লাইভ রিপোর্টঃ চট্টগ্রামে ১ম দিন আফগানিস্তানের

মুমিনুল আফগানিস্তান

চট্টগ্রামে ১ম দিন শেষে, আফগানিস্তান ২৭১/৫ (৯৬), রহমত ১০২, আসগর ৮৮*, আফসার ৩৫*, ইব্রাহিম ২১*; নাইম ১৩-০-৪৩-২, তাইজুল ৩১-৪-৭৩-২, মাহমুদউল্লাহ ৪-০-৯-১।

আসগরের ব্যাটে বড় সংগ্রহের পথে আফগানিস্তানঃ

নাইম হাসানের জোড়া আঘাতের পর ম্যাচে ফিরেছিলো বাংলাদেশ। তবে ৬ষ্ঠ উইকেটে ৭৪ রানের হার না মানা জুটি দিয়ে ম্যাচ থেকে স্বাগতিকদের পেছনে ফেলে দিয়েছেন আসগর আফগান ও আফসার জাজাই। ১৬০ বলে ৩ চার, ২ ছয়ে ৮৮ রান করে অপরাজিত আসগর, ৩৫ রান করে অপরাজিত আছেন আফসার জাজাই।

সেঞ্চুরি রহমতের, নাইমের জোড়া উইকেটঃ

চা বিরতির পর নিজের প্রথম ওভারেই জোড়া উইকেট তুলে নিয়েছেন নাইম হাসান। দ্বিতীয় বলে অবশ্য চার হজম করেছিলেন। চার মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পরের বলেই সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন রহমত। রহমতের বিদায়ের দুই বল পরে ফেরেন মোহাম্মদ নবিও। কোন রান না করতে দিয়ে নবিকে বোল্ড করেন নাইম।


দ্বিতীয় সেশন আফগানদেরঃ

প্রথম সেশনে খেলা হয়েছিলো ৩২.৪ ওভার, তাতে ৭৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়েছিলো বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনে উইকেটের খোঁজে বল করলেও সাফল্যের মুখ দেখেনি স্বাগতিকরা। ৩৫.২ বল স্থায়ী দ্বিতীয় সেশনে আফগানরা কোন উইকেট না হারিয়ে তুলেছে ১১৪ রান। সেঞ্চুরি থেকে তিন রান দূরে রহমত শাহ, ফিফটি থেকে দুই রান দূরে আসগর আফগান।

রিভিউ নিয়ে বাঁচলেন আসগরঃ

৬৫ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মেহেদী হাসান মিরাজের বলের টার্ন অনুমান করতে পারেননি আসগর। বল গিয়ে লাগে আসগরের প্যাডে, জোরালো আবেদনে আঙ্গুল তুলে দেন আম্পায়ার নাইজেল লঙ। রিভিউ নিয়ে অবশ্য বেঁচে যান তিনি, টিভি আম্পায়ার নিতিন মেনন রিপ্লে দেখে নিশ্চিত হন বল উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলো।

রহমত-আজগর জুটিতে ১০০ঃ

তাইজুল ইসলামকে চার মেরে নার্ভাস নাইন্টিজে প্রবেশ করলেন রহমত শাহ। রহমত-আসগর জুটিতেও পূর্ণ হলো ১০০ রান। ২৮.৩ ওভার একসঙ্গে উইকেটে থেকে দলের স্কোরবোর্ডে ১০০ রান যোগ করেন এই দুইজন।

রহমত শাহ আসগর আফগান সাকিব আল হাসান

বৃষ্টি থামার পরই রহমতের ফিফটিঃ

বৃষ্টি থামার পরপরই ফিফটি পূরণ করলেন রহমত শাহ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৫০ পূর্ণ করেন তিনি। পঞ্চাশ রানের ইনিংসে আছে ৩ চার, ২ ছয়। টেস্ট ক্রিকেটে এটি রহমতের তৃতীয় ফিফটি।

রহমতকে অপেক্ষায় রেখে চট্টগ্রামে বৃষ্টিঃ

৩১ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে গিয়েছিলেন। বিরতির পর পজিটিভ ক্রিকেট খেলতে থাকা রহমত শাহ ছিলেন ফিফটির পথে। তবে বেরসিক বৃষ্টি অপেক্ষায় রেখেছে রহমতকে। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হবার আগে ৮৩ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত রহমত শাহ, ২৭ বল খেলে ১০ রান করে অপরাজিত আসগর আফগান। এই জুটিতে ইতোমধ্যে এসেছে ২৮ রান।

