অলরাউন্ডার সাকিবের দিনে বাংলাদেশের জয়

দেশ বদলে ভাগ্য ফিরলো সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের। বাংলাদেশ সফরকারী দল হলেও ফ্লোরিডার লডারহিলের গ্যালারিতে ছিল বাংলাদেশি সমর্থকদের আধিক্য। তাদেরকে হতাশ করেনি বাংলাদেশ। ব্যাটে-বলে সমান উজ্জ্বল থেকে জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

ফাইল ছবি

ব্যাটিংয়ে সুন্দর শেষের পর বোলিংয়ে সূচনাটা ভাল হয় বাংলাদেশের। এই ম্যাচেই একাদশে আসা আবু হায়দার রনি প্রথম ওভার থেকে দেন মাত্র ১ রান। দ্বিতীয় ওভারে এসে বিপজ্জনক এভিন লুইসকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। ২ ওভারে ১ উইকেট হারানো উইন্ডিজরা তুলতে পারে মাত্র ৬ রান।

তবে তৃতীয় ওভারেই স্বরূপে ফেরেন আন্দ্রে রাসেল ও আন্দ্রে ফ্লেচার। রুবেল হোসেনের করা ওভার থেকে তাঁরা তোলেন ১৬ রান। মুস্তাফিজ পরের ওভারে হজম করেন ২১ রান। তবে কাজের কাজটাও করেন দ্য ফিজ। ১০ বলে ২ ছয়ে ১৭ রান করা আন্দ্রে রাসেলকে ফেরান মুস্তাফিজ। উইকেটে এসেই মুস্তাফিজকে চার ও ছক্কা হাঁকানো মারলন স্যামুয়েলসকে নিজের প্রথম ওভারে ফেরান সাকিব আল হাসান। দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরেন লিটন দাস।

এরপর ছুটতে শুরু করা রান নামক পাগলা ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরে বাংলাদেশ। ধুঁকতে থাকা দীনেশ রামদিন ১১ বলে ৫ রান করে ফেরেন রুবেল হোসেনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। রভম্যান পাওয়েল ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচারের সঙ্গে ৫৮ রানের জুটি গড়ে স্বাগতিকদের ম্যাচে ফেরান। ৩৮ বলে ৪৩ রান করা ফ্লেচারকে ফেরান নাজমুল ইসলাম অপু। শেষ পাঁচ ওভারে স্বাগতিকদের দরকার ছিল ৫১ রান।

নিজের শেষ ওভার করতে এসে অধিনায়ক ব্র্যাথওয়েটকে ফেরান সাকিব । রুবেলও নিজের শেষ ওভারে ফেরাতে পারতেন রভম্যান পাওয়েলকে। তবে ৮ রান আসা ইনিংসের ১৮ তম ওভারের শেষ বলে সহজ ক্যাচ ছাড়েন সাকিব। তবে আক্ষেপে পুড়তে হয়নি সাকিবকে, দুই বল পরে মুস্তাফিজ ফেরান তাঁকে। উইকেটের পেছনে দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরেন মুশফিক। শেষ দুই বলে নার্স ১০ রান তুললে শেষ ওভারে উইন্ডিজদের দরকার ছিল ১৫ রান। তবে অপু শেষ ওভারে এসে দুই রান দিয়ে দুই উইকেট নেন। বাংলাদেশ জয় পায় ১২ রানে।

অধিনায়ক সাকিবের অধীনে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি জয়।

এর আগে লডারহিলের সেন্ট্রাল ব্রোয়ার্ড রিজিওনাল পার্ক স্টেডিয়ামে টসে জেতেন উইন্ডিজ দলপতি কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। কোনরকম চিন্তা ছাড়াই আগে বল করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজকে বসিয়ে আবু হায়দার রনিকে নামায় বাংলাদেশ দল। পরিবর্তন ছাড়া মাঠে নামে উইন্ডিজরা।

