লাঞ্চের আগেই দ. আফ্রিকার জয়

match report 2
Vinkmag ad

ফাফ ডু প্লেসিসের ইঙ্গিতটা ছিল পরিষ্কার। সফরকারীদের সামনে লক্ষ্য দাঁড় করানো গেছে পাহাড় সমান। ইনিংসটা ঘোষণা করে তাই চতুর্থ দিনের বাকি থাকা সময়টাতেই ম্যাচ জিতে নেয়ার চেষ্টা স্বাগতিকদের। অবশ্য চতুর্থ দিনে বৃষ্টি ঘটতে দেয়নি তেমনটা। তবে পঞ্চম ও শেষদিনে প্রোটিয়ারা পুষিয়ে নিয়েছে সে ক্ষতি। এক সেশনেই দক্ষিণ আফ্রিকা হারিয়ে দিয়েছে টাইগারদের।

268709

আগের দিনের ৪৯ রানের সঙ্গে বাংলাদেশ আর যোগ করতে পেরেছে ৪১ রান। বাকি থাকা সাত উইকেট খুইয়ে বাংলাদেশ গুটিয়েছে ৯০ রানে। ম্যাচের তখনও বাকি লাঞ্চটা, সাথে দুই সেশন। ৩৩৩ রানে প্রথম ম্যাচ জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে এগিয়েছে ১-০ ব্যবধানে।

সোমবারের নতুন সকালে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ছিলেন নতুন ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ম্যাচ বাঁচানোর আশায় এই দুজনের উপরই ভরসাটা ছিল সবার। আগের দিন মুশফিকের স্টাম্প উপড়ালেও মর্নে মর্কেলের বলটা ‘নো’ হওয়ায় বেঁচে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

তবে এদিন আর বাঁচেননি মুশফিক। কাগিসো রাবাদার লাফিয়ে ওঠা বলটা চুমু দিয়েছে মুশফিকের ব্যাটে। আর সেটাই সযত্নে লুফে নিয়েছেন দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা হাসিম আমলা। মাহমুদুল্লাহ তখন লিটনকে পাশে নিয়ে অপেক্ষায় অসম্ভবকে সম্ভব করার মিশনে।

সে মিশনে মাহমুদুল্লাহকে হতাশা উপহার দিয়ে সাজঘরে পথটা দেখিয়ে দিয়েছেন কাগিসো রাবাদা। টাইগার দলপতিকে ফেরানোর পর রাবাদা ফিরিয়েছেন আগের ইনিংসে অর্ধশতকের দেখা পাওয়া রিয়াদকে। অফ সাইডের বলটায় ব্যাট ছুঁইয়ে রিয়াদ টেনে এনেছেন স্টাম্পে। রিয়াদের সংগ্রহ ৯, দলের রান তখন ৫ উইকেটে ৬২!

ম্যাচটা ততক্ষণে হাতছাড়া বাংলাদেশের। বাকি পাঁচ উইকেট নিয়ে সারাদিন লড়বে বাংলাদেশ! এমনটা কেউ ভেবে থাকলে বাস্তবতা তাকে অবশ্যই ফেরাবে লিটন দাসের আউটটায়। সময় পেয়েছিলেন অনেক তবুও কি এক অদ্ভুত কারণে পা-টাই সরালেন না লিটন! রিভিউ নিয়েও বাঁচেননি, রাবাদার আগুনে পুড়ে লেগ বিফোর হয়ে সাজঘরে ততক্ষণে লিটন।

হাতে চার উইকেট যার তিনজনই বোলার। সাব্বির রহমান হয়তো ভাবেননি ম্যাচ জেতার কথা। আসল সে কথা তাকে ভাবতেই দেননি কেশব মহারাজ। কেশবের বলটা যখন পা ছুঁয়েছে সাব্বিরের, পা-টা ছিল স্টাম্পের লাইনেই। ফলাফল, বাংলাদেশের সপ্তম উইকেটের পতন।

সেশনের বাকি সময়টায় স্বাগতিকদের ছিল শুধুই ম্যাচ জেতার অপেক্ষা। মাঝে তাসকিন আহমেদ ফিরেছেন কেশবের বলে, আবারও লেগ বিফোরের শিকার হয়ে। রাবাদা আর কুইন্টন ডি ককের বোঝাপড়ায় রানআউটে কাটা পড়েছেন শফিউল ইসলাম।

প্রোটিয়াদের ম্যাচ জিততে দরকার আর মাত্র এক উইকেট। আম্পায়াররা তাই খেলা চালিয়ে গিয়েছেন লাঞ্চের জন্য নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাবার পরেও। কেশব মহারাজ সেই অপেক্ষাটা দীর্ঘায়িত করেননি অবশ্য। মুস্তাফিজুর রহমানের ক্যাচটা নিজেই পাকড়ে নিয়ে অতিথিদের থামিয়ে দিয়েছেন শত রানের আগেই।

স্বাগতিক বোলারদের মধ্যে কেশব মহারাজ নিয়েছেন চার উইকেট। সকালের বিধ্বংসী এক স্পেলে রাবাদা তুলেছেন তিন উইকেট। আর শুরুতে সফরকারীদের টপঅর্ডার গুঁড়িয়ে দেয়া মর্নে মর্কেল পঞ্চম দিনে মাঠে না নামলেও ঝুলিতে ঠিকই পুরেছেন দুই উইকেট।

প্রথম ইনিংসে নিজের দ্বিশতক বঞ্চিত হবার আফসোসটা একটু হলেও ভুলেছেন ডিন এলগার। পচেফস্ট্রুমের প্রথম টেস্টের ম্যাচ সেরা ক্রিকেটারের পুরষ্কারটা গিয়েছে তার হাতেই।

পরের টেস্টটা শুরু হবে ৬ই অক্টোবর থেকে। ব্লুমফন্টেইনে সিরিজে এগিয়ে থেকে আত্মবিশ্বাসী দক্ষিণ আফ্রিকা মাঠে নামবে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের বিপক্ষে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ডঃ

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংসঃ ৪৯৬/৩ (ইনিংস ঘোষণা)

বাংলাদেশ ১ম ইনিংসঃ ৩২০/১০

দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংসঃ ২৪৭/৬ (ইনিংস ঘোষণা)

বাংলাদেশ ২য় ইনিংসঃ ৯০/১০ (৩২.৪ ওভার) ইমরুল ৩২, মুশফিক ১৬, মিরাজ ১৫*, রিয়াদ ৯, লিটন ৪, সাব্বির ৪, তাসকিন ৪, শফিউল ২, মুস্তাফিজ ১, তামিম ০, মুমিনুল ০। কেশব ৪/২৫, রাবাদা ৩/৩৩, মর্কেল ২/ ১৯

ফলাফলঃ দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৩৩ রানে জয়ী।

ম্যান অফ দ্যা ম্যাচঃ ডিন এলগার (দক্ষিণ আফ্রিকা)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

৯০তেই শেষ টাইগারদের ইনিংস

Read Next

সিলেটে যুবদল নিতে পারেনি একশো রানও

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share