দুই কাপ্তানের ব্যাটে জয় পেলো প্রাইম ব্যাংক এবং মোহামেডান

মঙ্গলবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ যেন ছিল কাপ্তানদের নৈপুণ্য প্রদর্শনের দিন! ডিপিএলের পঞ্চম রাউন্ডের খেলায় বিকেএসপির চার নাম্বার মাঠে অধিনায়ক মেহেদী মারুফের দুর্দান্ত এক শতকে প্রাইম ব্যাংক ১৩০ রানের বড় জয় পেয়েছে প্রাইম ব্যাংক। অন্যদিকে ফতুল্লাতে আরেক দলপতি রকিবুল হাসানের নৈপুণ্যে খেলাঘরকে চার উইকেটে পরাজিত করেছে মোহামেডান।

সকালে টস জিতে ভিক্টোরিয়া কাপ্তান মনির হোসেন ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান মেহেদী মারুফের দলকে। দল নয়, দলনায়ক মেহেদী মারুফ একাই শেষ করে দিয়েছেন ভিক্টোরিয়াকে। মূলত তার ১০১ রানে ভর করেই ২৮৩ রানের পুঁজি পায় প্রাইম ব্যাংক। ২ ছয় আর ১২ চারে ১০৩ বলে নিজের ইনিংস সাজান বিপিএলে সাড়া জাগানো উদ্বোধনী এই ব্যাটসম্যান। ভিক্টোরিয়া কাপ্তান মনির হোসেন শিকার করেন ৩ উইকেট।

জবাব দিতে নেমে এদিন ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবকে পড়তে হয় প্রাইম ব্যাংক বোলারদের তোপের মুখে। সাইফুল হায়াতের ৪২ রান ছাড়া কেউ ছাড়াতে পারেনি ৩০ রানের কোটাও। রুবেল হোসেন না থাকলেও জাতীয় দল থেকে বেশ কিছুদিন থেকেই দূরে থাকা আল-আমিন হোসেনের নেতৃত্বে বোলিং ডিপার্ট্মেন্টটা এদিন ভালই সামলেছেন প্রাইম ব্যাংকের বোলাররা। ১৫৩ রানে ভিক্টোরিয়ানদের থামাতে আরিফুল হক শিকার করেন তিন উইকেট।

১৩০ রানের দলের জয় পাওয়ার দিন  অনবদ্য এক শতক আর সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার পুরষ্কার হিসেবে প্রাইম ব্যাংক দলপতি মেহেদী মারুফের হাতে তুলে দেয়া হয় ম্যাচ সেরার পুরষ্কার।

দিনের অন্যম্যাচে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে খেলাঘর এসকেএসের বিপক্ষে প্রায় ‘সাবেক’ হয়ে যাওয়া মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান রকিবুল হাসানের অপরাজিত ইনিংসে চার উইকেটের জয় নিয়ে  মাঠ ছেড়েছে মোহামেডান। ১৯০ রানের লক্ষ্য পাঁচ ওভারের মত বাকী থাকতেই পার করে ফেলে মোহামেডান। রবিউল ইসলাম রবি খেলাঘরের হয়ে নিয়েছেন তিন উইকেট। ৯২ বলে ৩ ছয় আর ৬ চারে রকিবুল অপরাজিত থাকেন ৭৬ রানে।

এর আগে সকালে খেলাঘরের ব্যাটিংয়ের ব্যাটিংকে স্বস্তি দেননি মোহামেডান বোলাররা। বিশেষ করে জাতীয় দলের স্পিনার তাইজুল ইসলাম আর বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরিচিত মুখ এনামুল হক জুনিয়রের স্পিন ঘুর্ণীতে মাত্র ১৮৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় খেলাঘর। এছাড়াও কামরুল ইসলাম রাব্বি শিকার করেন ২ উইকেট। আগের ম্যাচে শতক হাঁকানো অমিত মজুমদার এ ম্যাচেও হাঁকান অর্ধশতক, করেন সর্বোচ্চ ৫৩ রান। আর উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান রবিউল ইসলাম রবির ব্যাট থেকে আসে দলীয় সর্বোচ্চ ৬৩ রান। এনামুলের ঝুলিতে যায় তিন উইকেট আর তাইজুল তুলে নেন ২ উইকেট।

জয় এনে দেয়া অপরাজিত ইনিংসের সুবাদে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচের পুরষ্কার যায় রকিবুল হাসানের হাতেই। ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হলে পুরষ্কারটা যে নিশ্চিতই দারুণ অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখানো রবিউল ইসলাম রবিরই হতো সে আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

প্রাইম ব্যাংক বনাম ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব

প্রাইম ব্যাংকঃ ২৮৩/১০ (৪৯.৪ ওভার) মেহেদী মারুফ ১০১, আসিফ ৩৭। মনির হোসেন ৩/৪৪

ভিক্টোরিয়াঃ ১৫৩/১০ (৩৩.৫ ওভার) সাইফুল হায়াত ৪২। আরিফুল হক ৩/১৪, আল আমিন হোসেন ২/১৪

ফলাফলঃ প্রাইম ব্যাংক ১৩০ রানে জয়ী

মোহামেডান বনাম খেলাঘর

খেলাঘরঃ ১৮৯/১০ (৪৫.৪ ওভার) রবিউল ইসলাম রবি ৬৩, অমিত মজুমদার ৫৩। এনামুল হক জুনিয়র ৩/৩৩। কামরুল ইসলাম রাব্বি ২/২৮, আজিম ২/২৫, তাইজুল ইসলাম ২/৩৫

মোহেমেডানঃ ১৯০/৬ (৪৪.৫ ওভার) রকিবুল হাসান ৭৬*, অভিনব মুকুন্দ ৩৫। রবিউল ইসলাম রবি ৩/২০।

ফলাফলঃ মোহামেডান ৪ উইকেটে জয়ী।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

নিরুত্তাপ ম্যাচে ৭ উইকেটের জয় ব্রাদার্স ইউনিয়নের

Read Next

পিসিবি’র সিদ্ধান্তে বিস্মিত বিসিবি!

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।