পরিবর্তন আসে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটিতেও। সৌম্য সরকারের বদলে এদিন শুরুতে নামেন লিটন কুমার দাস। স্যামুয়েল বদ্রির করা প্রথম বলও মোকাবেলা করেন তিনি। তবে লিটন টেকেননি বেশিক্ষণ, দ্বিতীয় ওভারেই অ্যাশলে নার্সকে উইকেট উপহার দিয়ে ফেরেন ৫ বলে ১ রান করা লিটন। প্রথম ম্যাচে এক ওভারেই দুই উইকেট নিয়েছিলেন নার্স। এদিন একই ওভারে না হলেও টানা দুই ওভারে দুই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরান নার্স। রিভার্স সুইপ খেলতে যেয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে আন্দ্রে রাসেলকে ক্যাচ দেন মুশফিকুর রহিম(৪)।

২ উইকেট হারিয়ে ৩৫ রান তুলে পাওয়ার প্লে শেষ করে বাংলাদেশ। নার্সকে ছয় মেরেছিলেন, আন্দ্রে রাসেলের বলে মেরেছিলেন দারুণ এক চার। যখনই মনে হচ্ছিল হারিয়ে ফেলা ফর্ম ফিরে পেয়েছেন সৌম্য তখনই ছন্দপতন। ১৮ বলে ১৪ রান করে কিমো পলকে উইকেট দিয়ে ফেরেন সৌম্য। প্রথম ম্যাচে গোল্ডেন ডাকের লজ্জা নিয়ে সাজঘরে ফিরেছিলেন তামিম ইকবাল। তবে আজ শুরু থেকেই তামিম ছিলেন ছন্দে।

উইকেটে এসেই ছন্দে থাকা তামিমকে নিয়ে দ্রুত রান তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সাকিব আল হাসান। কিমো পলের বলে মারেন টানা দুই চার। ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশ ৩ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে জমা করে ৬৭ রান। ১৩ তম ওভারে কেসরিক উইলিয়ামসকে তিনটি চার মারেন সাকিব। ঐ ওভারে আসে ১৪ রান।

১৪ তম ওভারের ১ম বলে ব্র্যাথওয়েটের বলে চার মারেন তামিম, এতেই দলীয় ১০০ রান পূর্ণ হয়। সাকিব-তামিম জুটির ৫০ ও পার হয় ঐ চারে। পরের ওভারেই নিজের ৬ষ্ঠ টি-টোয়েন্টি ফিফটি পূর্ণ করেন তামিম ইকবাল। ৩৫ বলে ৫০ পূর্ণ করা তামিম ক্ষেপেন এর পরে। পরবর্তী ৯ বলে করেন ২৪ রান। ৪৪ বলে ৬ টি চার ও ৪ টি ছয়ে ৭৪ রান করে ফেরেন তামিম। এতে ভাঙে ৯০ রানের জুটি।

তামিমের বিদায়ের এক ওভার পরে ৩০ বলে ৫০ পূর্ণ করেন সাকিব আল হাসান। ২০১৬ সালের মার্চের পর আবার টি-টোয়েন্টিতে ফিফটি করলেন সাকিব। অধিনায়ক হিসেবে এই ফরম্যাটে প্রথম, ক্যারিয়ারের ৭ম। ৩৭ বলে ৯ চার ও ১ ছয়ে ৬০ রান করে শেষ ওভারে আউট হন সাকিব। বাংলাদেশ থামে ৫ উইকেটে ১৭১ রান করে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ ১৭১/৫, তামিম ৭৪, লিটন ১, মুশফিক ৪, সৌম্য ১৪, সাকিব ৬০, মাহমুদউল্লাহ ১৩*, আরিফুল ১*, নার্স ২৫/২, কিমো ৩৯/২, রাসেল ৩৩/১

উইন্ডিজ ১৫৯/৯ (২০), ফ্লেচার ৪৩, পাওয়েল ৪৩, রাসেল ১৭, মুস্তাফিজ ৫০/৩, রুবেল ৩৫/১, সাকিব ১৯/২, অপু ২৮/৩।

ফলাফল: বাংলাদেশ ১২ রানে জয়ী। সিরিজে ১-১ এ সমতা।

ম্যাচসেরা: তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ)।

শিহাব আহসান খান

Read Previous

সাকিব-তামিমের ব্যাটে স্কোরবোর্ডে বড় রান

Read Next

জয়ের মন্ত্র ব্যাখ্যা অধিনায়ক সাকিবের

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।