নায়ক, পার্শ্ব-নায়কের তকমায় বিশ্বাসী নন রিয়াদ

riyad
Vinkmag ad

দল যখন দ্রুত চার-পাঁচ উইকেট হারিয়ে ঘোর বিপদে পড়ে, তখন টেনে তোলার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন রিয়াদদলের বিপদে সব সময়ই ব্যাটটা চওড়া হয়ে যায় তাঁর। বাংলাদেশ জাতীয় দলের মিডল অর্ডারের স্তম্ভ বলা হয় তাঁকে। ব্যাট হাতে উইকেটে সামনে যেমন ঢাল হয়ে দাঁড়ান, তেমনি অফ ব্রেকে ঘায়েল করেন প্রতিপক্ষের মাস্টারমাইন্ড ব্যাটসম্যানদের। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অনেক ম্যাচের জয় এসেছে রিয়াদের ব্যাটে চড়ে। রিয়াদ হয়েছেন নায়ক। তবে এসব নায়ক, পার্শ্ব-নায়কের তকমায় বিশ্বাসী নন এই টাইগার মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

43178796 10158128060204129 4610477930026369024 n

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কখনো ‘মিস্টার রিলায়েবল’ কখনো ‘কুলেস্ট প্লেয়ার’ বা কখনো ‘সাইলেন্ট কিলার’ উপাধিতে সিক্ত হোন। ২০১৭ সালে কার্ডিফে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, নিদাহাস ট্রফির অঘোষিত সেমিফাইনালে, সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপের সুপার ফোরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হাল ধরে টিম বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ফিনিশারের তকমা গায়ে মেখেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ফলে অনেকেই তাকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অঘোষিত নায়ক আখ্যা দিয়েছেন। তবে এসব নায়ক, পার্শ্ব-নায়কের তকমায় বিশ্বাসী নন এই টাইগার মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

আজ (৬ অক্টোবর) রাজধানী কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে ইমাগো স্পোর্টস ‘স্পোর্টস হাব বাংলাদেশ’ ইভেন্টের আয়োজন করে। যেখানে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ‘মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অন হট সিট’ নামক সেগমেন্টে সাধারণ দর্শকের সাথে ওয়ান টু ওয়ান প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন তিনি। সেখানেই এক দর্শক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে প্রশ্ন করেন একসময় পার্শ্ব-নায়কের ভূমিকায় ছিলেন এখন নায়ক, এসবের বাহিরে আপনি নিজেকে নিয়ে নিজে কি মনে করেন? একটু হেসে রিয়াদ বলেন,

‘এসব তকমা নিয়ে চিন্তা করি না। শুধু কাজটাকে ভালোবাসি। পার্শ্ব-নায়ক থেকে নায়ক, এসব নিয়ে খুব একটা চিন্তা করি না। গত কয়েক বছর ধরে ফিনিশিং রোল দেওয়া হয়েছে। ওটাই করার চেষ্টা করি। দল সবার আগে। দলের জন্য যেটা ভালো সেটাই সবার আগে করার চেষ্টা করি।’

43296420 10217289693332332 6524667273859301376 n

সবচাইতে হতাশার ছিলো ভারতের বিপক্ষে পারফরম্যান্স। হেরেছে বাংলাদেশ।  এক দর্শক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পাফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন করেন। উত্তরে রিয়াদ বলেন,

‘ভারতের কাছে অনেক ম্যাচ হেরে গেছি। ক্রিকেটে কখনো হারবেন, কখনো জিতবেন। আমরা সব সময় চেষ্টা করি। এটা মানসিক বাধা হতে পারে, ঠিক নিশ্চিত না। তবে চেষ্টা করছি খুঁজে বের করতে যে ভুলটা কোথায় হচ্ছে। এতটুকুই চিন্তা করতে পারি, আরও কিছু খেলোয়াড় আছে যারা ভালোভাবে শেষ করতে পারে। দল হিসেবে আমাদের চেষ্টা করতে হবে।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাইলেন্স কিলার বলা হয় তাঁকে। ছোট থেকেই ২২ গজের ক্রিজকে দারুণ ভালোবাসেন এই তারকা ক্রিকেটার। ২০০৪ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। এর আগে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়েও মাঠ মাতিয়েছেন তিনি। ২০০৭ সালে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে মাঠে নামেন। প্রথম ম্যাচেই অর্ধশতক তুলে নেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৪২ রান। এরপর সে বছরের জুনেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক হয় তাঁর। প্রথম ম্যাচেই নিজেকে চেনান মাহমুদউল্লাহ। তামিমের ৫৪ রানের পর দ্বিতীয় সেরা স্কোরার (৩৬) ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক হয় তাঁর। দ্বিতীয় ইনিংসেই ৫১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি নিজেকে নিয়ে যান অনন্য উচ্চতায়।

97 Desk

Read Previous

‘মাশরাফি ভাইকে বলবো ওপেনিংয়ে নামানোর কথা’

Read Next

এপিএলে রাশিদ খানের বিধ্বংসী ব্যাটিং

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share