তামিম-মুমিনুলের ব্যাটে তাকিয়ে অতিথিরা

match report 32
Vinkmag ad

সাব্বির রহমান আগের দিন শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন স্বাগতিকরা রান পাহাড়ে চাপা দিতে পারে টাইগারদের। সেই হিসেবে অতিথিদের একটু চমকে দিয়ে পাঁচশো রান না ছুঁয়েই ইনিংস ঘোষণা করেছে প্রোটিয়ারা। অবশ্য যা সংগ্রহ এসেছে স্কোরকার্ডে, সেটাও কম নয়। দ্বিতীয় দিনশেষে টাইগারদের ফলোঅন এড়াতে এখনও প্রয়োজন ১৬৯ রান। 

tamim iqbal and mominul এর ছবি ফলাফল
ফাইল ছবি

পচেফস্ট্রুমে সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনশেষে স্বাগতিকদের চেয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে ৩৬৯ রানে। ৩ উইকেট হারিয়ে টাইগারদের সংগ্রহ ১২৭ রান। উইকেটে অপরাজিত আছেন মুমিনুল হক (২৮*) এবং তামিম ইকবাল (২২*)। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের ইনিংস ঘোষণা করে ৩ উইকেটে ৪৯৬ রান তুলে।

ফাফ ডু প্লেসিসের সিদ্ধান্তটা এসেছে তড়িৎ গতিতেই। আর তাতেই প্রথমবারের মত টেস্টে ব্যাটিংয়ের উদ্বোধনে উইকেটে আসতে পারলেন না তামিম ইকবাল। দ্বিতীয় সেশনে ফিল্ডিংয়ের সময় শেষ ৪৯ মিনিট মাঠে ছিলেন না তামিম ইকবাল। আর গত বছর অ্যাডিলেড টেস্টের মত এবারও চতুরতার পরিচয় দিয়ে তামিমকে আটকে দিয়েছেন ডু প্লেসিস। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সে টেস্টে ডেভিড ওয়ার্নার ছিলেন মাঠের বাইরে।

তামিমের অনুপস্থিতে তাই ব্যাট করতে ইমরুল কায়েসের সঙ্গী হিসেবে নামতে হয়েছে উইকেটরক্ষক লিটন দাসকেই। অথচ ১৪৬ ওভার উইকেটের পেছনটা সামলে একটু আগেই শিবিরে ফিরেছিলেন লিটন।

বাংলাদেশ যতটা আশা করছিল ততটা নয়, তবে প্রোটিয়াদের পুঁজিটা তো নিঃসন্দেহে বিশাল। আর সেই লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করার ১৬ রানের মধ্যেই ফিরতে হয়েছে ইমরুলকে। কাগিসো রাবাদার শর্ট বলে মারক্রামের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের পথে হেঁটেছেন ইমরুল

মর্নে মরকেলের বলটা বের হয়ে যাচ্ছিল অনেকদূর দিয়েই। কিন্তু সেই বলে খোঁচা দিয়ে লিটন দাস টেনেছেন ইনিংসের ইতি। ৩৬ রানে নেই দুই উইকেট। দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহটা তখন দেখাচ্ছিল পরাক্রমশালী এভারেস্ট পর্বতের মতই।

268605

মুমিনুল হককে সঙ্গী বানিয়ে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের প্রতিরোধটা শুরু হয় এরপরই। যদিও একদম মসৃণ ছিলোনা জুটিতে আসা ৬৭ রান। কেশব মহারাজের বলে দু’বার প্রাণে বেঁচেছেন মুশফিক। দুইবারই ক্যাচ ছেড়েছেন প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্ত থেকে ফেরা ডিন এলগার। একবার ৬ রান আর দ্বিতীয়বার মুশফিক রক্ষা পেয়েছেন ১৫ রানে।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য মুশফিক অবশ্য ফিরলেন সেই কেশব মহারাজের বলেই! ছক্কা হাঁকিয়ে পরের বলেই নিতে হয়েছে বিদায়। বলটা ব্যাট-প্যাড হয়ে উড়ে গিয়েছে ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে থাকা মারক্রামের হাতে। দলের রান তখন শতক পেরিয়ে ১০৩।

পুরো টেস্ট ক্যারিয়ারে তামিম ইকবালকে কখনও দেখা যায়নি স্ট্রাইক বাদে নন-স্ট্রাইকেও। সেই তামিম কিনা ৯৮ ইনিংস পর নেমেছেন পাঁচ নাম্বারে! পচেফস্ট্রুমের উইকেটে মুমিনুলের সঙ্গে তখন তামিম ইকবাল।

