‘নির্বাচকদের বলছি, মনটা আরেকটু বড় করুন’

featured photo1 49

বয়সটা এখন ৩৩, বাংলাদেশের হয়ে ৬ টেস্ট, ৫২ ওয়ানডে ও ৮ টি-টোয়েন্টি খেলা সৈয়দ রাসেল লজ্জিত ডিপিএল প্লেয়ার্স ড্রাফটে নিজের অবস্থান দেখে। ‘সি গ্রেডে’ সৈয়দ রাসেলকে রাখায় বিসিবি তাঁকে অপমান করেছে বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন সৈয়দ রাসেল। বিসিবির প্রতি রাসেলের আহ্বান, ‘মন বড় করুন’।

নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে সৈয়দ রাসেল লেখেন, “নির্বাচকদের বলছি, মনটা আরেকটু বড় করুন। টেস্ট খেলা দুজন ক্রিকেটারকে এভাবে অপমান না করলেও পারতেন। আপনারই বলেন শ্রদ্ধা করতে, কিন্তু নিজেরাই শ্রদ্ধা করতে শিখলেন না। রেকর্ড ঘাটুন। পারফর্ম করে ক্রিকেট খেলি, চেহারা দেখিয়ে নয়।”

Capture
সৈয়দ রাসেলের ঐ স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট

উল্লেখ্য, সি গ্রেডে সৈয়দ রাসেল ছাড়াও রবিউল ইসলাম আছেন যাদের কিনা বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা সৈয়দ রাসেল চোট কাটিয়ে আড়াই বছর পর গত ঢাকা লিগে ফেরেন সৈয়দ রাসেল। লিজেন্ডস অফ রুপগঞ্জের হয়ে রাসেল খেলেছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজার সতীর্থ হয়ে। ৮ টি উইকেটের দেখা পেয়েছিলেন, শেষ ম্যাচে পেয়েছিলেন ৪ উইকেট। সেই রাসেলেরই জায়গা হলো সি গ্রেডের তালিকায়। এটাই মানতে পারছেন না রাসেল।

Syed Rasel 3
ছবি: সংগৃহীত

প্রসঙ্গত, দেশের শেষ প্রান্ত বেনাপোল থেকে ২০-২৫ কিঃমিঃ আগের এক পৌরসভা ঝিকরগাছা। ঝিকরগাছা থানার অন্তর্গত “গদখালী” ই এ অঞ্চলের মানুষের কাছে গর্বের ছিলো। দেশের ফুলের চাহিদার অর্ধেকই যে মেটে এই গদখালীর ফুলের ফলন উপযোগী মাটি থেকেই। তবে এই ছোট মফস্বলের মানুষদের গর্ব করার আরো এক উপলক্ষ আসলো ২০০৫ সালের ৩১শে আগস্টে। গদখালীর ফুলের পাশাপাশি তাদের ঘরের ছেলে রাসেল যে ফুল হয়ে ফুটে খেলতে শুরু করলো বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে।

২০১০ সাল পর্যন্ত নিয়মিত খেলেছেন দেশের হয়ে। তারপর থেকে দলে ডাক পায়নি ঝিকরগাছার রাসেল। তাতে ঝিকরগাছার মানুষের গর্ব কমবে কেনো? তারা তো বলতেই পারে এই যে ভারতকে হারিয়ে সবাই উল্লাস করছে, ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতবধে তাদের ঘরের ছেলের কিপ্টে বোলিং(১০-২-৩১-০) ছিলো গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে রাসেল নিয়ন্ত্রিত সুইং বলে রান আটকে রেখেছিলেন আর অপরপ্রান্তে উইকেট নিয়েছিলেন ম্যাশ। পচা শামুকে পা কাটার ভয় দূর হয়েছিলো বারমুডার সাথে জিতে। সেখানেও যে ঝিকরগাছার রাসেল ছিলেন উজ্জ্বল। ৫ ওভার বল করে ১৪ রান দিয়ে তুলে নিয়েছিলেন ২টি উইকেট। এতো গেলো পোর্ট অফ স্পেইনের কথা। প্রোভিডেন্সে আফ্রিকানদের যে নাকানি চুবানি খাইয়েছিলো বাশারের বাংলাদেশ, তাতে ঝিকরগাছার ঘরে ঘরে মিষ্টি বিতরণ করা শুরু হয়েছিলো দক্ষিন আফ্রিকা ব্যাটিং এ নামার পরপরই। সবাই বলে আশরাফুলের মহাকাব্যিক ৮৭ রানের ইনিংসের কথা, সবাই বলে রাজ্জাকের অসাধারণ স্পিন বোলিং এর কথা। তাদেরকে ঝিকরগাছাবাসী আঙ্গুল উচিয়ে বলতেই পারে শুরুতে গ্রায়েম স্মিথ ও জ্যাক ক্যালিসকে রাসেল ফিরিয়ে দিতে না পারলে গল্পটা অন্য রকম হতেই পারতো।

বাহাতে বল করে সুইং করাতে পারতেন হরহামেশাই। গতিটা ছিলোনা ওভাবে কখনোই। সুইং বোলাররা যদিও ১৪০-১৫০ গতিতে বলও করেনা সচরাচর। নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থ দিয়ে রানের লাগাম টেনে ধরতে পারতেন রাসেল। ৫২ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে মাত্র ১১ বারই ইকনোমি ৬ ছাড়িয়েছে। ৪৪২.৫ ওভার বল করেছেন ওয়ানডেতে। তাতেই মেডেন এর সংখ্যা ৪১টি। ওয়ানডেতে ইকনোমি তাই মাত্র ৪.৬৩। উইকেট ৬১টি। টেস্টে যদিও সুখকর না রাসেলের ক্যারিয়ার। ৬ ম্যাচের ৮টি ইনিংসে বল করে নিতে পেরেছেন ১২টি উইকেট। ইকনোমি ৩.৯১। যা রাসেল সুলভ না মোটেও। শেষের দিকে রানটা একটু বেশি দিয়ে ফেলছিলেন। উইকেটের দেখা পাচ্ছিলেন না ওরকম। কোচ বলেছিলেন দলে থাকতে হলে বলের গতি বাড়াতে হবে। সুইং এ ব্যাটসম্যানদের কাবু করতে জানা রাসেল স্বভাবতই তা করতে পারেননি। ফলাফল সবার জানা।

Shihab Ahsan Khan

Shihab Ahsan Khan, Editorial Writer of Cricket97 & en.Cricket97

Read Previous

শ্রীলঙ্কান আইকনিক ফ্যানদের ভিসা সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছে বিসিএসএ

Read Next

আশরাফুলের ব্যর্থতার দিনে লিটনের ফিফটি

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share