লাইভ রিপোর্টঃ আলোক স্বল্পতায় শেষ হলো তৃতীয় দিনের খেলা

সাকিব বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিন শেষে- আফগানিস্তান ৩৪২ ও ২৩৭/৮, বাংলাদেশ ২০৫/১০; আফগানিস্তান ২ উইকেট হাতে রেখে ৩৭৪ রানে এগিয়ে।

ফ্লাডলাইট বিভ্রাটঃ

দিনের খেলা শেষ হবার কথা ছিলো বিকাল ৫ টায়। আলো কমে যাবার পর ফ্লাডলাইট জ্বালানো হয় (৪ টা ৪০ মিনিটে)। একটু পর ফ্লাডলাইট বিভ্রাটে খেলা বন্ধ হয়, পরে আম্পায়াররা আলো পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে নিশ্চিত হন এই আলোতে খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। দিনের খেলা শেষ হয় তখনই।

সাকিবের তৃতীয় শিকার কায়েসঃ

দিনের শুরুতে নিজের করা প্রথম ওভারেই টানা দুই বলে নিয়েছিলেন দুই উইকেট। তিন নাম্বার উইকেট পেতে অপেক্ষা করতে হলো ১৬ তম ওভার অব্দি। নিজের ১৬ তম ওভারের ৫ম বলে কায়েস আহমেদকে আর্ম ডেলিভারিতে পরাস্ত করেন সাকিব, বল আঘাত হানে কায়েসের ব্যাট ফাঁকি দিয়ে পায়ে। আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার পল উইলসন। কায়েস আহমেদ রিভিউ নিয়েও পার পাননি। ২৬ বলে ১৪ রান নিয়েই সাজঘরে যেতে হয় কায়েসকে।

রাশিদ ঝড় থামালেন তাইজুলঃ

নাইম হাসানের এক ওভারে টানা চারটি চার মারা রাশিদ খান ঐ এক ওভারেই নেন ২০ রান। উইকেটে আসার পর দ্বিতীয় বলেই মেহেদী হাসান মিরাজকে মেরেছিলেন প্রথম চার। ২২ বলে ৬ চারে ২৪ রান করা রাশিদ খানকে বোল্ড করেন তাইজুল ইসলাম।

টেস্টে শেষবারের মতো ব্যাট করলেন নবিঃ

চলমান টেস্টই মোহাম্মদ নবির শেষ টেস্ট। যেখানে প্রথম ইনিংসে কোন রান না করে আউট হওয়া নবি দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হয়েছেন ১৩ বলে ১ ছয়ে ৮ রান করে। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে মুমিনুল হককে ক্যাচ দিয়ে সাদা পোশাকে শেষবারের মতো সাজঘরে ফেরেন নবি।

ইব্রাহিমকে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করলেন নাইমঃ

৮২ রান নিয়ে চা বিরতিতে গিয়েছিলেন ইব্রাহিম জাদরান। টেস্ট অভিষেকেই সেঞ্চুরি পাবার পথেই ছিলেন তিনি। তবে চা বিরতির পর আর ৫ রান যোগ করে আউট হলেন নাইম হাসানের বলে মুমিনুল হককে ক্যাচ দিয়ে। ২০৮ বল স্থায়ী ইনিংসে ৮৭ রান করতে ইব্রাহিম মেরেছেন ৬ টি চার ও ৪ টি ছয়।

সেঞ্চুরির পথে ইব্রাহিমঃ

তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে মাত্র ১ উইকেট হারিয়েছে আফগানিস্তান। সেঞ্চুরির পথে আছেন অভিষিক্ত ইব্রাহিম জাদরান, ৮২ রান করে উইকেটে আছেন তিনি। ৬ উইকেট হাতে রেখে এখন অব্দি ২৯৩ রানের লিড নিশ্চিত করেছে সফরকারীরা।

ফেরানো গেলো আসগরকেঃ

প্রথম ইনিংসে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেছিলেন আসগর আফগান। দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হলেন ঠিক ৫০ রান করে। ১০৮ বলে ৪ চার, ২ ছয়ে ৫০ রান করা আসগরকে লেগ স্লিপে থাকা সাকিব আল হাসানের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তাইজুল। দ্বিতীয় ইনিংসে এটি তাইজুলের প্রথম উইকেট।