বল হাতে নিয়ে মাহমুদউল্লাহর বাজিমাতঃ

বেশ কিছুদিন ধরে বল হাতে নিয়মিত নন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আফগানদের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম সেশনের একেবারে শেষ সময়ে ৩৩ তম ওভারে রিয়াদকে বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। নিজের করা চতুর্থ বলেই টাইগার শিবিরে আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন তিনি। ৩২ বলে ১৪ রান করা হাশমতউল্লাহ শহীদিকে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তিনি।

তাইজুল সৌম্য বাংলাদেশ তাইজুলের দ্বিতীয় শিকার ইব্রাহিম জাদরানঃ

ইব্রাহিম জাদরানের সাথে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামা ইহসানউল্লাহকে ফিরিয়েছিলেন, ফেরালেন ইব্রাহিম জাদরানকেও। স্টাম্পের মধ্যে থাকা টসড আপ ডেলিভারিতে প্রলুব্ধ করেছিলেন ইব্রাহিমকে, ইব্রাহিম এগিয়ে এসে উড়িয়ে মেরেছিলেন। একটু পিছিয়ে যেয়ে লং অফে ক্যাচটি তালুবন্দি করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৬৯ বলে ৩ চারে ২১ রান করে থামেন ইব্রাহিম।

প্রথম সাফল্য তাইজুলেরঃ

বল হাতে শুরু করেছিলেন তিনি, প্রথম সাফল্যও এলো তাঁর হাত ধরে। নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেংথে বল করে যাওয়া তাইজুল ইসলাম নিজের ৭ম ওভারের দ্বিতীয় বলে ইহসানউল্লাহকে ফেরান। দারুণ এক ডেলিভারিতে ৩৬ বলে ৯ রান করা ইহসানউল্লাহকে বোল্ড করেন তাইজুল।

আরো পড়ুনঃ রফিক-সাকিবকে টপকে দ্রুততম তাইজুল।

তাইজুলকে দিয়ে শুরুঃ

৯৯ টেস্ট উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করার অপেক্ষায় থাকা তাইজুল ইসলাম বল হাতে শুরু করেন। প্রথম ওভার থেকে মেডেন দেন তিনি। আফগানদের হয়ে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামা দুজনই ডানহাতি। অপর প্রান্ত থেকে তাই বল হাতে তুলে নেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। যদিও ১ম স্পেলে ১ ওভারই করেন সাকিব। চতুর্থ ওভারে বল করতে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

টস করার সাথে সাথে টেস্টে কনিষ্ঠতম (২০ বছর ৩৫০ দিন) অধিনায়ক হলেন রাশিদ খান। ওয়ানডে ফরম্যাটেও কনিষ্ঠতম অধিনায়কের নাম রাশিদ খান (১৯ বছর ১৬৫ দিন)।

সাকিব আল হাসান রাশিদ খান
ফাইল ছবি

বাংলাদেশের একাদশে নেই কোন পেসার, আছে ৪ স্পিনার। আফগানিস্তান একাদশেও আছে চার স্পিনার, একমাত্র পেসারের নাম ইয়ামিন আহমেদজাই।

বাংলাদেশ একাদশঃ

সৌম্য সরকার, সাদমান ইসলাম অনিক, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাইম হাসান।

আফগানিস্তান একাদশঃ

ইহসানউল্লাহ, ইব্রাহিম জাদরান, রহমত শাহ, হাশমতউল্লাহ শহীদি, আসগর আফগান, মোহাম্মদ নবি, আফসার জাজাই (উইকেটরক্ষক), রাশিদ খান (অধিনায়ক), ইয়ামিন আহমেদজাই, কায়েস আহমেদ ও জহির খান।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

ভুল জানতেন অর্থমন্ত্রী, ক্ষমা চেয়ে বললেন বিপিএল হবে

Read Next

টস করতে নেমেই রেকর্ড গড়লেন রাশিদ খান

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
11
Share