৯৭ ডেস্ক

“আমি আমার লাল সবুজের জার্সিটা দেখতে চাই আবার”

 

এবারের ডিপিএলে (ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ) সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক লিটন দাস। এখন ব্যস্ত আছেন এইচপি (হাই পারফরম্যান্স) ক্যাম্পে। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিতই আলো ছড়ান। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই পারফরম্যান্স দেখা যায় না লিটনের ব্যাট থেকে। কখনো তিনি ফর্মে থাকেন না আবার কখনো ইনজুরির জন্য ছিটকে যান জাতীয় দল থেকে। নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার ও পছন্দ নিয়ে ক্রিকেট৯৭ এর সাথে কথা বলেছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

– ক্রিকেটে শুরু কিভাবে?
লিটন দাসঃ ২০০৬ সালে। আমার বড় ভাই খেলতো, অনুশীলন করতো। সেখান থেকেই আগ্রহ। একদিন অনূর্ধ্ব-১৩ দলের জন্য দল নির্বাচন করবে আমাদের দিনাজপুরে। তারপর মিঠু ভাই কোচ ছিলেন সেখানে। তখন থেকেই আসলে ক্রিকেটের শুরু।

– কোন স্কুলে ছিলেন?
লিটন দাসঃ আমি দিনাজপুরের দুই তিনটি বিদ্যালয় পরিবর্তন করেছিলাম। সর্বশেষ মহারাজা গির্জানাথ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বের হয়েছি।

– আজকের লিটন ক্রিকেটার হবার পিছনে কার অবদান সবথেকে বেশি?
লিটন দাসঃ পরিবারের সমর্থনটা সবসময়ই ছিল। আমার ভাই অনেক কষ্ট করেছে। এরপরে আমার দিনাজপুরের কোচ আবু সামাদ মিঠু ভাইয়ের অবদান অনেক।

– এমন একজন কোচকে স্মরণ করুন যার প্রতি আপনি কৃতজ্ঞ (কৃতজ্ঞতার কারণ সহ)।
লিটন দাসঃ সব কোচই আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ আমি একজায়গায় কখনো ছিলাম না। কখনো দিনাজপুর, কখনো বিকেএসপি, আবার বাংলাদেশ দলের ক্যাম্পেও ছিলাম।

– তারপরও খারাপ সময়ে কার শরণাপন্ন হয়েছেন বেশি?
লিটন দাসঃ এখন আমি বিপদে পড়লে নাজমুল আবেদিন ফাহিম স্যারের কাছে যাই। বিপদে-আপদে সবসময়ই তাকে পাশে পেয়ে থাকি।

– এবারের ডিপিএলে ১৪ ম্যাচে মৌসুমের সর্বোচ্চ ৭৫২ রান এসেছে আপনার ব্যাট থেকে। কিরকম অনুভূতি কাজ করছে?
লিটন দাসঃ আসলে বিগত প্রায় ৬-৭ মাসের মতো রানের মধ্যে ছিলাম না। টুকটাক রানের মধ্যে ছিলাম। এছাড়া ইনজুরিও ছিল। আমার কাছে এ বছরটা সত্য কথা বলতে গেলে অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ, শ্রীলঙ্কায় খেলতে গেলাম। সেখানে আঘাত পেলাম। আমি সম্পূর্ণ বিছানায় বিশ্রামে ছিলাম। কিছুদিন অনুশীলন করে ম্যাচ খেললাম। উপরওয়ালার আশীর্বাদে ভালো খেলেছি।

-এই ৭৫২ রান করতে গিয়ে আপনি সর্বোচ্চ ৭৯টি চার মেরেছেন। পাশাপাশি ২৩ টি ছয়ের মার দেখা গিয়েছে। স্ট্রাইক রেটটাও দেখার মতো (১০৮.৯৮)। বাউন্ডারি মারতেই কি বেশি পছন্দ করেন?
লিটন দাসঃ এখন যারা বিশ্বের ভালো ভালো ব্যাটসম্যান আছে তাদের স্ট্রাইক রেট থাকে একশ’র কাছাকাছি। আমিও সবসময় চিন্তা করি যে, আমি যখন ওয়ানডে ক্রিকেট খেলি আমার স্ট্রাইক রেটটা যাতে একশ’র কাছাকাছি থাকে। তবে টেস্টের ক্ষেত্রে এটা পুরোপুরি ভিন্ন। সেখানে উইকেটে সময় নিয়ে সেট হতে চেষ্টা করি। ওয়ানডেতে চেষ্টা থাকে বল টু বল খেলার জন্য।

