দলের জয়ে অবদান রাখতে চান সোহান

নুরুল হাসান সোহান

আজ (৩ ডিসেম্বর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল বঙ্গবন্ধু বিপিএলের দলগুলোর অনুশীলন। সকাল থেকেই অনুশীলনে ব্যস্ত ছিল রংপুর রেঞ্জার্স ও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। বিসিবির একাডেমি মাঠে অনুশীলন শুরুর আগেই সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান। ব্যক্তিগত লক্ষ্য বড়সড় কোন ইনিংস নয়, সোহানের চোখ কেবলই দলে অবদান রাখায়।

এবারের বিপিএলের শুরু থেকেই লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে অন্যান্যবার তুলনামূলক আনকোরা দল গড়া চট্টগ্রাম। যদিও পুরোনো ফ্র‍্যাঞ্চাইজিদের সাথে চুক্তি নবায়ন না করায় এবারের আসরের সবকিছুই হয়েছে নতুন আঙ্গিকে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ইমরুল কায়েস, নাসির হোসেন, নুরুল হাসান সোহানের পাশাপাশি বিদেশিদের মধ্যে ক্রিস গেইল, কেসরিক উইলিয়ামস, রায়াদ এমরিট, ইমাদ ওয়াসিমদের নিয়ে বেশ ভালো দলই বলতে হয় চট্টগ্রামকে।

বিদেশি ক্রিকেটারদের আরও দু-একদিন পর পাওয়া যাবে, তবে নানা নাটকীয়তার অবসানের ক্রিস গেইল যোগ দিবেন শেষদিকে। দলের অনুশীলনের প্রথম দিনে নুরুল হাসান সাফ জানিয়ে দিলেন সেঞ্চুরি করার চাইতে ১০ রান করে দলে অবদান রাখতে পারাই তাকে আনন্দ দিবে। জাতীয় দলে খুব খারাপ পারফরম্যান্স না করেও বাদ পড়ার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

দল জেতাতে অবদান রাখতে মরিয়া সোহান জানান, ‘অনেকে হয়তো ৫০-১০০ এসব দেখে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় দশ রান করে দল জেতানোটা গুরুত্বপূর্ণ। ১০০ করে যদি ম্যাচ হারি আমার কাছে মনে হয় না এই রানের কোনও গুরুত্ব আছে। আমি কিছু কিছু জিনিস চিন্তা করি অন্যভাবে।’

‘আমার কাছে মনে হয় আমার সন্তুষ্টি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে মনে হয় আমি যদি দশ রান করে দল জেতাতে পারি তাহলে আমি সন্তুষ্ট। জাতীয় লিগ বা ‘এ’ দলের হয়ে ভালো খেলছিলাম। বড় রান করেছি। এবারও আমরা চ্যালেঞ্জ থাকবে যেন ফিনিশিং করতে পারি। দলের হয়ে যেন ম্যাচ জেতাতে পারি।’

ক্যারিয়ারে খেলেছেন তিনটি টেস্ট, শেষ ম্যাচে জোড়া ডাক, আগের দুই টেস্টে এক ফিফটি। অন্যদিকে ২০১৬ সালে ওয়ানডে অভিষেকে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুই ম্যাচে করেন যথাক্রমে ২৪ ও ৪৪ এরপর আর সুযোগ হয়নি ওয়ানডেতে। সবচেয়ে বেশি খেলেছেন টি-টোয়েন্টি। ৮ ইনিংসে ব্যাট হাতে নেমে অপরাজিত থেকেছেন চারবারই, খুব বেশি সুযোগ না থাকায় নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি।

পরিসংখ্যান বলছে সোহান পাননি পর্যাপ্ত সুযোগ, ঘরোয়া ক্রিকেটের দুর্দান্ত পারফর্মারকে নির্বাচকরা রাখতে পারতেন বিবেচনায়। তবে কেন খুব বাজে পারফরম্যান্স না করেও বাদ পড়তে হচ্ছে নিজেই দিয়েছেন সে ব্যাখ্যা, ‘জাতীয় দলের হয়ে আমি শেষ যে ম্যাচ খেলেছি (ওয়ানডেতে) সেটাতেও ৪৭ (আসলে ৪৪) রান করেছি।’

‘মাঝে মধ্যে টিম কম্বিনেশনের ব্যাপার থাকে। এটার কারণে হয়তো অনেক কিছু সম্ভব হয় না। আমার কাছে মনে হয় আমি যেখানেই যখন খেলি সেটা আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

তবে সব কিছু ভুলে আসন্ন বিপিএলে ভালো করাতেই মনযোগ উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যানের। বিশ্বাস করেন পরিশ্রম ছাড়া কোন কিছু সম্ভব নয়, ‘যারা পেশাদার ক্রিকেট খেলছে তাদের আসরে কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কিছু নেই। সবাই নিজের দিক থেকে চেষ্টা করে যেন শতভাগ দিতে পারে। শুধু আমি না, দলের ব্যাকআপ ক্রিকেটারসহ ৪০-৫০ জন যারা আছে, তাদের প্রত্যেকেই এই কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।’

‘মনে প্রানে এটাই বিশ্বাস করে যে কঠোর পরিশ্রম ছাড়া উপায় নেই। এটা তো সবারই আসলে থাকে। এখন তো বিপিএল নিয়ে ব্যস্ত। সামনে থেকে বিপিএল শুরু হচ্ছে। প্রধান লক্ষ্য বিপিএলে ভালো খেলা।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হচ্ছে ভারতও

Read Next

পরিকল্পনা সাজাতে বিদেশিদের জন্য অপেক্ষা সিলেটের

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।