রোমাঞ্চকর ম্যাচে জিতলো আবাহনী

আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের আবহটা যেনো ফিরে এসেছিলো বিকেএসপিতে। রোমাঞ্চকর এক ম্যাচই উপহার দিয়েছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল আবাহনী ও মোহামেডান। তবে দিনশেষে জয়ের হাসি হেসেছে আবাহনীই। হাই স্কোরিং ম্যাচে মোহামেডানকে ২৭ রানে পরাজিত করেছে আবাহনী। লিস্ট-এ ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৯০ রান করেও পরাজিত দলে মোহামেডান দলপতি রকিবুল হাসান। 

সাভারে বিকেএসপি’র চার নাম্বার গ্রাউন্ডে মোহামেডানের বিপক্ষে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন আবাহনীর দলপতি মোহাম্মদ মিথুন। কাপ্তানের মুখের হাসি চওড়া করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন ওপেনার লিটন কুমার দাস। ৩৩ বলেই নিজের অর্ধশতক তুলে নেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ১৬তম ওভারে যখন সঙ্গী সাদমান ইসলাম অনিক ২৮ রান করে তাইজুলের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন তখন দলের রান ১০৩! দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে আরো একটি শতরানের(১০৯) জুটি গড়েন লিটন দাস। মারমুখী এই ব্যাটসম্যান ৭৯ বলেই পূর্ণ করেন নিজের লিস্ট-এ ক্যারিয়ারের ৩য় শতক। আউট হবার আগে ১০৩ বলে ১৫টি চার ও ২টি ছয়ে খেলেন ১৩৫ রানের ঝলমলে এক ইনিংস।

লিটন দাস আউট হবার পর রানের চাকা সচল রাখেন বয়সভিত্তিক দল থেকে উঠে আসা নাজমুল হোসেন শান্ত, সাইফ হাসানেরা। সাইফ হাসান  ১৮ বলে ২৯ রান করে আউট হলেও এই ডিপিএলে নিজের দ্বিতীয় শতক তুলে নেন শান্ত। ১০০ বল খেলে ৩টি চার ও তার দ্বিগুন(৬টি) ছয়ে ১১০ রান করা শান্তকে ফেরান কামরুল ইসলাম রাব্বি। শেষদিকে শুভাগত হোম ২৭ বলে ৪৮ রান করে অপরাজিত থাকলে ৩৬৬ রানের বড় পুঁজি পায় আবাহনী। মোহামেডানের হয়ে তাইজুল ইসলাম ৩টি উইকেট পান।

৩৬৭ রানের বিশাল লক্ষ্যকে শুরুতে ধরাছোঁয়ার বাইরে মনে হলেও ধীরে ধীরে মোহামেডানকে জয়ের আশা দেখতে বাধ্য করেন মোহামেডানের কাপ্তান রকিবুল হাসান। তবে খেলাঘরের বিপক্ষে অনবদ্য ইনিংস খেলে ম্যাচ জেতানো রকিবুল হাসানের দুর্দান্ত এক ইনিংস বিফলে যায় যোগ্য সঙ্গের অভাবে। সতীর্থ তামিম ইকবাল কিছুদিন আগেই ১৫৭ রানের ইনিংস খেলে নিজের আগের ১৫৪ রানের রেকর্ড ভেঙেছিলেন। আজ তামিমের ১৫৭ কে টপকে যান রকিবুল। ১৯০ রান নিয়ে তিনিই এখন লিস্ট-এ ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের মালিক(এক ইনিংসে)।

মূলত একা মোহামেডানকে টেনে নিয়ে গেছেন রকিবুল হাসান। শ্রীলঙ্কান চারিত আসালাঙ্কা ছাড়া আর কেওই ওভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি রকিবুলকে। চারিত করেন ৬০ বলে ৬৩ রান। ১৩৮ বলে ১৭টি চার ও ১০টি ছয়ে ১৯০ রান করে আউট হন রকিবুল। আবাহনী ম্যাচটি জেতে ২৭ রানে। আবাহনীর হয়ে মানান শর্মা নেন ৫টি উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

আবাহনী ৩৬৬/৫(৫০), লিটন ১৩৫, শান্ত ১১০, শুভাগত ৪৮*, তাইজুল ৫৭/৩

মোহামেডান ৩৩৯/৯(৫০), রকিবুল ১৯০, চারিত ৬৩, মানান ৪৭/৫

আবাহনী ২৭ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরাঃ রকিবুল হাসান(মোহামেডান)।

 

শিহাব আহসান খান

Read Previous

সোয়ানের কাছে ইংল্যান্ডই ফেভারিট

Read Next

প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে রূপগঞ্জ

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।