– ২২ গজের উইকেটে ফেভারিট শট?
লিটন দাসঃ স্ট্রেইট ড্রাইভ কিন্তু পারি না (হাসি)।

– না, আপনি একবার যতদূর মনে আছে দক্ষিণ আফ্রিকার ডেল স্টেইনকে মেরেছিলেন এই শট এবং সেটা বাউন্ডারি হয়েছিল।
লিটন দাসঃ ও আচ্ছা। হুম, একটা মেরেছিলাম।

– আপনার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলা দেখে অনেক ক্রিকেটপ্রেমীরা ভাবে আপনি অফ সাইডের তুলনায় অন সাইডে একটু বেশি শক্তিশালী। আসলেই কি তাই?? যদিও যারা আপনার ঘরোয়া লিগের ব্যাটিং দেখেছে তারা আপনার উইকেটের চারপাশের খেলার দক্ষতার কথাই বলেছেন।
লিটন দাসঃ আসলে সেরকম কিছু না। অনেকে যদি মনে করে আমি অন সাইডে ভালো খেলি তাহলে আমি অন সাইডে ভালো খেলি। তবে আমার কাছে মনে হয় কি! আপনি এখনই বললেন যে আমার প্রপার ক্রিকেটটা তো অনেকেই দেখেনি হয়তো। আমি যদি আমার ২০ থেকে ৩০ ভাগ খেলে থাকি তাহলে হয়তোবা অন সাইডেই খেলেছি। আসলে জিনিসটা এমন না যে আমি অন সাইডেই শক্তিশালী বেশি। আমি অফ সাইডে খেলতে পারি না ব্যাপারটা এমনও না। হয়তো ওই সময়ে খেলিই নাই টোটালি। যদি আমি বলি, ডি ভিলিয়ার্সকে দেখেন। সে কিন্তু অফ সাইডের বলও লেগ সাইড দিয়ে মারে। সে কি শুধু অন সাইডের প্লেয়ার? কখনোই না। এটা হচ্ছে তার একটা আলাদা প্রতিভা। যদি আমি শুধু আমার কথা বলি তাহলে আমি মাঠে সবসময় যেদিকে গ্যাপ আছে সেদিকেই মারার চেষ্টা করি।

-প্রিয় খাবার?
লিটন দাসঃ হাঁসের মাংস, ভুনাখিচুড়ি।

-অবসর পেলে কোথায় যাওয়া হয়?
লিটন দাসঃ অবসর পেলে পরিবারের কাছেই ছুটে যাই।

– ২০১৫ সালের জুনে ভারতের বিপক্ষে ফতুল্লা টেস্টে পা পড়ল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায়। কেমন ছিল অভিষেকের সুখ স্মৃতি?
লিটন দাসঃ প্রতিটা মানুষের জীবনে একটা স্বপ্ন থাকে। একজন ক্রিকেটারের লক্ষ্যই থাকে জাতীয় দলে খেলার। তার থেকেও বড় জিনিস, টেস্ট ক্যাপ পাওয়ার মর্যাদাই অন্যরকম। আমিও অনেক উত্তেজিত ছিলাম। তার থেকেও বড় ব্যাপার একটা বড় দলের বিপক্ষে আমার টেস্ট অভিষেক হয়েছিল।

– ড্রেসিংরুমের কোন অভিজ্ঞতা?
লিটন দাসঃ আমি যখন জাতীয় দলে ছিলাম তখন সিনিয়র-জুনিয়র অনেক ক্রিকেটার ছিল। আমি সবথেকে জুনিয়র ছিলাম। আমার থেকেও তারা অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার। এদিক থেকে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। কারণ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার চাপটাই থাকে সম্পূর্ণ অন্যরকম। যেটা ড্রেসিংরুমে থাকলে বোঝা যায়। সিনিয়ররা সবাই অনেক সাহায্য করে।

