রিয়াদকে শেষ ওভারে আনার কারণ জানালেন মাশরাফি

1538192412040
Vinkmag ad

ইনিংসের সাত নাম্বার বলার হিসাবে সৌম্য সরকার আসলেন, আসলেন প্রথমবারের মতই। গেলেন বোলিং মার্কে, প্রস্তুতিটাও সেরে নিলেন পঞ্চাশতম ওভারে বল করার জন্য। প্রথমবারের মত এশিয়া সেরা হতে হলে আটকাতে হবে ছয় রান। তবে সৌম্য না, দেখা গেলো এই মিডিয়াম পেসারকে সরিয়ে আনা হলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। কি চলছিলো তখন অধিনায়কের মনে! কেনইবা এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া, এর কারণ খোলসা করেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা নিজেই।

আবারো শেষ ওভারে এসে তিলে তিলে গড়া স্বপ্নের অপমৃত্যু। আরও নির্দিষ্ট করে বললে শেষ বলে এসে। ভাগ্যটা যেন একটু বিপরিতমুখিই আচরণ করে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাথে। নাহলে কি আর ফাইলের মঞ্চে এসে প্রতিবারই এভাবে সাক্ষী হতে হয় হৃদয় ভাঙ্গার। হলো না এবারো, আগামী বারের শান্তনা নিয়েই ছাড়তে হলো মাঠ। তবে এতো স্বল্প পুঁজি নিয়েও যে ভারতের মত শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে লড়া যায়, তা বেশ ভালোই বুঝিয়েছেন টাইগার বোলাররা।

লক্ষ্যটা ২২৩ রানের। যেটা কীনা রোহিত-ধাওয়ানদের কাছে নস্যি প্রায়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখন এই রান হরহামেশাতেই চেজ করা যায়। সেখানে পঞ্চাশ ওভারি ক্রিকেটে কতটুকুই বা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন মুস্তাফিজ-রুবেলরা। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের পরেতো অনেকেই ধরাণা করে ফেলেছিলেন একপেশে এইটা ফাইনালের। তবে এদিন ম্যাচে যা হলো তা হয়তো দীর্ঘদিন মনে রাখবে ক্রিকেট সমর্থকেরা।

IMG 20180929 093623
হতাশা সঙ্গী করেই মাঠ ছাড়ছে বাংলাদেশ দল

নিয়ন্ত্রত বোলিংয়েই ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের চোখে চোখ রেখে শাসিয়ে গেছেন টাইগার বোলাররা। ম্যাচ গড়িয়েছে শেষ ওভারে। ফাইনালের মঞ্চে যেই স্মৃতিটা মোটেও সুখকর না বাংলাদেশের জন্য। কাল হয়েছে সেটাই, আবারো সেই ফাইনাল, সেই শেষ ওভার। নতুন গল্প স্বপ্ন ভাঙ্গার। তবে সেই ওভারে বাড়তি একজন স্পেশালিস্ট বোলার থাকলে হয়তো চিত্রনাট্যটা অন্য ভাবে লেখা হতো। চ্যাম্পিয়ন অধিনায়কের নামের পাশে লেখা যেতো মাশরাফি বিন মর্তুজা।

তবে হয়নি তেমনটা, শেষ ওভারে পার্টটাইম মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দিতে পারেননি আস্থার প্রতিদান। ফলাফলটা জানা সবারই। এদিকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোরের ম্যাচটা জিততে শেষ ওভারে ৮ রান লাগত আফগানদের। মুস্তাফিজুর রহমান দিয়েছিলেন মাত্র ৪ রান। ফাইনালে এটি করতে পারলেই তো হয়ে যেত। মুস্তাফিজুর তাহলে কেন শেষ ওভারটা করলেন না? ম্যাচ শেষে এসবের কারণ ব্যাখ্যা করেছে মাশরাফি নিজেই।

IMG 20180929 093642
ফাইনাল ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন রুবেল হোসেন

ম্যাচে স্পিনাররা ভালো করেনি বলেই শেষের ওভারটা মুস্তাফিজ বা রুবেলকে দিয়ে করাতে পারেননি মাশরাফি, ম্যাচ বাঁচাতে তাদের নির্দিষ্ট কোটা শেষ করা লেগেছে আগেই। এমনটা জানিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘ওদের যখন সাড়ে ৫ রান করে লাগে, তখন আমি মিরাজকে এনেছি। রিয়াদকে এনেছি। তখন কেউ যদি দুইটা ওভারও ভালো বোলিং করে দিত, তাহলে খুব ভালো হতো। একজন ভালো করলেও ৪৬ নম্বর ওভার থেকে আমি রুবেল ও মুস্তাফিজকে শেষ পর্যন্ত বোলিং করাতে পারতাম।’

ম্যাচটা হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে দেখে বাধ্য হয়েই রুবেল ও মুস্তাফিজকে আগেই ব্যবহার করে ফেলতে হয়েছে। শেষ ওভারে যে কারণে আর তাঁদের কাউকে পেলেন না মাশরাফি। সৌম্যর কথা ভেবেও শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহ কেন? কারণ হিসেবে বিপিএলে একাধিক ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর শেষ ওভারের বীরত্বের কথা জানালেন অধিনায়ক।

শেষে মাহমুদউল্লাহর হাতে বল তুলে দেওয়ার সময় কী বলেছিলেন তাঁকে? মাশরাফি বলেন, ‘রিয়াদকে বলছিলাম, ওরা মারতে যাবে। মারতে গেলে মিস হিট হতে পারে। বিশেষ করে কুলদীপ মারার চেষ্টা করবে। যাদব যেহেতু ব্যাটসম্যান, ও হয়তো তা করবে না। পঞ্চম বলটাই কিন্তু কুলদীপের ব্যাটে ইনসাইড এজ হয়েছিল। আসলে এ রকম পরিস্থিতিতে একটু লাক ফেবার করতে হয়।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

লিটনের ১২১, বাংলাদেশের ২২২

Read Next

‘কাপ্তান অফ এশিয়া কাপ- মাশরাফি’

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share