রেকর্ড গড়া ম্যাচে প্রোটিয়া বধ

১
Vinkmag ad

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে রানের পাহাড় গড়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৩০ রান। ৩৩০ রান বিশ্বকাপ তো বটেই, ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংস। এর আগে ২০১৫ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২২ রান করেছিল। বিশ্বকাপে এত রান তাড়া করে জেতেনি কোনো দল! পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকাও। বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই জিতলো ২১ রানে।

290061

লন্ডনের কেনিংটন ওভালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে সতর্ক শুরু করে বাংলাদেশ। লুঙ্গি এনগিডি এবং কাগিসো রাবাদা দুজনকেই বেদম প্রহারের শিকার হতে হয়েছে। বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রানের খাতা খোলেন সৌম্য সরকার। এরপর দ্রুতই রানের চাকা সচল করেন এই তরুণ ওপেনার। বিধ্বংসী সৌম্যর সঙ্গে তামিমের সাবলীল ব্যাটিংয়ে ৭ ওভারে টাইগারদের স্কোর ৫০ স্পর্শ করে।

আন্দিলে ফেলুকায়ো এসেই তুলে নেন তামিম ইকবালকে। সৌম্য সরকারের সঙ্গে তার ওপেনিং জুটি হয়েছিল ৬০ রানের। ফেলুকায়োর বল তামিমের ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটকিপার কুইন্টন ডি ককের গ্লাভসে জমা নিলে তামিমের ২৯ বলে ২ চারে ১৬ রানের ইনিংস শেষ হয়।

290055

সৌম্যর সঙ্গী হন বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ক্রিস মরিসের বলে মিস টাইমিং করে উইকেটকিপার কুইন্টন ডি ককের গ্লাভসে ক্যাচ দেন ৩০ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৪২ রান করা সৌম্য। ১৫ রানের ব্যবধানে ফেরেন দুই ওপেনার। দলীয় ৭৫ রানে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন দুই অভিজ্ঞ তারকা সাকিব আল হাসান এবং মুশফিকুর রহিম।

তৃতীয় উইকেটে শতরানের জুটি গড়েন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় উইকেটে তাড়া ১৪২ রানের জুটি গড়েন। তাদের অনবদ্য জুটিতে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ার পুঁজি পায় বাংলাদেশ। মাত্র ৩২ ওভারে ২০০ ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের স্কোর।

290059

ক্যারিয়ারের ৪৩তম ওডিআইট ফিফটি গড়ার পর সেঞ্চুরি পথেই ছিলেন সাকিব। কিন্তু ইমরান তাহিরের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাকিব। তার আগে ৮৪ বলে ৮টি চার ও এক ছক্কায় ৭৫ রান করেন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার।

সাকিব ফিরে গেলে মুশফিককে সঙ্গ দিতে এসে ঝড়ো শুরু করেন মোহাম্মদ মিঠুনও। ২ চার ও ১ ছয়ে ২১ বলে ২১ করা মিঠুনকেও প্যাভিলিয়নে ফেরান ইমরান তাহির।

290060

সাকিব আল হাসানের পর সেঞ্চুরি মিস করেছেন মুশফিকুর রহিম। সাকিব ৭৫ রানে আউট হয়েছেন আর মুশি আউট হলেন ৭৮ রানে। মি. ডিপেন্ডেবলের ৮০ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৭৮ রানের ইনিংসটি থামে ফেলুকায়োর বলে ভেন ডার ডাসেনের তালুবন্দি হয়ে।

শেষদিকে প্রোটিয়া বোলারদের উপর স্টিম রোলার চালান মোসাদ্দেক হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ক্রিস মরিসের করা ইনিংসের ৪৭ তম ওভারে ৩ বাউন্ডারিতে আসে ১৫ রান। ৪৮ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩০২।

ক্রিস মরিস, রাবাদাদের উপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৩৩ বলে ৪৬ রানের ইনিংসে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আর তাতেই ৩৩০ রানের বড় সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ দল।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩৩১ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে দলীয় ৪৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ভুল বোঝাবুঝির কারণে রান আউট হয়ে ফেরেন আফ্রিকান ওপেনার। তার আগে ৩২ বলে ২৩ রান করেন ডি কক।

ব্যাটিংয়ের পর ফিল্ডিংয়েও দুর্দান্ত মুশফিকুর রহিম। তার থ্রোতে ভেঙে যায় দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার কুইন্টন ডি ককের উইকেট।

ডি ককের বিদায়ের পর দ্বিতীয় উইকেটে অফিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিসের সঙ্গে ৫৩ রানের জুটি গড়েন মার্করাম। তাদের মধ্যকার এই জুটি ভাঙেন সাকিব। বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডারের শিকারে পরিনত হওয়ার আগে ৫৬ বলে ৪৬ রান করেন মার্করাম। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ১০২ রানে দুই উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

১

মেহেদী মিরাজের ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে গেলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। ৫৩ বলে ৬২ রান তুলে ম্যাচ জমিয়ে দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই সেরা ব্যাটসম্যান।

১৬ রানেই আউট হয়ে সাজঘরে ফেরার কথা ছিল ডেভিড মিলারের। সাকিবের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সৌম্য সরকারের কারণে লাইফ পান। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা মিলার কিলারকে আউট করে টাইগার শিবির স্বস্থির পরশ এনে দেন মুস্তাফিজ। মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচে পরিনত হওয়ার আগে ৪৩ বলে দুটি চারের সাহায্যে ৩৮ রান করেন মিলার।

 

97 Desk

Read Previous

সাকিবের দ্রুততম ২৫০ উইকেট এবং ৫০০০ রান

Read Next

‘আমার প্রেডিকশনের বাইরে সবাই কিন্তু জিতে যেতে পারবে না’

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share