– দেড় বছরের বিরতি দিয়ে সুযোগ পেলেন মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টে। উইকেটের পেছনে ডিকভেলার অসাধারণ ক্যাচ তালুবন্দি করেছিলেন। ধারাভাষ্যকার বলেছিল, ‘ক্যাচ অফ দি ইয়ার।’ উইকেটের পেছনে সেটিই কি স্মরণীয় ক্যাচ আপনার জন্য?
লিটন দাসঃ আমি এটা পরে অনেকবার দেখেছি। আমার কাছে মনে হয় এখন পর্যন্ত সেরা ক্যাচ।

– চোটের কারণে বা দুর্ভাগ্য যাই বলেন না কেন। শততম টেস্টে খেলতে না পারার আক্ষেপটা কতটুকু পোড়ায়?
লিটন দাসঃ এটা তো স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মানুষের স্মরণীয় হয় একশতম টেস্ট খেলে আর আমার মিস গেছে এজন্য স্মরণীয়। খারাপ তো লাগবেই, এটাই স্বাভাবিক। এতদিন পর দলে আসলাম, সুযোগও পেলাম। কিন্তু ব্যাড লাক।

– আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উইকেটের পেছনে কাকে সবথেকে বেশি ভালো লাগে? কাউকে অনুসরণ করেন?
লিটন দাসঃ প্রথমে দক্ষিণ আফ্রিকার মার্ক বাউচার। অনেকদিন ধরেই তিনি খেলেন না, অবসর নিয়েছেন। এরপরে ধোনির কিপিং দেখি। আসলে আমি অনেক কিছু ধোনির মতো চিন্তা করার চেষ্টা করি। কারণ, উনি এমন একজন কিপার যে অধিকাংশ সময় মাঠে চুপচাপ থাকে। তার জিনিসগুলো রপ্ত করার চেষ্টা করি। আর আমি নিজেও আসলে একটু চুপচাপ প্রকৃতির মানুষ। অনেকে বলে আমি এরকম থাকি দেখে উইকেটের পেছনে মানায় না। আমি অনেক ক্রিকেট খেলাই দেখি টেলিভিশনে। যারা বিশ্বমানের কিপার আছেন যেমন ধোনি, আমার মনে হয় না সে খুব একটা কথা বলে। সে তার নিজের কাজটাই করে যায়। এটাই স্বাভাবিক, যারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে তারা সবাই তাদের দায়িত্বটা জানে।

-তামিম ইকবাল একবার বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচে আপনি যে কটা ইনিংস খেলেছেন, সেখানে আপনার প্রতিভা-সামর্থ্যের মাত্র ৩০ শতাংশ দিতে পেরেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে যে কটা ইনিংস তামিম ইকবাল দেখেছেন, তাতে আপনাকে বাংলাদেশ দলের আগামী দিনের বিরাট তারকা হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান থেকে এমন প্রশংসা কি আপনাকে অনুপ্রাণিত করেনা?
লিটন দাসঃ হয়তো তামিম ভাই আমাকে অনেকদিন ধরে চেনে, আমার খেলা দেখেছে। উনি ওনার মতামত দিয়েছেন। আমার কাছে মনে হয় ওয়ানডে ক্রিকেটে আমি যেরকম খেলে থাকি সেরকম কিছুই আন্তর্জাতিক ম্যাচে দিতে পারি নাই। তবে আমি এরপরে সুযোগ পেলে যেদিন দিব সেদিন এর থেকে অনেক বেটার ক্রিকেট থাকবে।

-আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যর্থ হওয়ার পরও সমর্থন পেয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার….
লিটন দাসঃ একটা ক্রিকেটারের যখন খারাপ সময় যায় তখন অধিনায়কের থেকে সমর্থন অনেক অনুপ্রাণিত করে। মাশরাফি ভাই সবসময় একটা কথাই বলতো, এত চিন্তা করার দরকার নাই। শুধু ন্যাচারাল খেলাটাই যাতে খেলার চেষ্টা করি।

