দিনের একমাত্র প্রাপ্তি ‘মোসাদ্দেক-তাইজুল জুটি’

day2

চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষেঃ

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসেঃ ৬৭ ওভারে ১৯৪/৮ (সাদমান অ, সৌম্য ১৭, লিটন ৩৩, মুমিনুল ৫২, সাকিব ১১, মুশফিক ০, মাহমুদউল্লাহ ৭, মোসাদ্দেক ৪৪*, মিরাজ ১১, তাইজুল ১৪*; রাশিদ খান ৪/৪৭, নবী ২/৫৩, আহমেদজাই ১/২১, কায়েস ১/২২)

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ১৪৮ রানে পিছিয়ে আছে। হাতে আছে দুটি উইকেট।

আফগানিস্তান প্রথম ইনিংসে থামে ৩৪২ রানে।

শেষ বিকেলে জমে উঠেছে মোসাদ্দেক-তাইজুল জুটিঃ

১৫.৪ ওভারে ৪৮ রান এসেছে তাইজুল ইসলাম ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ব্যাটে। মোসাদ্দেক হোসেন ৭৪ বলে ৪৪* ও তাইজুল ইসলাম ৫৫ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছেন।

কায়েসের প্রথম টেস্ট উইকেট মিরাজঃ

প্রায় ১০ ওভার একসাথে উইকেটে থেকে ১৬ রান যোগ করেন মোসাদ্দেক হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ছোট্ট এই জুটি ভাঙেন কায়েস আহমেদ। ৩১ বলে ১১ রান করা মেহেদী হাসান মিরাজকে বোল্ড করে নিজের প্রথম টেস্ট উইকেটের দেখা পান কায়েস আহমেদ। এরই মধ্যে ফলো অন এড়িয়েছে বাংলাদেশ দল।

ফিফটি করেই আউট মুমিনুলঃ

অন্যদের ব্যর্থ হবার দিনে ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন টেস্ট স্পেশালিস্ট মুমিনুল হক। নিজের ১৩ তম টেস্ট ফিফটি করার পরপরই অবশ্য মোহাম্মদ নবিকে উড়িয়ে মারতে যেয়ে আউট হয়েছেন। ৭১ বলে ৮ চারে ৫২ রান করে থামেন মুমিনুল।

ফিরে গেলেন মাহমুদউল্লাহওঃ

লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিমের পর এবার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও রাশিদ খানের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরলেন। ১৩ বলে ১ চারে ৭ রান করে রাশিদ খানের বলে বোল্ড হলেন মাহমুদউল্লাহ।

এক ওভারে রাশিদের জোড়া শিকারঃ

লিটন দাসের পর সাকিব আল হাসানকেও আউট করলেন রাশিদ খান। ২০ বলে ১ চারে ১১ রান করে এলবিডব্লিউ হয়েছেন সাকিব। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১ বল বাদে সিলভার ডাকের স্বাদ পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম।

রাশিদের প্রথম ওভারেই ফিরলেন লিটনঃ

শুরুর নড়বড়ে ভাব কাটিয়ে থিতু হয়েছিলেন। তবে রাশিদ খান আক্রমণে আসার পরেই ধৈর্য হারালেন। ভেবেছিলেন শর্ট বল আসছে, পুল করতে গিয়ে হলেন বোল্ড। ৬৬ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ৩৩ রান করে সাজঘরে যান লিটন দাস। প্রথম ওভারেই উইকেট নিয়ে ভীতি ছড়িয়ে দিলেন রাশিদ খান।

ফিরে গেলেন সৌম্যঃ

নামার পর থেকেই অস্বস্তি নিয়ে ব্যাটিং করেছেন সৌম্য সরকার। নিজের স্বভাবসুলভ ব্যাটিং করতে পারছিলেন না। অবশেষে ৬৬ বল খেলে ১৭ রান করে মোহাম্মদ নবির বলে এলবিডব্লিউ হয়েছেন সৌম্য। ভেঙেছে লিটন-সৌম্যের ৩৮ রানের জুটি।

রিভিউ নিয়ে বাঁচলেন লিটন

লাঞ্চ বিরতির পরে দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে আউট হতে পারতেন লিটন দাস। মোহাম্মদ নবির বল লিটনের প্যাডে লাগলে আফগানদের জোরালো আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার নাইজেল লঙ। সৌম্যের পরামর্শে রিভিউ নেন লিটন। টিভি রিপ্লে তে দেখা যায় বল উইকেট মিস করে চলে যাচ্ছিলো।

সাদমানকে হারিয়ে শুরুতেই বিপর্যয়ে বাংলাদেশ

রাশিদ খানের ফিফটিতে ৩৪২ রানে থামে আফগানিস্তান। জবাবে ব্যাট করতে ইনিংসের চতুর্থ বলেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ, আফগান একাদশের একমাত্র পেসার ইয়েমিন আহমেদজাইয়ের অফ স্টাম্পের বাইরে করা চতুর্থ বলটাই সাদমান ইসলামের ব্যাট ছুঁয়ে জমা পড়ে উইকেটরক্ষক আফসার জাজাইয়ের গ্লাভসে। ফলে স্কোরবোর্ডে কোন রান যোগ হওয়ার আগেই ফিরতে হয় সাদমানকে। ৪ ওভারে ১ রানে ১ উইকেট হারিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে গেছেন সৌম্য সরকার ও লিটন দাস।

