তামিম-মুশফিকে তিনশো পেরুলো বাংলাদেশ

match report
Vinkmag ad

শেষ ক’দিন ধরে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল যে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির, কেনিংটন ওভালে ইয়ান মরগানের কয়েন ছোঁড়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলো সেই প্রতীক্ষার। স্বাগতিক ইংল্যান্ড এবং বাংলাদেশের ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নবম আসরের। 

টসে হার, শুভ সূচনা

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ কাপ্তান মাশরাফি বিন মর্তুজার অভিষেকটা হয়েছে টস হেরেই। ইংল্যান্ড দলপতি ইয়ান মরগান ওভালের মেঘলা আকাশের নিচে বোলিং করার সুযোগটা না ছেড়ে মাশরাফিদের আমন্ত্রণ জানালেন ব্যাটিংয়ের। সৌম্য সরকারকে সাথে নিয়ে তামিম ইকবাল ঢুকে পড়লেন ময়দানে।

দেখে শুনেই শুরু করেছিলেন এই দুইজন। এতটাই সাবধানী শুরু ছিল যে তামিম ইকবাল ১৭ বলে নিয়েছিলেন মাত্র ৩ রান। পরে রানের গতি ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকেন দুজনই। দলকে ৫৬ রানের উদ্বোধনী জুটি এনে দিয়ে সৌম্য সরকার বিদায় নেন স্টোকসের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে।

জুটিতেই খুঁটি

ওয়ান ডাউনে সাব্বির রহমানের বদলে এদিন আসেন ইমরুল কায়েস। খুব বড় কিছু করতে না পারলেও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তামিমের সঙ্গে গড়েছেন ৩৯ রানের জুটি। তবে জুটিকে খুঁটি করে বড় স্কোরের ভিত গড়ার কাজটা মূলত এরপরেই শুরু করেন উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম এবং তামিম ইকবাল।

নিজের ৩৭তম অর্ধশতক তুলে নেয়ার পর তামিম ইকবাল এগোতে থাকেন শতকের পথে। আর সে যাত্রায় মুশফিকের সাথে তৃতীয় উইকেট জুটিতে গড়েন ১৬৬ রানের বড় জুটি। ২৫.১ ওভারের এই জুটিতে তামিমের অবদান ৮৩ আর মুশফিক সংগ্রহ করেছেন ৭৯ রান।

তামিম ইকবাল, রিমেম্বার দ্যা নেইম

ইনিংসের শুরুর তামিম আর শেষের তামিমকে এ ম্যাচে কেউ মেলাতে গেলে বিপাকে পড়বেনই নিশ্চিত। ধীরে ধীরে খোলস ছেড়েছেন। খেলেছেন ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে। টপঅর্ডারের সবগুলো জুটিতেই তামিম ইকবালের অংশগ্রহণ ছিল দেখার মত। ৭১ বলে অর্ধশতক তুলে নেয়া তামিম নিজের ক্যারিয়ারের অষ্টম শতকের দেখা পান ১২৪ বল মোকাবেলা করে। করেছেন দেশের হয়ে দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শতক। তামিমেরই একসময়কার উদ্বোধনী সঙ্গী শাহরিয়ার নাফিস ২০০৬ সালে জয়পুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম শতরান।

18814211 1426073830791071 2037989327295218904 n
ক্যারিয়ারের অষ্টম এবং দেশের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দ্বিতীয় শতকের পর তামিম ইকবাল।

সেই আসরের পর আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা হয়নি বাংলাদেশের। যখন সুযোগ হলো তার প্রথম ম্যাচেই তামিম ইকবাল করে বসলেন সেঞ্চুরিই। ওভালে এর আগে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের স্কোর ছিল শ্রীলঙ্কান ওপেনার সনাথ জয়সুরিয়ার, ১২২ রান। সে রেকর্ড ভেঙ্গে তামিম করলেন ১২৮ রান। মোট ১৪২ বল খেলে ১২ চার আর ৩ ছয় হাঁকিয়ে স্বাগতিক বোলারদের নাভিশ্বাস তুলে দিয়ে তামিম সাজিয়েছেন তার ইনিংসটি।

মুশফিক, দ্যা ওয়াল?

তামিম ইকবালের শতরানে মুশফিক ঢাকা পড়ে গেলেও তার ৭৯ রানের ইনিংসটার গুরুত্ব ছিল অনস্বীকার্য। তাই তো ওভালের মাঠে বাংলাদেশী সমর্থকদের হাতের প্লেকার্ডে লেখা ছিল ‘মুশফিক দ্যা ওয়াল’। শেষ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পাওয়া ম্যাচেও ৪৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন। আর আজকে তামিমের সঙ্গে ধরেছেন দলের হাল।

263821
অর্ধশতকের পর দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দিচ্ছেন মুশফিক।

নিখুঁত টাইমিং আর বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান নিয়ে তামিম ইকবালকে খেলতে দিয়েছেন নিজের মত। নিজেও খেলে গিয়েছেন স্বাচ্ছন্দ্যের সাথেই। ‘দ্যা ওয়াল’ হয়ে ওঠা ৭৯ রানের ইনিংস খেলতে মুশফিক বল খেলেছেন ৭২টি,  চার হাঁকিয়েছেন ৮টি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে মুশফিকের ২৫তম অর্ধশতক ছিল এটি।

৩০০ পেরোনো ইনিংসে ২০ রানের আক্ষেপ

তামিম এবং মুশফিক ১৬৬ রান যোগ করলেও ফিরে গেছেন পরপর দুই বলে। শেষদিকে সাব্বির রহমানের ১৫ বলে ২৩, সাকিব আল হাসানের ৮ বলে ১০ রানে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৩০৫। ৩০০ পেরোনো স্কোর হলেও আরও ২০ রানের আক্ষেপটা রয়েই যাচ্ছে টাইগারদের। তবে ৩০০ রানের লক্ষ্যমাত্রাটাও নেহায়েত কম নয়। মাশরাফি, মুস্তাফিজদের বিপক্ষে তাই ইংলিশদের ৫০ ওভারে করতে হবে ৩০৬ রান।

263826
চার উইকেট তুলে নিয়ে ইংলিশদের পক্ষে সবচেয়ে সফল বোলার প্ল্যাংকেটের উল্লাস।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ডঃ

বাংলাদেশঃ ৩০৫/৬ (৫০ ওভার) তামিম ইকবাল ১২৮, মুশফিকুর রহিম ৭৯, সৌম্য সরকার ২৮ সাব্বির রহমান ২৩, ইমরুল কায়েস ১৯, সাকিব ১০। লিয়াম প্ল্যাংকেট ৪/৫৯

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মঞ্চেই তামিম ভাসলেন শতকের আনন্দে

Read Next

সাব্বির উপহার দিলেন স্বস্তির উইকেট

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share