।

২ ওভারে স্কোরবোর্ডে ১২ রান করতেই বাংলাদেশ হারিয়েছে দুই ব্যাটসম্যানকে।

সাইফউদ্দিনের ৪ উইকেটের পরও আফগানদের বড় স্কোর

আফগান অল-রাউন্ডারের অপরাজিত ৮৪* রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে সফরকারীরা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ১৬৪ রান। মোহাম্মদ নবি ৫৪ বল খেলে ৭ ছয়, ৩ চারে ৮৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

সাইফউদ্দিন বাঁধায় ফিফটি হলো না আজগর আফগানেরঃ

৪০ রান করা আসগর আফগানকে ফিরিয়ে নিজের তৃতীয় শিকার করলেন সাইফউদ্দিন।

সাকিব আল হাসান ৪ ওভার শেষ করেছেন ১৮ রান খরচে; উইকেট শিকার করেন দুইটি।

১২ ওভার শেষে আফগানিস্তানের রান ৪ উইকেটে ৮৩। আসগর আফগান ২৪*, মোহাম্মদ নবী ২৭* রানে ব্যাট করছেন।

সাকিবের দ্বিতীয় শিকার নাজিবউল্লাহ জাদরানঃ

ইনিংসের ৬ষ্ঠ ওভারে সাকিব আল হাসান ৬ বলে ৫ রানে ব্যাট করা নাজিবউল্লাহ জাদরানকে ফেরালেন প্যাভিলিয়নে।

পাওয়ার প্লে’র প্রথম ৬ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তানের রান ৪১*

বাংলাদেশের তিন, সাইফউদ্দিনের দুইঃ

নাজিব তারাকাই আগের বলে হাঁকিয়েছেন ছয়, পরের বলেই তাকে আউট করলেন সাইফউদ্দিন

সাইফউদ্দিন-সাকিব জাদুতে বাংলাদেশের দারুণ শুরু

ইনিংসের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই সাইফউদ্দিনের বাজিমাত। আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজকে বোল্ড করে সাইফউদ্দিন ফেরালেন সাজঘরে। দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে আসেন সাকিব; চতুর্থ বলেই ১ রান করা হযরতউল্লাহ জাজাইকে লিটনের হাতে ক্যাচ বানান সাকিব।

EEgSVOtWkAA 94e

 

টি-টোয়েন্টিতে এর আগে চারবারের দেখাতে তিনবারই জিতেছে আফগানিস্তান। প্রথম দেখায় ২০১৪ সালে জিতেছিল টাইগাররা। তবে সবশেষ তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে নবী, রশিদ খানদের কাছে ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ একাদশঃ সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সাব্বির রহমান, তাইজুল ইসলাম, সাইফউদ্দিন, মুস্তাফিজুর রহমান।

আফগানিস্তান একাদশঃ রাশিদ খান (অধিনায়ক), আসগর আফগান, মোহাম্মদ নবী, হযরতউল্লাহ জাজাই, শরাফুদ্দিন আশরাফ, নাজিবউল্লাহ জাদরান, শহিদউল্লাহ কামাল, ফরিদ আহমেদ মালিক, শফিকউল্লাহ শাফাক, দৌলত জাদরান, নাভিন-উল হক এবং রহমানউল্লাহ গুরবাজ।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বাংলাদেশকে হারালেই রেকর্ড ভেঙে নতুন করে গড়বে আফগানরা

Read Next

‘তাইজুলের যেটা নো-বল হয়েছে, মোমেন্টাম এখানেই চেঞ্জ হয়েছে’

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
53
Share