ঘরোয়া ক্রিকেট মানেই ‘মাশরাফি’!

ডিপিএলের শেষ দিনে এসে আজ শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব যেন একটু হলেও আক্ষেপে পুড়ছে! তার কারণও আছে বৈকি। লিগ শুরুর আগে লটারি ভাগ্যে শুরুতেই মাশরাফিকে দলে ভিড়িয়েছিল তারা। পরে অবশ্য একই মালিকানাধীন আবাহনীতে খেলার ছাড়পত্র দিয়েছেল শাইনপুকুর। তাতে কি? দুধের স্বাদ কি আর ঘোলে মেটে! দিনশেষে আবাহনীই চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়ন মাশরাফিই।

বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে ঘরোয়া লিগ মানেই যেন মাশরাফির জয়জয়কার! সেই অর্জনেই আজ নতুন পালক হিসাবে যোগ হলো আবাহনীর হয়ে দেশের সবথেকে বড় ঘরোয়া লিগের আসর, ঢাকা লিগের চ্যাম্পিয়নের তকমা। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে মাশরাফিই যে সেরা। সেইটা দেখতে হলে খুব বেশি দূর যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এর গেল আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে কোনো রকম প্লে-অফ নিশ্চিত করা রংপুর রাইডার্সের নেতৃত্ব দিয়ে পরে করেছেন চ্যাম্পিয়ন।

বিপিএলের পাঁচ আসরের মধ্যে চারবারই শিরোপা উঠেছে মাশরাফির হাতে। শেষবার রংপুরকে সেই অর্জন এনে দিলেও অবশ্য এর আগেরবার বাংলাদেশ সাকিব আল হাসানের কাছে ছেড়ে দিতে হয়েছিল তা। এবার নতুন ফ্র‍্যাঞ্চাইজিতে এসেই করেছেন বাজিমাত। ২০১৫ সালেও বিপিএলে একেবারে আনকোরা ‘কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের নেতা হয়ে দলকে শিরোপা জয়ের বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতার উপলক্ষ পাইয়ে দিয়েছিলেন মাশরাফিই।

তার আগে শুরুর দুই আসরে টানা দু’বারই হয়েছিলেন চ্যাম্পিয়ন। এর সারমর্ম দাঁড়াচ্ছে তিনি যে দলেই যান সে দলই জেতে! হোক সেটা অধিনায়কের ভূমিকায় কিংবা শুধুই একজন ক্রিকেটার হিসাবেই।

এবার যেমন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) গেল মৌসুমের দল লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জ ছেড়ে এবার আবাহনী শিবিরে যোগ দিলেন, ফিরেই করলেন বাজিমাত। অথচ এখানে তিনি অধিনায়কত্বের অ্যার্মব্যান্ড নিয়ে মাঠে নামেননি, সেই দায়িত্ব ছিল নাসির হোসেনের কাঁধে। তবে শিরোপা কিন্তু ঠিকই তাকে ধরা দিয়েছে।

শুধুই কি ভাগ্য? এখানে সামর্থ্যই তার সফলতার চাবিকাঠি। এবারের ঢাকা লিগে বল হাতে মোট ১৬ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৩৯ উইকেট। ছাপিয়ে গেছেন গেলবারের সেরা শিকারি ৩৫ উইকেটধারী আবু হায়দার রনিকে। গড়েছেন এক সিজনে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড। ২২ গজে নামলে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের উদ্দেশ্যে যেন বল নয়, গোলা ছুঁড়েছেন মাশরাফি।

এবার টানা চার বলে নিয়েছেন ৪ উইকেট। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এমন কীর্তি কোন বাংলাদেশিরই নেই। সেরা বোলিং ইনিংসে ৪৪ রানের ৬ উইকেট।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এরই মধ্যে ১৭ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন মাশরাফি। বয়সভিত্তিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট হিসাব করলে ক্রিকেট পাড়া জুড়ে পুরো দুই দশকেরও বেশি সময় পার করেছেন নড়াইল এক্সপ্রেস। দেখতে দেখতে বয়সটাও নেহাত কম হলো না, তবে সেই বয়সকে যেন থোড়াই কেয়ার এই মাশরাফির। ক্যারিয়ার জুড়ে যুদ্ধ চলছে চোটের সাথে, দমে যাননি কখনো। চোটকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফিরেছেন বারংবার। তবে শিরোপার খুধাতে যেন মরিচা পড়েনি একটুও।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

জয়োল্লাসে মাতলো ‘চ্যাম্পিয়ন’ আবাহনী

Read Next

ইনজুরিতে আইপিএল শেষ রাবাদার

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।