রাশিদের ফিফটিতে আফগানদের ৩৪২ঃ

দিনের শুরু থেকেই উইকেটের দেখা পাচ্ছিলো বাংলাদেশী বোলাররা। ২৭৮ রানে ৬ উইকেট পড়ার পর সাকিব তাইজুলে নিয়মিতই উইকেট পড়ছিল আফগানদের। তবে একপাশ আগলে রেখে ফিফটি তুলে সংগ্রহ বাড়িয়ে নিয়েছেন অধিনায়ক রাশিদ খান। আজ ৫ উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তান যে ৭১ রান যোগ করে তার ৫১ রানই আসে রাশিদের ব্যাট থেকে, আফগানিস্তান থামে ৩৪২ রানে। রাশিদ ৬১ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৫১ রান করে মিরাজের হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে আউট হন শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে। ইনিংসে তাইজুলের উইকেট চারটি, সাকিব ও নাইমের দুটি , মাহমুদউল্লাহ ও মেহেদী মিরাজের একটি।

সাকিবের দ্বিতীয় শিকার ইয়ামিনঃ

১ম উইকেট পেতে বল করতে হয়েছিলো ১৯ ওভার। নিজের করা ২১ তম ওভারে পেলেন ২য় উইকেট। আফগান একাদশের একমাত্র পেসার হিসাবে খেলতে নামা ইয়ামিন আহমেদজাইকে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান সাকিব। শুরুতে অবশ্য নাইজেল লং আঙুল তোলেননি, পরে রিভিউ নিয়ে ৯ম উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। এর আগে তাইজুলের বলে রাশিদ খানের এলবিডব্লিউয়ের আবেদন নাকচ করে দেন অনফিল্ড আম্পায়ার। রিভিউ নেয় বাংলাদেশ, তবে নিতিন মেনন ফ্রন্টফুট চেক করে রায় দেন সেটা নো বল।

অবশেষে উইকেট পেলেন সাকিবঃ

১ম দিনে ১৭ ওভার বল করেও কোন উইকেট পাননি সাকিব আল হাসান। তবে আজকে নিজের করা দ্বিতীয় ওভারেই উইকেটের দেখা পেলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১৫ বলে ১ চারে ৯ রান করা কায়েস আহমেদকে মুমিনুল হকের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান সাকিব।

রান তোলাতে মন দিয়েছেন রাশিদ, তাইজুলের চতুর্থ শিকারঃ

উইকেটে এসেই দ্রুত রান তোলাতে মন দেন আফগান অধিনায়ক রাশিদ খান। তাইজুল মিরাজদের সামান্য ভুলের সুযোগও নেন রাশিদ। তবে তাইজুলের স্পিনের সামনে দাঁড়াতে পারেননি আফসার জাজাই। ১১৫ বলে ৪ চার ও ১ ছয়ে ৪১ রান করা জাজাইকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান তাইজুল।

আসগর আফগান মুশফিক

দিনের শুরুতেই তাইজুলের সাফল্যঃ

১ম দিনে বাংলাদেশের উইকেট পাবার শুরুটা হয়েছিলো তাইজুল ইসলামের হাত ধরে। দ্বিতীয় দিনের শুরুটা হলোও সেরকম। দিনের চতুর্থ ওভারেই আসগর আফগানকে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেন তাইজুল। তাতে অবশ্য আসগরের দায় কম না, স্লগ করতে যেয়ে মিস টাইমিংয়ে ক্যাচ তুলে দেন। গ্লাভস হাতে উইকেটের পেছনে থাকা মুশফিকুর রহিম তা তালুবন্দি করতে ভুল করেননি। ৩ চার ও ২ ছয়ে ১৭৪ বলে ৯২ রান করে থামেন আসগর।

বাংলাদেশ একাদশঃ

সৌম্য সরকার, সাদমান ইসলাম অনিক, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাইম হাসান।

আফগানিস্তান একাদশঃ

ইহসানউল্লাহ, ইব্রাহিম জাদরান, রহমত শাহ, হাশমতউল্লাহ শহীদি, আসগর আফগান, মোহাম্মদ নবি, আফসার জাজাই (উইকেটরক্ষক), রাশিদ খান (অধিনায়ক), ইয়ামিন আহমেদজাই, কায়েস আহমেদ ও জহির খান।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

ভেট্টোরির ‘৫’ দিন, ডোমিঙ্গোর ‘৩০’ দিন!

Read Next

আর্চারকে আপত্তিকর মন্তব্য, মাঠ ছাড়তে হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ফ্যানদের!

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
20
Share