মধুর সমস্যা এখন বিষে ভরা

featured photo1 19
Vinkmag ad

বিরুদ্ধ কন্ডিশনে বাংলাদেশ দলের ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করে বিশ্লেষণ করেছেন সৈয়দ আবিদ হোসাইন সামি।  

অবস্থা তো এখন ২০০০-২০০৭ এর অস্ট্রেলিয়ার মত। একই  পজিশনে ব্যাক আপ কোয়ালিটি প্লেয়ার এর অভাব নেই। তাসকিন – নাসির এর জায়গা হয় না সামর্থ্য থাকার পরও ; সুখকর ব্যাপার -ই বটে । কিন্তু, লাভ কি? তৃপ্তির ঢেকুর তোলার সুযোগ কই? ম্যাচ তো জিততে হবে। ডেমিয়েন মার্টিন খেলুক বা স্টুয়ার্ট ল- বেভান খেলুক কিংবা ইয়ান হার্ভি, ম্যাচ অস্ট্রেলিয়াই জিততো।

ডাবলিনের মাঠগুলো ছোট হলেও পিচ এবং কন্ডিশন দাবী করে নিচে নিচে শট খেলার। বিশেষ করে ব্যাকফুটে গ্রাউন্ডেড পাঞ্চ করতে পারা ব্যাটসম্যানের জন্য এগুলো ব্যাটিং স্বর্গ। ২ টা ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হওয়ার চেয়ে ৩ টা চার মারতে পারার সামর্থ্য সম্পন্ন ব্যাটসম্যান দরকার এখানে। এখানে আগে উইকেটে ভালমত থিতু হতে হয়। তার জন্য দরকার স্ট্রেইট ডিফেন্স, ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টের দিকে পাওয়ারফুল স্কয়ার ড্রাইভ খেলার সক্ষমতা। এগুলোর সবই ইমরুল কায়েসের মধ্যে আছে। ব্যাক ফুটে নিচে জোরে শট খেলতে পারে, গড় পারফরমেন্স কখনোই খারাপ ছিল না। আর ক্রিকেটীয় দিক চিন্তা করলে ইংলিশ কন্ডিশনে মুশফিক তামিমের পর সবথেকে কার্যকরী খেলোয়াড় তিনিই। তার মধ্যে যা নাই তা হচ্ছে হাই “ব্র‍্যান্ড ভ্যালু”। কোন এক অদ্ভুত কারণে তা তার ক্যারিয়ারের কোন সময়েই ছিল না। তার অনেক পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করা বিজয়, সাব্বির, সৌম্ম্য, তাসকিন কিংবা মিরাজদের ব্র‍্যান্ড ভ্যালু তার তুলনায় আকাশচুম্বী।

১০-১২/৩০-৩৫, ৫০ করলেই কার্যকারীতা প্রমাণ করা যায় না। কারুণ নায়ার হুটহাট ৩০০ করেও পরের টেস্ট এর দলে থাকেন না। কেদার যাদবরা সেঞ্চুরী করে হারা ম্যাচ জিতিয়ে দিয়েও দলে নিশ্চিত নন। অনেকেই উদাহরণ নিয়ে আসেন কুইন্টন ডি ককের উপর দক্ষিণ আফ্রিকার ইনভেস্টমেন্টের । কুইন্টন ডি কক খুব সম্ভবত ক্রিকেটের রেয়ার কেইস গুলোর একটি। তারপর ও তিনি যখন পুরো বছর খারাপ খেলছিলেন তার প্রভাব পুরো দলের উপর তেমন পড়ত না, কারণ আমলা, ডু প্লেসি, ভিলিয়ার্স, মিলার কে নিয়ে গড়া টপ – মিডল অর্ডার অনেক বেশি সমৃদ্ধ ছিল। মোট কথা ৪-৫ জন রেগুলার পারফরমার ছিল। আমাদের দলে যেখানে অধারাবাহিক পারফর্মারের সংখ্যাই ৪ কিংবা ৫ জন, সেখানে দিনের পর দিন ইমরুলকে বলি করে কেন আমরা এইধরনের ইনভেস্ট করছি! আর এই ইনভেস্টমেন্টের রিটার্ন র্ভ্যালু যদি হয় মাথার ওপর দিয়ে ২/৩/৪/৫ টা বীরোচিত শটে খেলা ১৪, ১৫, ৩৫, ৩৬ কিংবা ৮-১০ ম্যাচ পর সর্বোচ্চ ৬০-৬৫, তাহলে আগামী দিনগুলোতে অ্যাওয়ে সিরিজগুলোতে সমৃদ্ধশালী ফলাফল আশা করাটা মনে হয় বোকামিই হবে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আম্প্যায়ার এর দায়িত্বে থাকছে যারা

Read Next

সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে টাইগারদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share