ইব্রাহিমের ফিফটি, আফগানিস্তানের ১০০ঃ

অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে আউট হয়েছিলেন ২১ রান করে। দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি তুলে নিলেন ইব্রাহিম জাদরান। নাইম হাসানের বলে ২ রান নিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন ইব্রাহিম জাদরান। আফগানিস্তানও দ্বিতীয় ইনিংসে পার করেছে ১০০ রানের গন্ডি, লিড পার করেছে ২৩০।

জমে উঠেছে আসগর-ইব্রাহিম জুটিঃ

চতুর্থ উইকেট জুটিতে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবার সম্ভাব্য সবকিছু করছেন ইব্রাহিম জাদরান ও আসগর আফগান। দুজন মিলে ইতোমধ্যেই ষাটোর্ধ্ব রানের জুটি গড়ে ফেলেছেন।

দ্বিতীয় দিন লাঞ্চ বিরতি পর্যন্তঃ

আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬/৩ (২৬), ইব্রাহিম ২৪*, আসগর ১৬*; সাকিব ১০-২-২১-২, নাইম ৩-১-৭-১। আফগানিস্তান ৭ উইকেট হাতে রেখে ১৯৩ রানে এগিয়ে। বাংলাদেশকে বড় টার্গেট ছুঁড়ে দেবার পথে রয়েছে টেস্ট ক্রিকেটে নবীন সদস্য আফগানিস্তান।

হাশমতকে ফেরালেন নাইমঃ

গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলো হাশমতউল্লাহ শহীদি ও ইব্রাহিম জাদরানের জুটি। সেই জুটি ভাঙলেন নাইম হাসান। অফ স্পিনারের ট্রেডমার্ক ডেলিভারি করেছিলেন নাইম, হাশমতউল্লাহকে শট খেলতে বাধ্য করেছিলেন। স্লিপে দাঁড়িয়ে শার্প এক ক্যাচ নেন সৌম্য সরকার।

সাকিব আল হাসান

সাকিবের জোড়া আঘাতঃ

আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরু হয়েছে বাজে ভাবে। প্রথম ওভারেই বল হাতে তুলে নেন সাকিব আল হাসান। প্রথম বলে ৪ মেরে শুরু করেন ইহসানউল্লাহ জান্নাত। তবে এক বল পরেই এলবিডব্লিউ হন তিনি। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান রহমত শাহ সাকিবকেই ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন পরের বলেই।

২০৫ এ অলআউট বাংলাদেশঃ

রাশিদ হানের ওভারে প্রথম বলেই সিঙ্গেল নিয়ে নাইমকে স্ট্রাইক দেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। প্রথম দফাতে নাইম হাসান টিকে গেলেও দ্বিতীয় দফাতে আর পারেননি। ৭১ তম ওভারের ৫ম বলে রাশিদ খানের পঞ্চম শিকার হয়ে এলবিডব্লিউ হন ৭ রান করা নাইম। ৪৮ রান করে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক হোসেন। ১ম ইনিংস থেকে ১৩৭ রানের লিড নিলো সফরকারীরা। তৃতীয় দিনে মাত্র ১৭ মিনিট টিকে ১১ রান স্কোরবোর্ডে জমা করতে পারে বাংলাদেশ।

শুরুতেই ফিরে গেলেন তাইজুলঃ

তৃতীয় দিনের তৃতীয় বলেই সাজঘরে ফিরলেন তাইজুল ইসলাম। আগের দিনের রানের সঙ্গে কোন রান যোগ না করেই মোহাম্মদ নবির বলে বোল্ড হন তাইজুল। শেষ ব্যাটসম্যান হিসাবে উইকেটে এসেছেন নাইম হাসান। রাশিদ খানের বলে চার মেরে ২০০ রানের গন্ডি পার করান নাইম।

বাংলাদেশ একাদশঃ

সৌম্য সরকার, সাদমান ইসলাম অনিক, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাইম হাসান।

আফগানিস্তান একাদশঃ

ইহসানউল্লাহ, ইব্রাহিম জাদরান, রহমত শাহ, হাশমতউল্লাহ শহীদি, আসগর আফগান, মোহাম্মদ নবি, আফসার জাজাই (উইকেটরক্ষক), রাশিদ খান (অধিনায়ক), ইয়ামিন আহমেদজাই, কায়েস আহমেদ ও জহির খান।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

সেই দর্শক আজ গেল থানায়, কাল পাঠানো হবে আদালতে

Read Next

কিংবদন্তির বিদায়ে টুইটারে শোকের মাতম

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
4
Share