মুম্বাইকে হারিয়ে আইপিএলের ফাইনালে পুনে

match report 13
Vinkmag ad

tiwari

পুনের মাহেন্দ্র সিং ধোনী এবং মনোজ তিওয়ারি শেষ দুই ওভারে নিয়েছেন ৪১ রান। মূলত সেখানেই ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে দুই দলের পার্থক্য গড়ে যায়। টস, মাঠ এবং সমর্থক সবকিছুতেই প্রতিপক্ষের পাল্লা ভারী থাকলেও আইপিএলের দশম আসরের প্রথম ফাইনালিস্ট হিসেবে নাম লিখায় রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট। ওয়াংখেড়েতে কোয়ালিফায়ার-১ এর লড়াইয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ২০ রানে হারিয়ে সরাসরি ফাইনালে চলে যায় পুনে।

এদিন টসে জিতে পুনেকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় মুম্বাইয়ের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করে শুরুতেই পুনের ব্যাটিংয়ে আঘাত আনেন ম্যাকক্লেনাগান। ত্রিপাঠিকে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরান তিনি। পরের ওভারেই মালিঙ্গার শিকার হোন স্মিথ। মাত্র ১ রান করেই বিদায় নেন পুনের দলপতি। এরপর রাহানে এবং তিওয়ারির ৮০ রানের জুটিতে শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে পুনে সুপারজায়ান্টরা। রাহানে ৪৩ বলে পাঁচটি চার এবং এক ছয়ের সাহায্যে করেন ৫৬ রান।

দলীয় ৮৯ রানে রাহানের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন ফিনিশার খ্যাত ধোনী। মাত্র ২৬ বলে পাঁচটি ছয়ের মারে ৪০ রানের মারকুটে ইনিংস খেলেন তিনি। তিওয়ারি এবং ধোনী চতুর্থ উইকেটে ৭০ রানের জুটি গড়ে দলকে লড়াই করার মত পুঁজি এনে দেন। ইনিংসের শেষ বলে রান আউটের ফাঁদে পড়ার আগে তিওয়ারি ৪৮ বলে চারটি বাউন্ডারি এবং দুটি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে খেলেন ৫৮ রানের কার্যকরী ইনিংস। নির্ধারিত ওভার শেষে পুনের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৬২ রান। মুম্বাইয়ের হয়ে একটি করে উইকেট নেন ম্যাকক্লেনাগান, মালিঙ্গা এবং কারন শর্মা।

১৬৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে পুনের দুই ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান যা ছিল মুম্বাইয়ের ইনিংসে সর্বোচ্চ জুটি। প্রথম পাওয়ারপ্লের মধ্যেই তিন উইকেট হারায় মুম্বাই। পুনের বোলারদের থেকে শুরুর বিপর্যয় আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি মুম্বাইয়ের ব্যাটসম্যানরা। নিয়মিত বিরতিতেই একপাশ দিয়ে উইকেট হারাতে থাকে তারা। ওপেনার পার্থিভ প্যাটেল ছাড়া অন্য কোন ব্যাটসম্যান প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। প্যাটেল ৪০ বলে তিনটি চার এবং সমান সংখ্যক ছয়ের মারে করেন ৫২ রান। দলীয় ১০৩ রানে প্যাটেলের বিদায়ের পর মুম্বাইয়ের জয়ের আশা ফুরোতে থাকে। শেষ পর্যন্ত পুনের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নির্ধারিত ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪২ রান তুলতে সক্ষম হয় মুম্বাই।

পুনের সবথেকে সফল বোলার ছিলেন ওয়াশিংটন সান্দার। চার ওভারে মাত্র ১৬ রানে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি। এছাড়াও আরও তিন উইকেট শিকার করেন ঠাকুর। একটি করে উইকেট দখল করেন উনাদকাট এবং ফারগুসন।

এলিমেনিটর ম্যাচে তৃতীয় এবং চতুর্থ দল কলকাতা আর হায়দ্রাবাদের লড়াই হবে আজকে। ব্যাঙ্গালুরুর চেন্নাস্বামী মাঠে আগামী ১৯ মে কলকাতা আর হায়দ্রাবাদের ম্যাচের জয়ী দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সাথে কোয়ালিফায়ার-২ এর ম্যাচে লড়বে। এ ম্যাচে যে দল জয় পাবে তারা হায়দ্রাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ২১ মে’র দশম আইপিএল ফাইনালে মুখোমুখি হবে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট ১৬২/৪ (২০) তিওয়ারি ৫৮, রাহানে ৫৬, ধোনী ৪০
মালিঙ্গা ১/১৪, কারান শর্মা ১/৩০

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ১৪২/৯ (২০) প্যাটেল ৫২
সান্দার ৩/১৬, ঠাকুর ৩/৩৭

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

সুযোগ সুবিধার সীমাবদ্ধতা নিয়েই প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে মাশরাফিরা

Read Next

একজন ওপেনার তাইজুলের গল্প

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share