বিসিবি একাদশকে পাত্তা না দিয়ে জিম্বাবুয়ের দাপুটে জয়

মুশফিকুর রহিম ব্রেন্ডন টেইলর

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে বিসিবি একাদশকে হেসেখেলে হারিয়ে সাকিবদের বার্তা দিয়ে রাখলো জিম্বাবুয়ে। ১৬ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে বিসিবি একাদশকে হারিয়েছে হ্যামিল্টন মাসাকাদজার জিম্বাবুয়ে।

হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ব্রেন্ডন টেইলর
ফাইল ছবি

১৪৩ রানের জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ব্রেন্ডন টেইলরকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন জিম্বাবুয়ে দলপতি হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। দুজনই ছিলেন মারমুখী। ৪.৫ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ৪২ রান। ২৩ বলে ৬ চারে ৩১ রান করে আউট হন মাসাকাদজা। মাসাকাদজাকে স্টাম্পড করে ফেরান আফিফ হোসেন ধ্রুব।

এরপর ক্রেইগ আরভিনকেও স্টাম্পড করে ফেরান আফিফ। চারে নামা শীন উইলিয়ামসকে এলবিডব্লিউ করে ফিরিয়ে নিজের তৃতীয় উইকেট নেন আফিফ।

কিন্তু ঐ পর্যন্তই। এরপর আফিফ কেনো, আর কেউই নিতে পারেননি জিম্বাবুয়ের কোন উইকেট। টিমিসেন মারুমার সঙ্গে হার না মান ৭৮ রানের জুটি গড়ে ৭ উইকেট ও ১৬ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন ব্রেন্ডন টেইলর। ৪৪ বলে ২ চার ও ৩ ছয়ে ৫৭ রান করে অপরাজিত থাকেন ব্রেন্ডন টেইলর। ২৮ বলে ৫ চার ও ১ ছয়ে ৪৬ রান করে অপরাজিত থাকেন মারুমা।

এর আগে টসে জিতে নাইম শেখের সঙ্গে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন এই ম্যাচে বিসিবি একাদশকে নেতৃত্ব দেওয়া সাইফ হাসান। চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে সাজঘরে ফেরেন সাইফ। শুরুটা করেছিলেন ধীরে, পরে রানের গতি বাড়াতে গিয়ে আউট হয়েছেন। ১৯ বলে ১ টি করে চার ও ছয়ে ২১ রান করে নেভিল মাদজিভার বলে এলবিডব্লিউ হন সাইফ।

মুশফিক টেইলর

সাইফের বিদায়ের ঠিক ৩ ওভার বাদে সাজঘরে ফেরেন নাইম শেখও। ১৪ বলে ৫ চারে ২৩ রান করেন নাইম। প্রস্তুতি ম্যাচের স্কোয়াডে না থাকলেও এই ম্যাচেহেলছেন মুশফিকুর রহিম। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামেন মুশফিক। তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাব্বির রহমানের সঙ্গে জুটি গড়েন মিস্টার ডিপেন্ডেবল খ্যাত মুশফিক। ৫৩ রানের এই জুটি ভাঙে সাব্বির রহমান ৩০ রান করে আউট হলে। ৩১ বলে ১ ছয়ে ৩০ রান করে শীন উইলিয়ামসের বলে স্টাম্পড হন তিনি।

সাব্বির ফিরে যাবার ১ বল পরে সাজঘরে ফেরেন মুশফিক। ২৬ রান করেন সমান সংখ্যক বল খেলে, চার মারেন ২ টি। উইলিয়ামসের বলে তাঁকেই ক্যাচ দেন মুশফিক। ছক্কা মেরে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিলেও ৮ বলে ১০ রান করে কাইল জার্ভিসের বলে বোল্ড হন আফিফ হোসেন ধ্রুব। ৬ এ নামা ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি ১০ বলে ৬ রান করে নেভিল মাদজিভার দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। ১ ছয়ে ৪ বলে ৯ রান করে টেন্ডাই চাতারার বলে আউট হন আরিফুল হক।

শেষমেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪২ রান করতে পারে বিসিবি একাদশ। ৭ রান করে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও ২ রান করে ইয়াসিন আরাফাত মিশু অপরাজিত থাকেন। জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন উইলিয়ামস। ২ উইকেট নেন নেভিল মাদজিভা।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বিসিবি একাদশ ১৪২/৭ (২০), সাইফ হাসান ২১, নাইম শেখ ২৩, সাব্বির ৩০, মুশফিক ২৬, আফিফ ১০, রাব্বি ৬, সাইফউদ্দিন ৭*, আরিফুল ৯, মিশু ২*; উইলিয়ামস ৪-০-১৮-৩, জার্ভিস ৩-০-১৭-১, চাতারা ৩-০-৩১-১, মাদজিভা ৩-০-৩৫-২।

জিম্বাবুয়ে ১৪৪/৩ (১৭.২), টেইলর ৫৭*, মাসাকাদজা ৩১, আরভিন ৪, উইলিয়ামস ২, মারুমা ৪৬*; সাইফউদ্দিন ৩-০-২০-০, মিশু ২-০-২২-০, আফিফ ৪-০-১৯-৩, আরিফুল১-০-১৪-০, বিপ্লব ৪-০-৩৭-০, শফিকুল ৩.২-০-৩১-০।

ফলাফলঃ জিম্বাবুয়ে ৭ উইকেটে জয়ী।

শিহাব আহসান খান

Read Previous

ফ্র্যাঞ্চাইজি ছাড়া বিসিবির আয়োজনে ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’

Read Next

বিপিএলের সপ্তম আসর হবে ‘বিগ ব্যাশ’ এর মতো

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।