স্মিথের কাছে বিপর্যস্ত ইংল্যান্ড, অ্যাশেজ যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায়

অস্ট্রেলিয়া টেস্ট

চলতি অ্যাশেজে এক স্টিভ স্মিথের কাছেই বিপর্যস্ত হতে হল ইংলিশদের । নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরেই ব্যাট হাতে শাসন করেছেন ইংলিশদের বোলারদের। মাত্র ৩ টেস্টেই ১৩৪.২০ গড়ে ৬৭১ রান। সদ্য সমাপ্ত ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টেতো একা হাতেই হারিয়ে দিলেন, ইংলিশ কাপ্তান জো রুটতো বলতেই বাধ্য হলেন স্মিথকে সরিয়ে দিন দেখবেন আমরা দু দলই সমানে সমান। ব্যাট হাতে স্মিথের দুর্দান্ত ইনিংসদ্বয়ের পর বল হাতে স্টার্ক, কামিন্স, হ্যাজেলউডে পুড়ে ছারখার রুট, বাটলার , স্টোকসরা।

অস্ট্রেলিয়া টেস্ট

শেষদিনে জয়ের জন্য ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ইংলিশদের প্রয়োজন ছিল ৩৬৫ রান, যা করতে হলে তৃতীয় টেস্টের মত ইংলিশদের ভাঙতে হত আবারও রেকর্ড। কিন্তু লিডস টেস্টের মত বেন স্টোকস আবারও অতিমানবীয় কোন ইনিংস খেলতে পারেননি কিংবা অন্য কারও উপরও সেদিনের স্টোকস ভর করতে পারেনি।

ফলে সঙ্গী হয়েছে বড় লজ্জাই, কিন্তু দিনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যাচ ইনিংস টেনে নিয়ে লড়াইয়ের মানসিকতা দেখিয়েছেন টেল এন্ডাররা। ১৩৮ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর জস বাটলার- জনি বেয়ারস্টো মিলে উইকেটে কাটিয়েছেন ২১ ওভারের বেশি। জুটিতে মাত্র ৩৪ রান যোগ হওয়াতেই স্পষ্ট মাটি কামড়িয়ে সময় পার করাতে কত মনযোগী ছিল ইংলিশরা।

দলের অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন জফরা আর্চার দলীয় ১৭৩ রানে নাথান লায়নের বলে ফিরে যান তখনও দিনের খেলা বাকি প্রায় ২০ ওভারের বেশি। মুহূর্তেই ভেঙ্গে পড়ার কথা ইংলিশদের ইনিংস। কিন্তু পেসার ওভারটন জ্যাক লিচকে নিয়ে চেষ্টা চালিয়েছেন বেশ ভালোভাবেই। দুজনে মিলে কাটিয়েছেন প্রায় ১৫ ওভার। কিন্তু লাবুশানের বলে লিচ ফিরে গেলেই শেষ হয়ে যায় ম্যাচ বাঁচানোর স্বপ্ন।

১২ রান করার পথে এক ঘন্টার বেশি ক্রিজে ছিলেন লিচ, বল খেলেছেন ৫১ টি। লিচের আউট হওয়ার ১ ওভার পরেই শেষ ব্যাটসম্যান হয়ে ফিরে যান ক্রেইগ ওভারটন। ক্রিজে তিন ঘন্টার বেশি সময় পার করা ওভারটন ২১ রান করার পথে খেলেছেন ১০৫ বল। চতুর্থ দিন ১০ রানে অপরাজিত থাকা ওপেনার জো ডেনলির ব্যাট থেকে আসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৫১ রান। এছাড়া জস বাটলার ৩৪ ও জেসন রয় ৩১ রান করেন।

অজিদের হয়ে প্যাট কামিন্স চারটি, জস হ্যাজেলউড ও লায়ন দুটি এবং লাবুশানে নেন একটি উইকেট। ১৯৭ রানে গুটিয়ে যাওয়া ইংলিশদের ১৮৫ রানে হারিয়ে অ্যাশেজ ধরে রাখালো অজিরা। চলতি অ্যাশেজে চারটিতে দুই জয়, একটি করে হার ও ড্র । ফলে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া শেষ টেস্টে হারলেও সিরিজ হবে ড্র কিন্তু আগের আসর জয়ী বলে অস্ট্রেলিয়ার হাতেই উঠবে অ্যাশেজ ট্রফি। ২০০১ সালের পর আবারও ইংল্যান্ড থেকে অ্যাশেজ নিয়ে বাড়ি ফিরবেন স্মিথ-পেইনরা।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

নিজের পুরষ্কার নবি’কে দিয়ে দিলেন রাশিদ খান

Read Next

এতকিছুর পরও স্মিথকে প্রতারকই ডাকছেন ইংলিশ ক্রিকেটার!

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
4
Share