রেকর্ড রানেও বাংলাদেশের পরাজয়

sl
Vinkmag ad

সৌম্য-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ করে টাইগাররা। ছন্দময় ব্যাটিংয়ে রেকর্ড রান গড়েও হতাশার বোলিংয়ে জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। দাপুটে ব্যাটিংয়ে ২০ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে ১৯৪ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলংকা।

kushol 1

তামিম ইকবালের জায়গায় অভিষিক্ত জাকির হাসান ওপেনিংয়ে আসেন সৌম্য সরকারের সাথে। শেহান মাদুশানাকার করা প্রথম ওভারেই ১৭ রান তুলেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও জাকির হাসান। পরের ওভারে আসে ৯ রান। তৃতীয় ওভারে বাংলাদেশ পায় ১৫ রান। তৃতীয় ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪১ রান।

শুরুটা ভালো হলেও ইনিংস বড় করতে পারলেন না জাকির হাসান, ১০ রান করে ফিরে গেছেন প্যাভিলিয়নে। জাকির আউট হলেও সৌম্য সরকার রানের চাকা সচল রেখেছেন। ২৬ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। তারপর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরিও তুলে নেন সৌম্য। তবে ফিফটি পূরণের পরই লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছেন সৌম্য। ফলে মুশফিকের সাথে জুটি ভাঙ্গে ৫১ রানের।

সৌম্যর আউটের পরই আবার ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। অভিষিক্ত আফিফ হোসেন কিছুই করতে পারেননি। রানের খাতা খোলার আগেই তাকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান জীবন মেন্ডিস। চতুর্থ উইকেটে জুটি বাঁধেন মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৩২ বলে তারা জুটির পঞ্চাশ রান পূর্ণ করেন।

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। ৩৭ বলে ফিফটি ছুঁয়েছেন মুশফিক। তবে হাফ সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৭ রান দূরে থেকে আউট হয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৩১ বলে ২ চার ও ২ ছয়ে ৪৩ রান করে প্যাভিলয়নে ফেরেন তিনি। তারপরও ঝড় থামেনি মুশফিকের ব্যাটে, ৭ চার ও ১ ছয়ে করেছেন ৬৬ রান। ফলে ৫ উইকেটে ১৯৩ রানের বড় পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কাকে করতে হবে ১৯৪ রান।

মেন্ডিস দু’টি উইকেট লাভ করেন। একটি করে নেন গুনাথিলাকা, ইসুরু উদানা ও থিসারা পেরেরা।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু করেন লঙ্কান দুই ওপেনার কুশল মেন্ডিস ও দানুশকা গুনাথিলাকা। তবে ওপেনিং জুটি ভেঙে মূল্যবান ব্রেকথ্রু এনে দেন নাজমুল ইসলাম অপু। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অপুর প্রথম শিকার হয়ে গুনাথিলাকা ফিরে যান ৩০ রানে। অপুর পর অভিষেকেই উইকেটের স্বাদ পান আফিফ হোসেন। বিপদজনক কুশল মেন্ডিসকে প্যাভিলিয়নে পাঠান ৫৩ রানে।

নিজের শেষ ওভারে আবার অপুর আঘাত। নিজের দ্বিতীয় শিকার বানিয়ে নাজমুল অপু প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান উপুল থারাঙ্গাকে। তারপর উইকেটে আসা নিরোশান ডিকওয়েলাকে বেশি দূর যেতে দেননি রুবেল হোসেন। ১১ রান করে সাইফুদ্দীনের কাছে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরেন ডিকওয়েলা।

তারপর থিসারা পেরেরা ও দাসুন শানাকা বাংলাদেশের বোলারদের উপর রীতিমতো ঝড় চালিয়েছেন। বোলিং প্রান্তে এসে বিধ্বস্ত হয়ে গেছেন রুবেল-মুস্তাফিজ-সাইফরা। পেরেরা-শানাকা ৩০ বলে জুটি গড়েছেন ৬৫ রানের। শানাকার ৪২* ও পেরেরার দ্রুত ৩৯* রানে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় শ্রীলঙ্কা। ফলে ২০ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় পায় হাতুরুর শিষ্যরা।

বল হাতে দুটি উইকেট নিয়েছেন নাজমুল ইসলাম অপু। ১টি করে শিকার করেছেন আফিফ ও রুবেল হোসেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশঃ ১৯৩/৫ (২০ ওভার) মুশফিক ৬৬*, রিয়াদ ৪৩, সৌম্য ৫১, জাকির ১০; মেন্ডিস ২/২১ , গুনাথিলাকা ১/১৬, উদানা ১/৪৫, পেরেরা ১/৩৬

শ্রীলঙ্কাঃ ১৯৪/৪ (১৬.৪ ওভার) মেন্ডিস ৫৩, গুনাথিলাকা ৩০, ডিকওয়েলা ১১, শানাকা ৪২*, পেরেরা ৩৯*; অপু ২/২৫, আফিফ ১/২৬, রুবেল ১/৫২

ফলাফলঃ শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরাঃ কুশল মেন্ডিস (শ্রীলঙ্কা)

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

দুই হাফসেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ!

Read Next

সাকিব আছে, সাকিব নেই!

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share