দিনটা শেষও হয়েছে এই দুজন’কে দিয়েই। অবশ্য চতুর্থ উইকেটে আসা ২৪ রানের ২২ রানই এসেছে তামিমের ব্যাট থেকে। জন্মদিনে ৬৪ বল খেলে একপাশ আগলে রাখা মুমিনুল হক অপরাজিত রয়েছেন ২৮ রানে। তৃতীয় দিন শুরুর অপেক্ষায় থাকা তামিমের সংগ্রহ হার না মানা ২২ রান।

নতুন এক সকালে নতুন ছিল শুধু সকালটাই। বাকি সব যেন আগের দিনের টিভি রিপ্লাই। হাসিম আমলাকে নিয়ের ডিন এলগার যেন বাংলাদেশের জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ‘সিন্দাবাদের ভুত’। এক উইকেটে ২৯৮ রান নিয়ে খেলতে নেমে দু’জন যখন ফিরেছেন তখন চা-বিরতির একটু বাকি।

তবে এর আগেই হাসিম আমলার ব্যাট থেকে এসেছে ২৭তম টেস্ট শতক। যে শতকে তিনি ছুঁয়েছেন স্বদেশী সাবেক কাপ্তান গ্রায়েম স্মিথের সর্বোচ্চ শতকের রেকর্ড। ১১ চার ও ১ ছক্কায় ১৪৩ বলে আমলা দেখা পেয়েছেন শতকের।

268593

লাঞ্চের বিরতিতে যাওয়ার আগে এলগারের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ১৭২ রান। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম দেড়শো রান তুলে নিয়ে ছাড়িয়ে গেছেন আগের সেরা স্কোর ১৪০। ৩১৫ বলে ছুঁয়েছেন দেড়শত রানের মাইলফলক।

অবশেষে, লাঞ্চের একটু পর বাংলাদেশী বোলাররা দেখা পান উইকেটের। উইকেট ভাগ্যের শিঁকে ছেঁড়া প্রথম বোলার ছিলেন শফিউল ইসলাম। মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে আমলাকে ফিরিয়েছেন ১৩৭ রানে। ২০০ বলে ১৭ চারের পাশাপাশি আমলা হাঁকিয়েছেন একটি ছয়।

প্রথম দেড়শোর পর ক্যারিয়ারের প্রথম দ্বিশতকের হাতছানি। যখন এক রান দূরে ডাবল সেঞ্চুরি থেকে তখনও হয়তোবা এলগার ভাবেননি ভাগ্যর খেলাটা কত নিষ্ঠুর। যখন টের পেয়েছেন ততক্ষণে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে ক্যাচ লুফে নিয়েছেন মুমিনুল। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১৯৯ রানে আউট হয়ে এলগার তখন ‘এত কাছে তবু এত দুরে’র সমীকরণ মেলাতে মেলাতে পৌঁছেছেন শিবিরে।

268592

বাকি সময়টা আরও একটি অর্ধশত রানের জুটি গড়েন কাপ্তান ফাফ ডু প্লেসিস আর টেন্ডাই বাভুমা। ৫১ রানের জুটিতে বাভুমার অবদান অপরাজিত ৩১, আর ডু প্লেসিসের সংগ্রহ ২৬*। ইনিংসের ঘোষণাটা এরপরেই করে দেন ডু প্লেসিস।

অধিনায়ক মুশফিক টসের সময়ই বলেছেন তৃতীয় দিনে উইকেট থেকে সহায়তা পাবে বোলাররা। তাই যদি হয় তবে শনিবারের পচেফস্ট্রুমে অগ্নি পরীক্ষাটা দিতেই হচ্ছে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের। আপাতত সবাই তাকিয়ে টেস্টে সেরা ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক আর তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তামিমের দিকে। তাদের শুরুটার গুরুত্ব যে বড্ড বেশি!

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংসঃ ৪৯৬/৩ (১৪৬ ওভার ;ইনিংস ঘোষণা) এলগার ১৯৯, আমলা ১৩৭, মারক্রাম ৯৭, বাভুমা ৩১*, ডু প্লেসিস ২৬*। ফিজ ১/৯৮, শফিউল ১/৭৪

বাংলাদেশ ১ম ইনিংসঃ ১২৭/৩ (৩৪ ওভার) মুশফিক ৪৪, মুমিনুল ২৮*, লিটন ২৫, তামিম ২২*, ইমরুল ৬। মহারাজ ১/২৩, মর্কেল ১/৩৪, রাবাদা ১/৩৮

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

জাতীয় লিগে বৃষ্টির হানা

Read Next

শুরুটা ভালোই করেছে পাকিস্তান

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share