জয়ের চেয়ে অনেক বেশি

featured photo1 49

সালটা ১৯৯৯, বিশ্বকাপের মঞ্চে ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে শিরোপা জিতে উল্লাস করা দলটির প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপের আসরে প্রথমবার খেলতে আসা এক দল। অসম লড়াইয়ে আগ্রহ কি ছিলো ওরকম? কতটা সম্মানজনক ভাবে পুঁচকে দলটা হার মানবে সেটা নিয়েই হয়তো হিসাব নিকাশ চলছিলো।

বর্তমান সময়ের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের মতো করে বলতে হয়, “ক্রিকেটটা গোল বলের খেলা, এখানে যেকোন কিছু ঘটতে পারে”। হ্যা, অভাবনীয় কিছুই ঘটেছিলো সেদিন নর্দাম্পটনে। বিশ্বকাপে নবাগত বাংলাদেশ হারিয়ে দিয়েছিলো তখনই একবার বিশ্বকাপ জেতার স্বাদ পেয়ে যাওয়া পাকিস্তানকে।

সময়ের হিসাবে আজ ২২ বছর (২০২১ সালে) পূর্ণ হয়েছে অনেকের ভ্রু কপালে তুলে দেওয়া জয়ের (বাংলাদেশের)। এই ২২ বছরে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। যে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া ছেলেটা সেদিন বাংলাদেশের জয়ে সবার মাতামাতিতে নিজেও বুঝে/না বুঝে আনন্দে মেতেছিলো সেই ছেলেটা পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে ফেলেছে। কখনো সাদা পোশাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রিকেট না খেলা দলটি (তখন) ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে টেস্টে হারিয়ে দিয়েছে।

সেদিন বাংলাদেশের জয়ে যারা ভ্রু কপালে তুলেছিলেন তাদের ভ্রু আজ উপরে উঠতে উঠতে মাথার কালো চুলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। সেই পুঁচকে বাংলাদেশ যে আজ ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে পেছনে ফেলেছে পাকিস্তান দলকে (বর্তমানে বাংলাদেশ পিছিয়ে, প্রতিবেদন লেখার সময় এগিয়ে ছিল)।

দেড় যুগের বেশি সময় পর সেদিনের জয়ের নায়ক খালেদ মাহমুদ আজ বাংলাদেশ দলের টিম লিডার, বিসিবি পরিচালক। মাশরাফি, সাকিবরা নিশ্চয়ই সেই ম্যাচের গল্প শোনেন সুজনের কাছ থেকে। হ্যা, এখন মাশরাফি-সাকিবরা অনেক ম্যাচ জেতে। শুধু পাকিস্তান না, সব দেশকেই হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। তবুও ঐ ম্যাচে জয় যে শুধুই জয় নয়, জয়ের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। অনেক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেওয়া ঐ জয়ের পেছনে যাদের অবদান আছে তাদের কল্যাণেই যে বাংলাদেশ আজ তরতর করে উপরে উঠতে পারার ভিত্তি পেয়েছিলো।

Shihab Ahsan Khan

Shihab Ahsan Khan, Editorial Writer of Cricket97 & en.Cricket97

Read Previous

তবুও আশাবাদী হাথুরুসিংহে

Read Next

সাঙ্গাকারার চোখে ‘ডার্ক হর্স’ বাংলাদেশ

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
1
Share