মাশরাফির ধন্যবাদ পেলেন অভিষেকদের তৈরির আড়ালে যারা

অভিষেক দাস

পুরো বিশ্বকাপে ফাইনালের আগে ম্যাচ খেলেছেন মাত্র একটি, গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে বৃষ্টিতে পরিত্যাক্ত হওয়া ম্যাচে হাতে নিতে পারেননি বল। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল না খেলা অভিষেক দাস বাড়তি পেসার ভাবনায় বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদের জায়গায়  নেমে পড়েন ফাইনালে। শরিফুল-সাকিবরা গতির ঝড়ে ভারতীয় দুই ওপেনারকে যখন নাকাল করে ফেলেছে তার সুবিধা নিয়ে প্রথম ব্রেক থ্রুটা এনে দেন অভিষেকই।

ফাইনালে ৯ ওভারে ৪০ রান খরচায় দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার মাশরাফির জেলা নড়াইলের এই পেসারের। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ যুব দেশে ফিরে বুধবার পায় বিসিবির উষ্ণ অভ্যর্থনা, ভক্ত সমর্থকদের ভালোবাসা। গতকাল নিজ নিজ বাড়ি ফিরে যাওয়া ক্রিকেটাররা সেখানেও সিক্ত হন এলাকাবাসীর ভালোবাসায়। নড়াইল ফিরে অভিষেকতো মাশরাফির বাড়িও ঘুরে আসেন।

গতকাল বেলা ১২ টা নাগাদ যশোর নভো এয়ারের একটি ফ্লাইটে যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছান ডানহাতি এই পেসার। তার বাবা-মা সহ পরিবারের সদস্যরা আগে থকেই উপস্থিত ছিলেন সেখানে, মালা পরিয়ে বরণ করে নেন তাদের মুখ উজ্জ্বল করা অভিষেককে। মোটর সাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসে হাজির ভক্ত-সমর্থক, পরিবার ও বন্ধুবান্ধব। বর্নাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে অভিষেক নড়াইল শহরে প্রবেশ করেন দুপুর দুইটার পর। নড়াইলে প্রবেশের পরই চলে যান বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার বাড়ি।

সেখানে তাকে মিষ্টি খাইয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন মাশরাফির বাবা গোলাম মর্তুজা স্বপন ও মা হামিদা বেগম বলাকা। সেখান থেকেই অভিষেক ফিরে যান বাঁধাঘাট এলাকায় নিজ বাড়িতে। নিজ এলাকার লোকজন আলাদাভাবে দেয় সংবর্ধনাও।

এদিকে নিজ শহরের ছেলে বলে অভিষেকের প্রতি মাশরাফির দুর্বলতা একটু বেশিই হওয়ার কথা। বিশ্ব জয় করে অভিষেকের বাড়ি ফেরার খবর জেনেছেন, তারও আগে থেকে জানেন কাদের সরাসরি অবদানে অভিষেকদের মত ক্রিকেটারদের উঠে আসা। অভিষেকের সাফল্য মাশরাফিকে সুযোগ করে দিয়েছে তাদের সামনে আনার। অভিষেক দাসের নড়াইল ফেরার কয়েক ঘন্টা পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে মাশরাফি বিন মর্তুজা লিখেন, ‘একজন একজন করে আকবর, তামিম, ইমন, রাকিবুল, শরিফুল, অভিষেক গড়ে তুলতে তাদের পরিবারের সাথে আরও অনেকের স্যাক্রিফাইস জড়িয়ে থাকে।’

‘অভিষেক বাড়ি ফিরেছে বাংলাদেশকে গৌরবান্বিত করে, বাড়ি ফিরেছে নড়াইলবাসিকে গৌরবান্বিত করে, ছুটে চলো তোমরা অবারিত, দেশকে নিয়ে যাও অনন্য উচ্চতায়। তুহিন কাকা, সঞ্জিব বিশ্বাস সাজু, ইমরুল ধন্যবাদ আপনাদের, আপনাদের জন্য আজ এতো স্বপ্ন দেখে সবাই। আমার চোখে আপনারা দি আনসাং হিরো অফ দ্যা নেশন, ট্রাস্ট মি-আই মিন ইট।’

উল্লেখ্য অভিষেকের ক্রিকেট হাতেখড়ি সৈয়দ মঞ্জুর তৌহিদ তুহিনের হাতে যিনি স্থানীয় বেসিক ক্রিকেট একাডেমির কোচ। অভিষককে বরণ করে নেওয়া সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন তিনিও। সঞ্জীব বিশ্বাস সাজু নড়াইল জেলা দলের কোচ এবং মাশরাফির ‘নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের’ সহকারী কোচও। জেলার আরেক ক্রিকেট কোচ হলেন ইমরুল কায়েস, তুহিনের হাতে হাতেখড়ির পর প্রাথমিক ঘষামাঝার কাজটা করেছেন সাজু ও ইমরুল।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

ভেঙ্গে গেল জাইসাওয়ালের বিশ্বকাপ সেরা ট্রফি

Read Next

লাহোরের সেই ঘটনা শিক্ষা দিয়েছে সাঙ্গাকারাকে

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Total
24
Share