পরিণত তামিম ভয়ঙ্কর

featured photo1 66

১৮ বছর ছুঁইছুঁই তামিম ইকবালের ওয়ানডে অভিষেক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০০৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। ২৯ ছুঁইছুঁই তামিম ইকবালের শেষ ওয়ানডেতেও প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। মাঝে পেরিয়ে গেছে প্রায় ১১ বছর। এই সময়ে তামিম ইকবাল হয়েছেন পরিণত। আর পরিণত তামিম ইকবাল প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ঙ্কর।

ক্যারিয়ারের প্রথম ১০ ওয়ানডেতে তামিম ইকবাল রান করেন ১৮.৫০ গড়ে ১৮৫। কোন সেঞ্চুরি না পাওয়া তামিম নিজের খেলা পঞ্চম ম্যাচে বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের বিপক্ষে ৫১ রান করে নিজের সক্ষমতা অবশ্য প্রমাণ করেছিলেন। তবে পরিসংখ্যান বিবেচনায় ১০ ম্যাচ খেলা তামিম ইকবালকে ‘অর্ডিনারি’ বলতে বাধ্য করে।

73006.2
২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে করেছিলেন প্রথম ফিফটি

পরবর্তী ১০ ম্যাচে তামিম ফিফটি করেন দুইটি। রান করেন ২৫৭। ২০ ম্যাচ খেলে ফেলা তামিমের গড় ছিলো ২২.১০। ৩০ ম্যাচ শেষে যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮.৭০। ম্যাচ নম্বর ২১ থেকে ম্যাচ নম্বর ৩০ পর্যন্ত তামিম করেন ১ সেঞ্চুরি ও ৩ ফিফটিতে ৪১৯ রান।

৩৭ তম ম্যাচে এসে ওয়ানডেতে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তামিম। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১২৯ রানই তখন তামিমের একমাত্র সেঞ্চুরি, ফিফটি সংখ্যা ৭। ৫০ তম ম্যাচের পর যা বাড়ে কিঞ্চিত (১ সেঞ্চুরি, ৮ ফিফটি)।

৫০ ম্যাচে ২৬.০৪ গড়ে ১৩০২ রান করা তামিম ২০০০ রানের মাইলফলক পার করেন ৭০ তম ম্যাচে। ততদিনেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ‘ড্যাডি টন’ (১৫৪) করে ম্যাচ জেতানো তামিমের গড় ৩০ স্পর্শ করেনি। ম্যাচ সংখ্যা ১০০ পার করে ১০২ তম ম্যাচে তামিম পার করেন ৩০০০ রানের গন্ডি। তামিমের ক্যারিয়ারে তখন ১৯ ফিফটির সাথে ছিল ৩ সেঞ্চুরি। তামিমের ব্যাটিং গড় তখন ৩০ এর কাছাকাছি (২৯.৪৯)।

১৩৮ তম ম্যাচে যেয়ে ৪০০০ রান পার করেন তামিম। ততদিন পর্যন্ত ১ টি ম্যাচে অপরাজিত থাকেন তামিম (বিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ)। ৪ সেঞ্চুরি, ২৮ ফিফটিতে তামিমের গড় তখন ৩০.০৩।

বিশ্বকাপের মঞ্চে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচজয়ী ৯৫ রানের ইনিংস খেলার পথে ৪০০০ রান পূর্ণ করা তামিম ইকবাল বিশ্বকাপ শেষ করেন ১৪১ ম্যাচে ৪১২৫ রান নিয়ে। গড় ২৯.৬৭।

272078
দেশসেরা ওপেনার এখন পরিণত

ততদিনে ক্যারিয়ের বিভিন্ন ধাপ দেখে ফেলা তামিম ইকবাল প্রতিভা ও পরিশ্রমকে এক করে শক্ত হয়েছেন। আর পরিবর্তন এসেছে তার মানসিকতায়। পরিণত তামিমকে বিশ্বকাপ শেষের পরে দেখেছে গোটা বিশ্ব। তামিম দিনের পর দিন হয়েছেন আরো পরিণত, বড্ড বেশি ভয়ঙ্কর।

২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে এখন পর্যন্ত তামিম খেলেছেন ৩৪ ম্যাচ। সেখানে তামিম রান করেছেন ১৭২৫। এই সময়ে তামিম সেঞ্চুরি করেছেন ৫ টি, ফিফটি ১১ টি। গড়টা আকাশচুম্বী ৫৯.৪৮!

প্রথম ১০০০- ৩৭ ম্যাচ
দ্বিতীয় ১০০০- ৩৩ ম্যাচ
তৃতীয় ১০০০- ৩২ ম্যাচ
চতুর্থ ১০০০- ৩৬ ম্যাচ
পঞ্চম ১০০০- ২১ ম্যাচ

৫০০০ রান পূর্ণ করার পর ইতোমধ্যেই ১৬ ম্যাচে ৮৪৩ রান করে ফেলেছেন তামিম। ৬ষ্ঠ ১০০০ রান তাই আসতে চলেছে আরো দ্রুততম সময়ে। পরিণত, ভয়ঙ্কর তামিমের ব্যাট সেরকমই কথা বলছে।

২০১৫ বিশ্বকাপের পর তামিম- ১৩২, ১১৬*, ৬৪, ৬০, ১৩, ৫, ০, ৫, ৬১*, ৪০, ১৯, ৭৩, ৮০, ২০, ১১৮, ১৭, ১৪, ৪৫, ৩৮, ১৬, ৫৯, ১২৭, ব্যাট করেননি, ৪, ৬৪*, ২৩, ৪৭, ৬৫, ১২৮, ৯৫, ০, ৭০, ২৩, ৮৪*!

Shihab Ahsan Khan

Shihab Ahsan Khan, Editorial Writer of Cricket97 & en.Cricket97

Read Previous

কোহলিকে ম্যাচ ফি’র ২৫ শতাংশ জরিমানা

Read Next

‘হাথুরুসিংহে তো রান করতে বা উইকেট নিতে পারে না’

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share