ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ(ডিপিএল), এক রোমাঞ্চকর গল্পের শেষ অধ্যায়!

featured photo1 7
Vinkmag ad

চলছে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ(ডিপিএল) এর ৪২ তম আসর। ক্লাব ক্রিকেটের এই লীগ নিয়ে খুঁটিনাটি নিয়ে লিখেছেন নাহিদ হাসান। 

সময়টা ১৯৭৪, মাত্রই শুরু, স্বাধীন দেশ হিসেবে ক্রিকেট টিম গড়াল লক্ষ্যে যে সুদূর প্রসারি পরিকল্পনা তৎকালীন বোর্ড কর্মকর্তাগণ নিয়েছিলেন তার প্রথম অধ্যায় ছিল ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট, পরে যেটাকে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ(ডিপিএল) নাম দেওয়া হয়। যদিও তখনও এদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে তবুও ঢাকা ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করতে এগিয়ে আসেন সেই সময়ের জনপ্রিয় দুই ক্লাব ‘ঢাকা আবহানী ক্রীড়াচক্র’ ও ‘মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব’। তখনকার সময়ে আবহানী-মোহামেডান ম্যাচ মানেই স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শক আর টান টান উত্তেজনা। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমের পর একে একে বসেছে ৪১টি আসর, এই ৪১ আসরের মধ্যে সর্বাধিক বার চ্যাম্পিয়্ন হয়েছে “ঢাকা আবহানী লিমিটেড”। মাঠে চলছে ডিপিএলের ৪২ তম আসর এবং জমে উঠেছে এবারের লীগ। ২০১৩-১৪ মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ লিস্ট-এ ম্যাচের মর্যাদা পায়।

নব্বই দশকের শুরুতে বাংলাদেশ যখন আইসিসির সহযোগী দেশ তখন থেকে এদেশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ঢাকা লীগে তখন সেই সময়ের বিশ্বের নামকরা ক্রিকেটারদের খেলতে দেখা গেছে। কপিলদেব, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, সৌরভ গাঙ্গুলি, অজয় জাদেজা, জয়সুরিয়া, শহীদ আফ্রিদী, মোহাম্মাদ ইউসুফ থেকে শুরু করে ইমরান নাজির, যুবরাজ সিং, ইউসুফ পাঠান, ইউহান মরগান, রবি বোপারা সহ অনেকে খেলেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে। ভারতের রমন লম্বা এক সময়ে ঢাকা লীগের ঘরের ছেলে হয়ে উঠেছিলেন যিনি কিনা ঐ সময়ে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া ক্রিকেটার ছিলেন। কিন্ত ম্যাচ চলাকালীন সময়ে শর্ট স্লীপে ফিল্ডিং করার সময় ব্যাটসম্যান মেহরাব হোসেন অপির একটি শটে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যু বরন করেন তিনি।

১৯৭৪-৭৫ মৌসুম থেকে ২০১৫-১৬ এই পর্যন্ত ঢাকা আবহানী লিমিটেড চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মোট আঠারো বার, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নয় বার, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাঁচ বার, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব হয়েছে চার বার, ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টিং ক্লাব হয়েছে দুইবার এবং ব্রাদার্স ইউনিয়ন, গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্র এবং প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব একবার করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।  ২০১২-১৩ মৌসুমে মাঠে গাড়ায়নি এ লীগ।

ডিপিএলের  ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানে সবার আগে রকিবুল হাসানের নাম, চলতি মৌসুমেই তিনি মোহামেডানের হয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর বিপক্ষে খেলেন ১৯০ রানের এক চোখ ধাঁধানো ইনিংস। এর পরেই আছে ভিক্টোরিয়ার হয়ে চামারা কাপুগেদেরার ১৬১* রানের ইনিংস, প্রাইম ব্যাংকের হয়ে রবি বোপারার ১৫৭* আছে তিনে।

বোলিং এ সবার উপরে ব্রাদার্স উইনিয়নের বিদেশি রিক্রুট শন উইলিয়ামস এর ২৫ রানে ৭ উইকেট। এরপর আবহানীর হয়ে সাকলাইন সজীবের ৫৮ রানে ৭ উইকেট, তিনে আছেন নাঈম ইসলাম তিনি লিজেন্ড অফ রূপগঞ্জের হয়ে ৩৩ রানে ৬ উইকেট নেন।

বিপিএলের এই যুগে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ এখনও অনেক তরুণ ক্রিকেটারের স্বপ্নের প্লাটফর্ম। তারা এই লীগের উপর চেয়ে থাকে সারা বছর; তাদের রুটি রুজির বড় অংশ আসে এখান থেকেই। ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ ফিরে পাক তার হারানো ঐতিহ্য, জমজমাট সেই লড়াই নতুন করে ফিরুক মাঠে এইটাই কামনা।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বিসিসিআইয়ের আর্থিক ক্ষতির নেপথ্যে শ্রীনিবাসন আর অনুরাগঃ লোলিত মোদি

Read Next

শশাঙ্কই থাকছেন আইসিসি সভাপতি

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share