ভারতের কাছে টাইগারদের অসহায় আত্মসমর্পণ

1537555328816
Vinkmag ad

গত ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে হারের ক্ষত না শুকাতেই ভারতের কাছে আরেক হারের তিক্ত স্বাদ পেল বাংলাদেশ। এবারের এশিয়া কাপের সুপার ফোরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে ৭ উইকেটের পরাজয়ে ফাইনালে যাবার স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে হয়ে গেল বাংলাদেশের জন্য।

Bangladesh.bg20180922002103
ছবিঃ সংগৃহীত

টসে জিতে ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান। যদিও রোহিতের এমন সিদ্ধান্তে বেশ খুশিই হয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় তার সেই হাসি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। নির্ধারিত ৫০ ওভারের কোটা শেষের ৫ বল আগেই মাত্র ১৭৩ রান করে অল আউট হয় বাংলাদেশ।  জবাবে রোহিতের খুনে ব্যাটিংয়ে ৮০ বল বাকি থাকতেই ৩ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে ভারত।

১৭৪ রানের সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে দুই ওপেনার রোহিত-ধাওয়ান মিলে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন ভারতকে। যে পিচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা নাকানি চুবানি খেয়েছে সেই পিচে ভারতের দুই ওপেনার মিলে ১৪ ওভার দুই বলে তুলে নেন ৬১ রান।     

৪৭ বলে ৪০ রান করা ধাওয়ানকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশেকে প্রথম উইকেট নেওয়ার আনন্দে ভাসান সাকিব আল হাসান। ২৮ বলে ১৩ রান করে আম্বাতি রাইডুকে যখন রুবেল ফেরান ততোক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য লেখা হয়ে গিয়েছে। দলীয় ১০৬ রানের মাথায় আউট হয় এ ব্যাটসম্যান।

এরপর বাকি পথটা পাড়ি দিতে থাকেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা ও এমএস ধোনি। এ জুটিতে ৬৪ রান যোগ করে দলীয় ১৭০ রানের মাথায় মাশরাফির বলে মিথুনের হাতে ধরা পড়েন ধোনি। ফেরার আগে ৩৭ বলে ৩৩ রান করেন ভারতের সফল এই সাবেক অধিনায়ক।  

৮০ বল বাকি থাকতেই ভারতের জয় নিশ্চিত হয়। রোহিত শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৫ চার ও ৩ ছয়ে ৮৩ রান করে।

এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় সিমার ও স্পিনারদের কাছে বড় ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয় বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদেরকে। স্কোরবোর্ডে ১৬ রান তুলতেই দুই উকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় টাইগাররা। আরো একবার ব্যর্থ হয়ে ফিরলেন লিটন। প্রথম ম্যাচে শূন্য, দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ রানের পর আজ করলেন ৭। লিটন দাসের বিদায়ের চার বল পরেই ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলেই বুমরাহর বলে স্লিপে থাকা ধাওয়ানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নিলেন ওপেনার নাজমুল হাসান শান্ত।

রবীন্দ্র জাদেজার আগের দুই বলে মেরেছিলেন টানা দুই চার। যার শেষটা সুইপ করে। পরের বলে অযাচিতভাবে আবার সুইপ করতে গেলেন সাকিব আল হাসান। এবার ধরা পড়লেন স্কয়ার লেগে শিখর ধাওয়ানের হাতে। উইকেট ছুড়ে দিয়ে সাকিব আউট ৩ চারে ১৭ রানে। তখন ৪৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে বাংলাদেশ দল।

দলীয় ৬০ রানে রবীন্দ্র জাদেজার বলে এলবিডব্লিউ হন মোহাম্মদ মিঠুন। রিভিউ নিয়েও তিনি বাঁচতে পারেননি। ১৯ বলে নয় রান করেন তিনি। একপ্রান্তে উইকেট পড়ছিল নিয়মিত বিরতিতেই। মুশফিকুর রহিমের কাঁধে ছিল বড় দায়িত্ব। কিন্তু দলীয় ৬৫ রানে পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটল বাংলাদেশের। রবীন্দ্র জাদেজার শিকার হলেন ৪৫ বলে ২১ রান করা মুশফিকুর রহিম। শর্ট থার্ড ম্যানে যুজবেন্দ্র চাহালের হাতে ক্যাচ হন মুশফিক।

ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সঙ্গে ৩৬ রানের পার্টনারশিপ গড়েন রিয়াদ। কিন্তু দলীয় ১০১ রানে ষষ্ঠ উইকেট হিসেবে বিদায় নেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের শেষ ভরসা। ৫১ বল খেলে ২৫ রান করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ওই ১০১ রানেই মোসাদ্দেকের উইকেটও হারিয়েছে বাংলাদেশ। মোসাদ্দেককে ফিরিয়ে জাদেজার চতুর্থ।

১০১ রানে ৭ উইকেট থেকে বাংলাদেশকে ‘অনেকখানিই’ টানলেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। ৮ম উইকেটে ৬৬ রান, দুজন মিলে মারলেন চারটি ছয়। একসময় প্রবলভাবে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশ লড়াই করার মতো সংগ্রহ পেল। ৩২ বলে ২ ছক্কায় মাশরাফি করেন ২৬। ৫০ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় শেষ হয় মিরাজের ৫২ রানের দারুণ ইনিংস। ফলে নির্ধারিত ওভারের আগেই সব’কটি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছে ১৭৩ রান।

বল হাতে রবীন্দ্র জাদেজা সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন। ভুবেনেশ্বর কুমার ও বুমরাহর শিকার ৩টি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশঃ ১৭৩/১০ (৪৯.১ ওভার); রিয়াদ ২৫, মিরাজ ৪২, মাশরাফি ২৬, মোসাদ্দেক ১২, মুশফিক ২১, সাকিব ১৭, মিঠুন ৯, লিটন ৭, শান্ত ৭; জাদেজা ৪/২৯, বুমরাহ ৩/৩৭, ভুবেনেশ্বর ৩/৩৩

ভারতঃ ১৭৪/৩ (৩৬.২ ওভার); রোহিত ৮৩*, ধাওয়ান ৪০, রাউডু ১৩, ধোনি ৩৩, কার্তিক ১*

মাশরাফি ৩১/১, সাকিব ৪৪/১, রুবেল ২১/১, মুস্তাফিজুর ৪০/০

ফলাফলঃ ভারত ৭ উইকেটে জয়ী

ম্যান অফ দ্যা ম্যাচঃ রবীন্দ্র জাদেজা   

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

ঝুঁকি না নিতেই দুবাই যাচ্ছেন দুই ওপেনার

Read Next

অধিনায়ক জানেনই না সৌম্য-ইমরুলের আসার খবর!

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share