– তার পরও কেন পথ হারিয়ে ফেলে লিটন? ঘরোয়া লিগে রানের বন্যা দেখা যায় কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি নিজেকে।
লিটন দাসঃ আমি যদি এখন পর্যন্ত আমার পুরো ক্রিকেটটা ঘেঁটে দেখি। আমি ভারতের সাথে তিন ম্যাচে ৮, ৩৬, ৩৪ এর মতো করেছিলাম মনে হয়। সুযোগ ছিল আরও ভালো করার। যদি একটা অর্ধশতক করতাম অথবা খেলাটা যদি আমি শেষ করতাম তাহলে ব্যাপারটা ভালো লাগতো। আর আমি যে কয়েকটা টেস্টে সুযোগ পেয়েছি আমার কাছে মনে হয় না আমি খারাপ খেলেছি। একটা ইনিংস বাদে বাকিগুলোতে ভালো ক্রিকেট খেলেছি। আর ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম দুইটা সিরিজ ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মোটামুটি ভালো ক্রিকেট খেলেছি। শুধুমাত্র খারাপ হয়েছে জিম্বাবুয়ের সাথেই। আর টি-টোয়েন্টিতে যদি দেখা যায় সেটাও জিম্বাবুয়ের সাথে খারাপ হয়েছে কারণ আমি শেষ করতে পারিনি। আমি সাধারণত সাত নম্বরে ব্যাটিং করি না। তবে দলের প্রয়োজনে মাঠে যখন নেমেছিলাম তখন খেলাটা শেষ করে আসাই আমার লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল। একারণে আমার কাছে মনে হয় সবদিক দিয়ে আমি খারাপ খেলেছি। আসলে ব্যাপারটা এমন না। তার থেকেও বড় জিনিস জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পরে গত বছর আমি ডিপিএলে তেমন রান পাইনি, শুধু সুপার লিগে একটা সেঞ্চুরি ছিল। আর বিপিএলে তো গত দুই বছর ধরে রান পাইনি। এজন্য আমার মনে হয়েছে আমি অনেক দিন ধরে খারাপ খেলেছি।

– জাতীয় দলে খেলার সৌভাগ্য যেহেতু হয়েছে নির্দিষ্ট কোন খেলোয়াড়ের নাম কি বলতে পারবেন যিনি অনুপ্রেরণা যুগিয়ে চলেছেন এখনও?
লিটন দাসঃ বড় ভাইরা সবাই অনেক সাপোর্ট করে। তবে আমার একটা জিনিস খুব ভালো লাগে। মিরাজের (মেহেদি হাসান মিরাজ) সাথে যখনই দেখা হয় অনেক অনুপ্রাণিত করে।

– ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটের মধ্যে কোনটা বেশি ভালো লাগে?
লিটন দাসঃ আমি পছন্দ করি টেস্ট আর ওয়ানডে ক্রিকেট।

-এইচপি ক্যাম্পে অনুশীলন কতটুকু কাজে দিবে বলে মনে করেন?
লিটন দাসঃ এটা তো অবশ্যই অনেক কাজে দিবে। সামনে ট্যুরও আছে। আর অস্ট্রেলিয়ার মতো কন্ডিশনে খেললে অভিজ্ঞতাও বাড়বে।

– বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার হিসেবে আপনার অভিষেক হয়েছে, বলা চলে ঢাক ঢোল বাজিয়ে। কিন্তু একটু হতাশই হতে হয়েছে সমর্থকদের। সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের হতাশায় লিটন হতাশ হয় কতটুকু?
লিটন দাসঃ সত্য কথা বলতে ২০১৫-১৬ সালের দিকে আমার ম্যাচুরিটি অনেক কম ছিল। এখন আমি যেভাবে চিন্তা করি তখন আসলে সেভাবে করতাম না। এখন যে জিনিসগুলো খুব সহজে মেনে নিতে পারি তখন হয়তো পারতাম না। সেসময়ে আমি এত ভালো পারফর্ম করেছিলাম সবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ভালো রান আশা করেছিল আমার থেকে। হয়তো কেউ চিন্তা করেনি লিটন দলে নতুন যোগ দিয়েছে। তারা অধিকাংশ সময় দেখে আসছে, পত্রিকা খুলেই দেখতেছে লিটন হান্ড্রেড মারতেছে, ফিফটি করতেছে। তারমানে তার কাছে ক্রিকেটটা অনেক সহজ। আসলে ক্রিকেট এত সহজ না। তাকে সময় দিতে হবে। তো আমার কাছে মনে হয়, আমার এখন যে ম্যাচুরিটি আছে সেটা যদি ওই সময়ে থাকত তাহলে হয়তো জিনিসগুলো সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম। আর কারোর কোনও নেগেটিভ কথাও তখন আমার কাছে খারাপ লাগত না।

-বাদ যাওয়ার পরে খেলার ধরণের কোন পরিবর্তন এনেছেন?
লিটন দাসঃ সেরকম কোন পরিবর্তন হয়নি। আগে সবসময় মনে করতাম ক্রিকেট স্কিলের খেলা। কিন্তু এখন যেটা মনে করি, ক্রিকেট সম্পূর্ণ মানসিকতার ব্যাপার।

-নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
লিটন দাসঃ আমি যদি আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলি তাহলে আমি আমার লাল সবুজের জার্সিটা দেখতে চাই আবার।

-চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলে দেশে ফিরেছে। বাংলাদেশের এই অর্জনকে কিভাবে দেখছেন?
লিটন দাসঃ আমাদের ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় অর্জন এটা। আমাদের ক্রিকেট এখন অনেক উন্নতি করছে। এভাবে যদি উন্নতি বজায় রাখে তাহলে আমাদের ক্রিকেট ধীরে ধীরে আরও বড় পর্যায়ে চলে যাবে।

– সমর্থকদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন?
লিটন দাসঃ সমর্থকরা সবসময়ই আমাদের বাংলাদেশ দলকে অনেক সমর্থন করে। এই অনুভূতিটা আমার হয়েছে যখন আমি জাতীয় দলে খেলেছিলাম। আমি তখন বুঝেছি যে মানুষজন রোদের ভেতর খেলা দেখে, অনেকে না খেয়েও খেলা দেখছে। কেউ খারাপ খেললে তারা দু-একটা কথা বলতেই পারে স্বাভাবিক। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্যে বলব যদি কোন ক্রিকেটারের খারাপ সময় যায় তখন সমালোচনাটা যাতে বেশি না করে। তাকে সময় দেওয়া উচিত, বিশেষ করে খারাপ সময়ে বেশি পাশে থাকা উচিত। আমার জন্য বেশি করে দু’আ করবেন যাতে ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে দেশের জন্য কিছু করতে পারি।

মন্তব্য

CRICKET- 97
কখনো বল করলে শচীনের উইকেট পেতে চাইবোঃ মুশফিক

২০০৫ সালের ২৬শে মে কনিষ্ঠতম ক্রিকেটার হিসাবে লর্ডসের ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টেস্ট অভিষেক ঘটে মুশফিকুর রহিমের। আজ ১২ বছর পর সেই...

মুশফিকুর রহিম

বিস্তারিত

CRICKET- 97
প্রথম কর্তব্য আমার দলের প্রতি, তারপর দেশের প্রতি: শচীন

ছবিসূত্রঃ সংবাদ প্রতিদিন সম্প্রতি নিজের সিনেমা ও ক্রিকেট জীবন, দর্শন নিয়ে ভারতীয় দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের গৌতম ভট্টাচার্যকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন শচীন...

বিস্তারিত

CRICKET- 97
“এখনো অনেক কিছু শেখার বাকি আছে”-রনি

এবারের ডিপিএলে(ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। গাজীর এই শিরোপা জয়ে বল হাতে অসাধারণ অবদান রেখেছেন আবু হায়দার...

আবু হায়দার রনি

বিস্তারিত