বিমানে চাপার পরেই জাতীয় দল নিয়ে ভাববেন তামিম

বেশ হাসির রোল পড়ে যায় সাংবাদিকদের মাঝে! মোট সাত ছয় হাঁকিয়েছেন গোটা ইনিংসে, তার মধ্যে এক ছয়ে তামিম ইকবাল ভেঙ্গেছেন বেসরকারী টিভি চ্যানেল ‘চ্যানেল২৪’র গাড়িবহরের কাঁচ। আর এই ছয়টাই নাকি ছিল আজকের ম্যাচে তার সবচেয়ে প্রিয়! 

মঙ্গলবার বিকেএসপির চার নাম্বার মাঠটা মোটেও ‘মঙ্গলজনক’ ছিলোনা কলাবাগান বোলারদের জন্য। মোহামেডানের হয়ে উদ্বোধন করতে নামা তামিম ইকবালের ব্যাটে চার আর ছয় দেখতে দেখতেই পুড়ছিলেন তারা। ব্যাটকে তরবারি বানিয়ে ১৮টি চার আর ৭ ছয়ে ১২৫ বলে তামিমের সংগ্রহ ছিল  ১৫৭ রান।

নিজের ১৩তম লিস্ট ‘এ’ শতক তো বটেই, বাংলাদেশের পক্ষে প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটাও এখন তার। এমন ইনিংসের পর তামিমের প্রতিক্রিয়াটা স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত, ‘অবশ্যই, ভাল অনুভূতি। আমাকে মোহামেডান নিয়েছেই যেন আমি পারফর্ম করতে পারি তাদের হয়ে। ফলে আপনি ভাল খেলে যদি ক্লাবকে জেতাতে পারেন এর থেকে ভাল অনুভূতি তো হতে পারেনা।’

রক্ষনাত্মক, আক্রমণাত্মক কিংবা বিধ্বংসী রূপ, তামিম ইকবাল এদিন আবির্ভুত হয়েছিলেন তিন রূপেই। প্রথম ৫০ ৬১ বলে। এরপরেরটা মাত্র ৪১ বল, তারপর তো শুধু চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে মাত্র ২১ বলে ছুঁয়েছেন দেড়শো রানের মাইলফলক। ম্যাচের প্রয়োজনেই তামিম কখনও খোলসের আবদ্ধ ছিলেন, কখনও বা বেরিয়েছেন খোলস থেকে।

নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরেই তামিম গড়লেন লিস্ট ‘এ’ তে নিজের আর দেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরষ্কারটা তো তার হাতেই শোভা পায় সবচেয়ে বেশী!

‘আমার কাছে মনে হয় প্রথম পঞ্চাশেই কষ্ট বেশী করতে হয়েছে। প্রথম চার মারতেই সময় লেগেছিল ৯ ওভার। উইকেটে টিকে থাকলে রান করতে পারবো এমন একটা চিন্তা ছিল। সেটা কাজে লেগে যাওয়াতেই ভাল রান এসেছে। শট সিলেকশনও বেশ ভাল ছিল। আর শতকের পর আরও পঞ্চাশ রানটা নিঃসন্দেহে তৃপ্তিদায়ক।’

সাজঘরে ফিরছেন যখন তখনও বাকী ইনিংসের ৯ ওভার। দু’শো রানের মাইলফলকটা ছোঁবার আকাঙ্ক্ষা কি একদমই ছিলোনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তামিমের সোজা উত্তর, ‘শরীর আর কাজ করছিলোনা। আর প্রচন্ড গরম ছিল, ১১০-১৫ রানের সময়ই আমার ক্র্যাম্পিং শুরু হয়েছিল। সুযোগ ছিল, কিন্তু শারীরিক অবস্থা বিচার করলে দেখা যাবে আমি পারতাম না।’

সামনেই ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আয়ারল্যান্ডে যাবে বাংলাদেশ দল। এর আগে সাসেক্সে টাইগাররা অংশ নেবে প্রস্তুতি ক্যাম্পিংয়ে। তবে তামিমের বর্তমান চিন্তা শুধুই ডিপিএলের বাকী যে কয়টা ম্যাচ খেলবেন সেদিকেই।

‘আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজ কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি দুটোই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই মুহুর্তে প্রিমিয়ার লিগটাই আমার কাছে বেশী গুরুত্ব পাবে। যেহেতু মোহামেডানের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছি তাই আমার পক্ষ থেকে সেরাটা দেয়ার চেষ্টা থাকবে বাকী ম্যাচগুলোতে। ২৬ তারিখ ইয়র্কশায়ারের বিমানে চাপার পরে ওগুলো নিয়ে চিন্তা করা শুরু করবো।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

তামিমের দিনে ফেরার চেষ্টায় আশরাফুলও

Read Next

গ্রেস, টার্নারের পর গেইল

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।